মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া; কেন্দ্রে তাৎক্ষণিক নিবন্ধন বন্ধ

30

পঞ্চম দিনে চুয়াডাঙ্গায় ১ হাজার ৫৭ জনসহ সারা দেশে টিকা নিলেন দেড় লাখের বেশি মানুষ

টিকা নিয়ে উৎসাহিত করলেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান খোকনসহ সাংবাদিক নেতারা
সমীকরণ প্রতিবেদন:
টিকাদান কর্মসূচির পঞ্চম দিনে সারা দেশে টিকা নিয়েছেন দুই লাখ ৪ হাজার ৫৪০ জন। এর মধ্যে পুরুষ এক লাখ ৪০ হাজার ১৫২ জন পুরুষ ও ৬৪ হাজার ৩৮৮ জন নারী। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক এমআইএস ও লাইন ডিরেক্টর এইচআইএস অ্যান্ড ই-হেলথ অধ্যাপক ডা. মিজানুর রহমান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গতকাল বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানানো হয়। এর আগে চতুর্থ দিন বুধবার ১ লাখ ৫৮ হাজার ৪৫১ জন টিকা নিয়েছেন। সবমিলে এ পর্যন্ত পাঁচ দিনে মোট টিকা নিয়েছেন ৫ লাখ ৪২ হাজার ৩০৯ জন। এদের মধ্যে পুরুষ ৩ লাখ ৮৬ হাজার ৫৭৮ এবং নারী ১ লাখ ৫৫ হাজার ৭৩১। গতকাল বৃহস্পতিবার টিকা গ্রহণ করা ২ লাখ চার হাজার ৫৪০ জনের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৫১ হাজার ১৫৯ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৯ হাজার ৩৩৭ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৫২ হাজার ৮৬৯ জন, রাজশাহীতে ২৩ হাজার ১৮০ জন, রংপুর বিভাগে ১৯ হাজার ৩৮০ জন, খুলনা বিভাগে ২৩ হাজার ৪৭৯ জন, বরিশাল বিভাগে ৯ হাজার ৩৯৭ জন এবং সিলেট বিভাগে ১৫ হাজার ৭৩৯ জন। গত রোববার থেকে সারা দেশে টিকাদান শুরু হয়েছে। প্রতিদিন সকাল ৮টা বেলা আড়াইটা পর্যন্ত চলে টিকাদান। ঢাকাসহ সারা দেশে ১০১৫টি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কেন্দ্রে টিকা দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, করোনাভাইরাসের টিকা নিতে টিকাদানকেন্দ্রে গিয়ে তাৎক্ষণিক নিবন্ধনের সুবিধা আপাতত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, নিবন্ধন না করেও অনেকে টিকা নিতে আসায় বিভিন্ন কেন্দ্রে অতিরিক্ত ভিড় তৈরি হচ্ছে। জাহিদ মালেক জানান, এ পর্যন্ত ১০ লাখের বেশি মানুষ টিকা নেওয়ার জন্য নিবন্ধন করেছেন। তিন লাখের বেশি মানুষ ইতিমধ্যে টিকা নিয়েছেন। কিন্তু টিকাদান কার্যক্রম ঠিকভাবে চালাতেই আপাতত ওই সুবিধা বন্ধের সিদ্ধান্ত তাঁরা নিয়েছেন। এখন থেকে যাঁরা নিবন্ধন করে কেন্দ্রে যাবেন, শুধু তাঁদের টিকা দেওয়া হবে উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে যদি টিকাদানকেন্দ্রে নিবন্ধনের প্রয়োজন পড়ে, তখন আবার জানানো হবে। টিকা নিয়ে মানুষের দ্বিধা কেটে গেছে মন্তব্য করে জাহিদ মালেক বলেন, যেসব জায়গায় আগে ভিড় কম ছিল। এখন সেখানে অনেক ভিড়। অনেক লোক যাচ্ছেন, মানুষের আত্মবিশ্বাস বাড়ছে। এখন সবাই টিকার ওপর আস্থা নিয়ে তা নিতে যাচ্ছেন।
চুয়াডাঙ্গা:
করোনার টিকা নিতে চুয়াডাঙ্গার মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। দেখা দিয়েছে আগ্রহ। মানুষের মধ্যে যে ভয় ছিল, তা অনেকটাই কেটে গেছে। প্রতিদিন ভয়ভীতি ও গুজব ঠেলে টিকা নিতে কেন্দ্রগুলোয় ভিড় করছেন সাধারণ মানুষ। কেন্দ্রগুলোতে টিকা গ্রহীতাদের উপস্থিতি বেড়েছে। অনেক প্রবীণ স্বজনদের সঙ্গে এসে টিকা নিয়ে বলেছেন, প্রাণঘাতী এই ভাইরাস থেকে এখন নিরাপদ বোধ করছেন তারা। পঞ্চম দিন বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত টিকা দেওয়া হয়। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের টিকাদান কেন্দ্র ঘুরে উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্যদিয়েই মানুষকে টিকা নিতে দেখা গেছে। গতকাল দুপুরে টিকা নিয়েছেন, চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ সামসুল আবেদিন খোকন, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির শিল্প-বানিজ্য বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য, এফবিসিসিআই’র সহসভাপতি, বাংলাদেশ জুয়েলারী সমিতির সাধারণ সম্পাদক, ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দীলিপ কুমার আগরওয়ালা, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চুয়াডাঙ্গার সহকারী পরিচালক সজল আহম্মেদ, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি সরদার আল-আমিন, সাধারণ সম্পাদক রাজীব হোসেন কচিসহ বেশ কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী। জেলা স্বাস্থ্যবিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল চুয়াডাঙ্গায় মোট ১ হাজার ৫৭ জন কোভিড-১৯ প্রতিরোধী টিকা নিয়েছেন। এর মধ্যে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার ৪শ ৬০ জন, আলমডাঙ্গা উপজেলায় ১শ ৬৮ জন, দামুডহুদা উপজেলায় ২শ ১০ জন ও জীবননগর উপজেলায় ২শ ১৯ জন টিকা নিয়েছেন। টিকা নেওয়ার সময় স্বেচ্ছাসেবকরা শৃঙ্খলা বজায় রাখছে। ভ্যাকসিন নেওয়ার পর বিশ্রামের ব্যবস্থা (পর্যবেক্ষণ) করা হয়েছে কেন্দ্রগুলোতে। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের নতুন ভবনের দ্বিতীয় তলায় টিকাদান কেন্দ্র করা হয়েছে। এই টিকাদান কেন্দ্রে গিয়ে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষকে দেখা গেছে। নিবন্ধনকারীর সংখ্যাও বেড়েছে আগের চেয়ে অনেক। কেন্দ্রের সামনে অনলাইনে নিবন্ধন চলছে। যারা অনলাইনে নিবন্ধন করতে পারছে না, তাদের টিকাদান কেন্দ্র থেকে নিবন্ধন কাজে সহায়তা করা হচ্ছে।