মাপে কম দেয়া জঘন্য পাপ

428

ধর্ম ডেস্ক: মাপে কম দেয়া অত্যন্ত জঘন্য পাপ। এর মাধ্যমে বান্দার হক নষ্ট করা হয়। আর বান্দার হক নষ্ট করলে আল্লাহও ক্ষমা করেন না। ইসলামে মাপে কম দেয়াকে অত্যন্ত নিন্দনীয় অপরাধ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। আরবি ভাষায় এটাকে বলে ‘তাতফিফ’। আর তা শুধু ব্যবসা-বাণিজ্য ও লেনদেনে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এর অর্থ আরো ব্যাপক। যে কোনো ব্যাপারে প্রাপককে তার প্রাপ্য থেকে কম দেয়া তাতফিফের অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ কোরানে স্পষ্টভাবে ঘোষণা দিয়েছেন, যারা মাপে কম দেবে, তাদের জন্য জাহান্নাম। কোরানে হজরত শুয়াইব (আ.)-এর উম্মতের সমালোচনা করা হয়েছে, তারা মাপে কম দিত বলে বদনাম আছে। শুয়াইব (আ.) তাদের এই পাপ থেকে বেঁচে থাকার জন্য নসিহত করলেও কেউ তাতে কর্ণপাত করেনি। পরে আল্লাহর শাস্তি তাদের গ্রাস করে। ওজনে কম দিয়ে যে সম্পদ অর্জন করা হয়, এটাকে আল্লাহ ‘আগুনে স্ফুলিঙ্গ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। ওজনে কম দেয়ার পাপ শুধু লেনদেন বা পরিমাপেই নয়; যারা নিজেদের নামাজ, জাকাত ও রোজা ইত্যাদিতে কম করে তথা ত্রুটি করে, তারা এই শাস্তির আওতাভুক্ত হবে। কারো সঙ্গে ঘণ্টা হিসেবে চুক্তিবদ্ধ হলে তা থেকে কম করাও একই ধরনের অপরাধ। চাকরিজীবীদের জন্য নির্ধারিত সময়ের আগে অফিস থেকে বেরিয়ে যাওয়া এবং কাজে ফাঁকি দেয়াও তাতফিফের গোনাহের অন্তর্ভুক্ত। হাশরের দিন প্রতিটি মুহূর্তের হিসাব হবে। এক মুহূর্তের খেয়ানতও সেদিন ধরা হবে। সবচেয়ে বড় হলো আল্লাহর হক নষ্ট করা। আল্লাহ যে বিধিনিষেধ দিয়েছেন, তাতে ত্রুটি করাও পরিমাপে কম দেয়ার গোনাহের পর্যায়ে। বিচার দিনে প্রতিটি কাজ-কর্মের হিসাব নেয়া হবে। বান্দার বা আল্লাহর কোনো হক নষ্ট করে থাকলে সেদিন পুঙ্খানুঙ্খ হিসাব করে দিতে হবে। পার্থিব সামান্য স্বার্থে বা অবহেলায় অন্যের হক নষ্ট করার দায় ভয়াবহ। রাসুল (সা.) সতর্ক করেছেন, কেউ যেন পরিমাপে কম না দেয়; প্রয়োজনে নিজে কম নিয়ে অন্যকে বেশি দেয়ার প্রতি উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে ইসলামে। নিজে ঠকে হলেও অন্যায় ও ধোঁকার কাজ থেকে বেঁচে থাকতে হবে। কোথাও কারো হক নষ্ট হয়ে গেছে মনে করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে খোঁজে যথাযথ হক আদায় করাই ইসলামের শিক্ষা।