মামলার প্রধান আসামি আরিফুজ্জামান পিলু গ্রেপ্তার

47

গড়াইটুপি ইউপি চেয়ারম্যানের বাড়িতে হামলার ঘটনায় সংবাদ সম্মেলন
দর্শনা অফিস:
চুয়াডাঙ্গা সদরের গড়াইটুপি ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুর রহমান রাজুর বাড়িতে হামলার ঘটনা মামলার প্রধান আসামি আরিফুজ্জামান পিলুকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার ভোর চারটার দিকে চুয়াডাঙ্গা পৌর শহরের বাগানপাড়া থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। গতকালই তাঁকে আদালতে সোপর্দ করেছে পুলিশ। তবে প্রধান আসামি গ্রেপ্তার হলেও মামলার বাকি আসামিরা দিয়েছেন গা-ঢাকা। অপর দিকে, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে সাংবাদিক সম্মেলন ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট রেজ্যুলেশন করে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার দুদিন অতিবাহিত হওয়ার পরেও এলাকাজুড়ে এখনও বিরাজ করছে চাপা উত্তেজনা।
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার তিতুদহ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা সাইদুর রহমান সাবদারের ছেলে নবগঠিত গড়াইটুপি ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুর রহমান রাজুর বাড়ি এবং পরিষদের অস্থায়ী কার্যালয় গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায় স্থানীয় একটি সংঘবদ্ধ দুষ্কৃতকারীরা। এ ঘটনায় চেয়ারম্যানের ভাই সিদ্দিকুর রহমান নজু রাতেই বাদী হয়ে খাড়াগোদা গ্রামের তোজাম্মেল হক চেনার ছেলে আরিফুজ্জামান পিলু (৩২), রাতুল হাসান (৩৫), বিল্লাল হোসেনের ছেলে বিপ্লব হোসেন (২০), আনিস উদ্দিনের ছেলে মানোয়ার হোসেন (২৫), গোলজার হোসেনের ছেলে রুবেল হোসেন (২৫) ও রবিউল ইসলামের ছেলে মাহাবুলের (২৬) নাম উল্লেখপূর্বক অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনকে আসামি করে রাতেই দর্শনা থানায় মামলা করেন।
মামলা দায়েরের পর দর্শনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহবুবুর রহমান কাজলের নির্দেশ তিতুদহ ক্যাম্প পুলিশের ইনচার্জ এসআই শেখ রকিবুল ইসলাম ফোর্স নিয়ে ভোর চারটার দিকে চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার বাগানপাড়ায় অভিযান চালায়। অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারনামীয় ১ নম্বর আসামি আরিফুজ্জামান পিলুকে গ্রেপ্তার করেন। পিলু গড়াইটুপি ইউনিয়ন আওয়ামী যুবলীগের সাংগাঠনিক সম্পাদক বলে ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক চাঁন জানান। গ্রেপ্তারকৃত পিলুকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে পুলিশ জানায়।
অপর দিকে, গতকাল শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে গড়াইটুপি ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় থেকে পরিষদের পক্ষে অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলে ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুর রহমান রাজু সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে লিখিত বক্তব্য তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, ‘পিলু ও হাসানের নিকট এলাকার সম্মানিত ব্যক্তিরা বিভিন্ন সময় লাঞ্ছিত হয়েছেন। একের পর অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করে আসলেও তাদের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না। তাদের পিতা একজন সামান্য মুরগি ব্যবসায়ী হলেও তারা দুই ভাই হ্যাকার গ্রুপের সদস্য। তাদের বাবা সাহায্যের জন্য পরিষদের নিকট ধন্যা দিলেও ছেলেরা কালো রঙের প্রাইভেটকারে ঘুরে বেড়ায়। গভীর রাত রঙ-বেরঙের গাড়ি এসে ভিড় জমাই। কারো সামান্য ফাঁক-ফোকড় খুঁজে বের করে মারধর ও হুমকি-ধামকি দিয়ে থাকে এবং অর্থ হাতিয়ে নেয়। তাদের এ কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে প্রশাসনের অনেকেই জানে। তারই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার আমার বাড়ি ও পরিষদ কার্যালয়ে হামলা চালায় এবং ভাঙচুর করে। আমার সাথে তাঁদের ব্যক্তিগত কোনো শত্রুতা নেই। আমাকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে অর্থহাতিয়ে নেওয়ার পায়তারা চালাচ্ছিল তারা।’
তিনি আরও বলেন, প্রশাসনের ভূমিকা পর্যবেক্ষণ করে বাকি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত বীর মুক্তিযােদ্ধা ডাক্তার নূরুল ইসলাম বলেন, মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে হামলা মানে মুক্তিযোদ্ধার চেতনার ওপর হামলা। জঘন্যতম এ হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। সেই সাথে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারেরও দাবি জানাচ্ছি।