চুয়াডাঙ্গা শনিবার , ৩০ জুলাই ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মালয়েশিয়াগামী কর্মীর নামে গণহারে স্বাস্থ্য পরীক্ষা অনুমোদন রয়েছে ৮টির

সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
জুলাই ৩০, ২০২২ ৮:০৩ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

সমীকরণ প্রতিবেদন: মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের পাসপোর্ট আটকে রেখে রাজধানীজুড়ে ‘গণহারে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর জন্য চক্রটি বিদেশগামী প্রত্যেক কর্মীর কাছ থেকে আদায় করছে সাত হাজার টাকা। এভাবে শুধু মেডিক্যাল করিয়ে তারা লাখো বিদেশগামীর কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা। এখনই সংশ্লিষ্ট প্রশাসন থেকে এই চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে স্বাস্থ্য পরীক্ষার নামে আরো বহু মানুষ প্রতারিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন মালয়েশিয়ার ব্যবসার সাথে সম্পৃত্তরা। এ দিকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় থেকে কর্মীর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য প্রথম ধাপের যে ৬৮টি মেডিক্যাল সেন্টারের নাম প্রকাশ করা হয়েছে তার মধ্যে মালয়েশিয়া সরকারের তালিকাভুক্ত ৩২টি মেডিক্যাল সেন্টারের দেয়া তালিকার মধ্যে রয়েছে মাত্র ৮টি মেডিক্যাল সেন্টারের নাম। এখন বাকি মেডিক্যাল সেন্টারগুলো থেকে যদি কোনো শ্রমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করায় তাহলে সেগুলোর গ্রহণযোগ্যতা কতটুকু রয়েছে তা নিয়ে সন্দেহের মধ্যে রয়েছেন অনেকে।

উল্লেখ্য, অনিয়ম, দুর্নীতি আর সিন্ডিকেশনের কারণে মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ বাংলাদেশ সরকারের কাছে এক চিঠি দিয়ে কর্মী না নেয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানান। চিঠি চালাচালির পর কূটনৈতিক চেষ্টায় আবারো দুই দেশের মধ্যে নতুন করে এমওইউ চুক্তি হয়। এরপর শ্রমবাজারের জট খুলতে শুরু করে। ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয় থেকে ৭টি রিক্রুটিং এজেন্সির নামে মালয়েশিয়াগামী হাজারো শ্রমিকের নামে নিয়োগ অনুমতি প্রদান করা হয়েছে। আর প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের শর্ত অনুযায়ী এসব কর্মীকে বিএমইটির ডেটা ব্যাংক থেকে বাছাই করতে হবে। তবে এর বিপরীতে প্রায় এক লাখের ওপর কর্মীকে ইতোমধ্যে নানাভাবে বিভিন্ন মেডিক্যাল সেন্টারে নিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো হয়েছে বলে রিক্রুটিং এজেন্সির মালিক ও ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল গুলশান থেকে স্বপন নামে একজন জনশক্তি ব্যবসায়ী জানান, মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানোর আগে কর্মীর নামে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে রাজধানীজুড়ে প্রতারক চক্র গড়ে উঠেছে। বিশেষ করে ফকিরাপুল, বিজয়নগর, মতিঝিল, গুলশান বনানী এলাকার চিহ্নিত রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকদের দেয়া স্লিপ নিয়েই ওই চক্রটি যে যার যার মতো মেডিক্যাল সেন্টার থেকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাচ্ছে। যদিও বেশির ভাগ মেডিক্যাল সেন্টারে মালয়েশিয়াগামীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর কোনো অনুমোদন তারা এখনো পাননি বলে শুনেছি।

