চুয়াডাঙ্গা রবিবার , ২০ মার্চ ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার ফের হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কা!

সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
মার্চ ২০, ২০২২ ৯:৪২ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

সমীকরণ প্রতিবেদন:
সব সম্ভাবনা জাগিয়েও চালু করা সম্ভব হয়নি মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। কয়েকটি শর্ত ও পাল্টা শর্তের বেড়াজালে আবারও ঝুলে গেছে মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানো। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ সব তুচ্ছ শর্ত নিয়ে এত দর কষাকষি না করে যে কোন মূল্যে শ্রমবাজার চালু করা উচিত ঢাকার। নইলে আাবারও শ্রমবাজার হাতছাড়া হয়ে যাবার আশঙ্কা রয়েছে। দু’দেশের সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা ও কুয়ালালামপুরে সক্রিয় একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটের অদৃশ্য কারসাজির দরুন এখনও চালু করা যাচ্চে না শ্রমবাজার। অথচ গত ডিসেম্বরের শেষে ঢাকায় শ্রমমন্ত্রী ইমরান আহমেদ ঘোষণা দিয়েছিলেন, যে কোন মূল্যে জানুয়ারি মাসেই আনুষ্ঠানিকভাবে শ্রমিক পাঠানোর সব বন্দোবস্ত করা হবে। তার ঘোষণায় শ্রমবাজারে আশার আলো দেখা দিলেও গত তিন মাসেও সেটা চালু করা সম্ভব হয়নি। এখন কবে নাগাদ শ্রমবাজার চালু করা হবে সে সম্পর্কে ধারণাও দিতে পারছেন না তিনি। তবে দু’দেশে সক্রিয় জনশক্তি রফতানিকারক ও নীতি নির্ধারকদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, মূলত তিন ইস্যুতে ঝুলে আছে দেশটিতে শ্রমিক পাঠানোর উদ্যোগ। এর মধ্যে দুুটো ইস্যু সামনে আনা হয়েছে ঢাকা থেকে।

জানতে চাইলে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. আহমেদ মুনিরুস সালেহীন বলেন, জয়েন্ট ওয়ার্কিং মিটিংয়ের জন্য আমরা চিঠি দিয়েছি। এখনও কোন জবাব পাইনি। মূলত ওই বৈঠকেই কিছু প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হবে। তারপরই হয়ে যাবে। আমরা আশা করছি, খুব শীঘ্রই বৈঠকটা করতে পারব। এ ছাড়া একই মন্ত্রণালয়ের অপর এক কর্মকর্তা জানান, শর্তগুলো নিয়ে পরবর্তী ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকেই একটা সমঝোতা বা সমাধান হয়ে যাবে। কিন্তু এখন পরিস্থিতি দেখে আঁচ করা যাচ্ছে মালয়েশিয়ার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিবেশ এখন অস্থির। ওই দেশের সরকারই এখন এ ইস্যুতে এত আগ্রহী নয়। এ ছাড়া করোনা মহামারীর বিষয়টিও একটা কারণ হয়ে আছে। জানা গেছে, সর্বশেষ বৈঠকের পর বাংলাদেশের একটি আপত্তি ও একটি প্রস্তাবই বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে, যার সমাধান করতে খুব শীঘ্রই যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক ডাকার অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ। ১৮ ফেব্রুয়ারি মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের মাধ্যমে দেশটির পররাষ্ট্র ও মানসম্পদমন্ত্রী বরাবর চিঠি দেয় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। ওই চিঠিতে-রিক্রুটিং এজেন্সির সংখ্যা নিয়ে মালয়েশিয়া যে প্রস্তাব দিয়েছিল, তা সমঝোতা স্মারকের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয় বলে উল্লেখ করা হয়। দ্বিতীয়ত, বিদেশী কর্মী নিয়োগে মালয়েশিয়া সরকারের কেন্দ্রীয় অনলাইন পদ্ধতির সঙ্গে বাংলাদেশের অনলাইন পদ্ধতি যুক্ত করার প্রস্তাব দেয়া হয়। আর এই দুটি ইস্যুর সমাধানে দ্রুত যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের একটি বৈঠকের জন্য মালয়েশিয়াকে অনুরোধ জানিয়েছে ঢাকা।

এ বিষয়ে সর্বশেষ মঙ্গলবার পর্যন্ত খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকা থেকে পাঠানো চিঠির জবাব গত তিন সপ্তাহেও দেয়নি কুয়ালালামপুর। যদিও ১৪ জানুয়ারি মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী এম সারাভানান বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইমরান আহমদকে পাঠানো এক চিঠিতে মালয়েশিয়া প্রস্তাব দেয়, বাংলাদেশের ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সির সঙ্গে আরও ২৫০টি রিক্রুটিং এজেন্সি সহযোগী হিসেবে কর্মী পাঠানোর সুযোগ দেয়ার। এ প্রস্তুাব দুটোর ওপর মালয়েশিয়ার মনোভাব এখন পর্যন্ত জানা যায়নি। জানা গেছে, ওই চিঠিতে আপত্তির পাশাপাশি সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয় ডিজিটাল পদ্ধতিতে রিক্রুটিং এজেন্সি বাছাইয়ের প্রস্তাব দেন ইমরান আহমদ। সেই চিঠির জবাবে মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী কিছু কারণ ও ব্যাখ্যাসহ আরেকটি চিঠি দেন প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রীকে। কিন্তু ওই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হতে পারেনি বাংলাদেশ। এতে নিজেদের কিছু প্রস্তাবনা দিয়ে হাইকমিশনারের মাধ্যমে আবারও চিঠি দেয়া হয় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে। কিন্তু মঙ্গলবার পর্যন্ত বাংলাদেশের এই প্রস্তাবের জবাব দেয়নি কুয়ালালাপুর।

এদিকে, বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নেয়ার বিষয়টি ঝুলে যাওয়ায় বিকল্প বাজারের সন্ধানে নেমেছে মালয়েশিয়া। এরই মধ্যে নেপাল, ইন্দোনেশিয়া ও ভারত থেকে কর্মী নিতে বেশ আগ্রহ দেখিয়েছে দেশটি। ভারতের সঙ্গে প্ল্যানটেশন খাতে কর্মী নেয়ার সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের সব আয়োজন সম্পন্ন করেছে মালয়েশিয়া। এখন শুধু আনুষ্ঠানিকতার বাকি রয়েছে।
এ বিষয়ে মালয়েশিয়া প্রবাসী সাংবাদিক নাজনীন সুলতানা জানান, দু’দেশের মধ্যে যে তিনটি ইস্যু নিয়ে দর কষাকষি হচ্ছে সেগুলো খুব একটা কঠিন নয়। মালয়েশিয়া যদি ঢাকার দাবি ও প্রস্তাবমতো ২৫টি এজেন্সির পরিবর্তে ২৫০টি রাজি নাও হয়, তাহলেও তা মানা উচিত। যে কোন মূল্যে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার চালু করাটাই এক বড় চ্যালেঞ্জ। নইলে আবারও হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে বিপুল সম্ভাবনার এই বাজার।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।