চুয়াডাঙ্গা বুধবার , ১৫ ডিসেম্বর ২০২১
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুলছে জানুয়ারিতে!

যেতে খরচ হতে পারে দেড় লাখ টাকা, সর্বনিম্ন বেতন ২৪ হাজার টাকা, সমঝোতা স্মারক সই রোববার
সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
ডিসেম্বর ১৫, ২০২১ ৭:৩১ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

তিন বছরের বেশি সময় ধরে বন্ধ থাকা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য খুলতে যাচ্ছে। বাংলাদেশের সঙ্গে আগামী ১৯ ডিসেম্বর মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সইয়ের পর জানুয়ারি থেকেই কর্মী নিয়োগ শুরু হতে পারে। সরকারিভাবে (জি-টু-জি পদ্ধতি) কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের ১০ প্রতিষ্ঠানের সিন্ডিকেট দুর্নীতি করার অভিযোগে ২০১৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে দেশটিতে কর্মী নিয়োগ স্থগিত করা হয়।

জানা গেছে, সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য কমাতে এবারের সমঝোতা স্মারকে বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো : জি-টু-জি প্লাস পদ্ধতির উল্লেখ থাকছে না, যুক্ত হচ্ছে মালয়েশিয়ার রিক্রুটিং এজেন্সি, থাকছে কর্মীদের বাধ্যতামূলক বিমা। কর্মীদের দেশে ফেরার ব্যবস্থা ও খরচ বহন করবে নিয়োগদাতা। এতে অবৈধ হওয়ার আশঙ্কা কমে যাবে। চুক্তির মেয়াদে কর্মীদের দায়িত্ব নিতে হবে মালয়েশিয়ার রিক্রুটিং এজেন্সিকেও। এতে এজেন্সির প্রতারণা ও হয়রানি কমবে। কর্মীদের বয়স নির্ধারণ করা হয়েছে ১৮ থেকে ৪৫ বছর পর্যন্ত। এতে দীর্ঘ সময় মালয়েশিয়ায় কাজের সুযোগ পাওয়া যাবে।

গতকাল মঙ্গলবার প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ জানিয়েছেন, বাংলাদেশি কর্মীদের মালয়েশিয়ায় যেতে অভিবাসন ব্যয় বা খরচ যাতে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার মধ্যে সীমিত থাকে, সেই প্রচেষ্টা নেওয়া হবে । এবার বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার মজুরিকাঠামো প্রযোজ্য হবে। তাই বেতন ১ হাজার ২০০ রিঙ্গিতের কম হবে না, যা বাংলাদেশের ২৪ হাজার ৪২০ টাকার সমপরিমাণ। মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগে সমঝোতা স্মারক সইয়ের জন্য ১৮ ডিসেম্বর রাতে মন্ত্রীর কুয়ালালামপুরে যাওয়ার কথা রয়েছে।

একচেটিয়া অগ্রাধিকার পাবেন বাংলাদেশি কর্মীরা এদিকে মালয়েশিয়ার গণমাধ্যম ‘ফ্রি মালয়েশিয়া টুডে’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এবার একচেটিয়া অগ্রাধিকার পাচ্ছেন বাংলাদেশি কর্মীরা। সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষরের পরই বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ কার্যকর করা হবে বলে জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী দাতুক সেরি সারাভানান। বৃক্ষরোপণ, বাগান, কৃষি, উৎপাদন, পরিষেবা, খনি ও খনন, নির্মাণ ও গৃহকর্মী নিয়োগের জন্য শ্রমবাজার উন্মুক্ত হবে বলে জানান মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী।

জানা গেছে, গত ১০ ডিসেম্বর রাতে দেশটির মানবসম্পদমন্ত্রী আনুষ্ঠানিক এক চিঠিতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদকে আমন্ত্রণ জানান। এতে চলতি মাসেই সমঝোতা স্মারকে সইয়ের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়। এর আগে ১০ ডিসেম্বর সকালে বাংলাদেশের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক অনুমোদন দেয় দেশটির মন্ত্রিসভা। একই সঙ্গে ২০১৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের ওপর দেওয়া নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়।

আগে মালয়েশিয়ায় এফডব্লিউসিএমএস পদ্ধতিতে কর্মী নিয়োগ করা হতো। এর নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানগুলোর চাহিদা অনুযায়ী কর্মী পাঠাত বাংলাদেশের রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো। মন্ত্রী ইমরান আহমদ এ প্রসঙ্গে বলেন, ভবিষ্যতে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোই কর্মী নিয়োগের চাহিদাপত্র আনবে। সরকারের কোনো হস্তক্ষেপ থাকবে না। কর্মীরা যেন প্রতারিত বা নির্যাতিত না হন, তা নিশ্চিত করতে সরকার নরজদারি করবে।

প্রসঙ্গত, বিএমইটির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৫ ও ২০১৬ সালে দেশটিতে ৭০ হাজার বাংলাদেশি কর্মী যান। বহুল আলোচিত জি-টু-জি প্লাস চুক্তি সইয়ের পর ২০১৭ ও ২০১৮ সালে প্রায় পৌনে ১ লাখ কর্মীর কর্মসংস্থান হয় দেশটিতে। মালয়েশিয়া সরকারের পছন্দ করা বাংলাদেশের ১০টি রিক্রুটিং এজেন্সি এই কর্মীদের পাঠায়। এই ১০ এজেন্সিই সিন্ডিকেট নামে পরিচিতি পেয়েছিল।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।