গতকাল জনশক্তি ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ত একজন পরিচ্ছন্ন ইমেজের ব্যবসায়ী নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, মালয়েশিয়া সরকার ঢাকায় প্রতিনিধি পাঠিয়ে মেডিক্যাল সেন্টার যাচাই-বাছাই করে ৩২ মেডিক্যাল সেন্টারকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য অনুমোদন দিয়েছে। কিন্তু আমাদের প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে যে ৬৮টি মেডিক্যাল সেন্টারের নাম প্রকাশ করা হয়েছে সেখানে মালয়েশিয়া সরকারের দেয়া ৩২টির মধ্যে শুধু ৮টির নাম রয়েছে। বাকি নাম নেই। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, লোক নেবে মালয়েশিয়া। অথচ তাদের বাছাই করা মেডিক্যাল সেন্টারের বেশির ভাগেরই নাম তালিকায় নেই। এখন কিভাবে মালয়েশিয়ায় লোক যাবে তা তো আমি আতঙ্কের মধ্যে আছি। কিছুই বুঝতে পারছি না। ইতোমধ্যে ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সি ও তাদের মনোনীত বহু রিক্রুটিং এজেন্সি যে যার মতো মেডিক্যাল করাচ্ছে। এখন এসব স্বাস্থ্য পরীক্ষার রিপোর্টকে মালয়েশিয়া সরকার কতটুকু বৈধতা বা গুরুত্ব দেবে তা নিয়ে আমি সন্দিহান। এসব কর্মীকে আবারো পরে মেডিক্যাল করানো হবে বলে আমার মনে হচ্ছে। গতকাল বনানীর একজন অভিবাসন ব্যবসায়ী বলেন, মালয়েশিয়ায় লোক পাঠানোর টার্গেট করে কিছু প্রতারক পাসপোর্ট কালেকশনে নেমেছে। তারা সারা দেশ থেকে কর্মীর পাসপোর্ট নিয়ে তাদের অফিসে জমা করছে। কর্মীর পাসপোর্ট আটকানোর নামে তারা বিদেশগামীদের টেস্ট মেডিক্যাল করাচ্ছে। এর জন্য একেক জনের কাছ থেকে তারা সাত হাজার টাকা করে আদায় করছে। এসব কর্মীকে পরে আবারো মেডিক্যাল পরীক্ষা করানো হতে পারে বলে আশঙ্কা করছি। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমার জানা মতে, এবার কথিত সিন্ডিকেটের নামে যে ২৫টি লাইসেন্স মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছে তাদের মধ্যে দু’টি এজেন্সি মালিক কমপক্ষে ২-৩ হাজার কর্মীর মেডিক্যাল সম্পন্ন করিয়েছে বলে জনশ্রুতি রয়েছে। অথচ মালয়েশিয়া সরকারের অনুমোদিত ৮টির মধ্যে ওই দু’টি মেডিক্যাল সেন্টারের নাম নেই। অপর এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এমনিতেই মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে অনেক নাটক চলছে, নতুন করে মেডিক্যাল করানো নিয়ে যে প্রতারণা শুরু হয়েছে সেটি অবশ্যই বন্ধ হওয়া উচিত। এবং যারা এর সাথে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। বলাবাহুল্য গত সপ্তাহে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে যে ৬৮টি মেডিক্যাল সেন্টারের নাম পত্রিকার মাধ্যমে ঘোষণা করা হয় এসব মেডিক্যাল সেন্টারের মালিকরা কাতার, ওমান সৌদি আরবসহ সব দেশেই কর্মী পাঠানোর জন্য মেডিক্যাল সেন্টার থেকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে পারবেন বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ সচিব ড. আহমদ মুনিরুছ সালেহিন। এই আটটি মেডিক্যাল সেন্টার হচ্ছে- হিউম্যান ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড মেডিক্যাল সেন্টার, পারফেক্ট মেডিকেয়ার লিমিটেড, রেইনবো হার্টস মেডিক্যাল সেন্টার, এপেক্স ডায়াগনস্টিক সার্ভিস, এসকেএন হেলথ সার্ভিস, রাজধানী ডিজিটাল, আল হামাদ মেডিক্যাল অ্যান্ড গুলশান মেডিকেয়ার লিমিটেড।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।