চুয়াডাঙ্গা শনিবার , ২১ মার্চ ২০২০
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মানছেন না ইউপি নির্বাচনের প্রার্থীরা, আতঙ্কে এলাকাবাসী

সমীকরণ প্রতিবেদন
মার্চ ২১, ২০২০ ১২:২৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

সভা-সমাবেশ, মিটিং-মিছিল, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ রাখার নির্দেশনা থাকলেও
তৌহিদ তুহিন:
করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে জেলায় সব প্রকার সভা-সমাবেশ, মিটিং-মিছিল, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ রাখার নির্দেশনা প্রদান করা হলেও দামুড়হুদা উপজেলার নাটুদাহ ও নতিপোতা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সভা-সমাবেশ করে চলেছেন সংশ্লিষ্ট ইউপি নির্বাচনের প্রার্থীরা। এদিকে, দামুড়হুদা উপজেলার দুটি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে পেছানোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন ইউনিয়ন পরিষদের সচেতন ব্যক্তিরা। তাঁরা বলছেন, ‘সারা বিশ্বে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে। বাংলাদেশেও ভাইরাসের প্রভাব দেখা যাচ্ছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নির্দেশনা জারি করা হয়েছে সব প্রকার গণসমাবেশ বন্ধ করতে। আমরা এই ভাইরাসকে নিয়ে আতঙ্কে আছি। তাই জনগণের স্বাস্থ্যের বিষয়টি মাথায় রেখে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।’
সরেজমিনে দুটি নির্বাচনী এলাকা ঘুরে দেখা যায়, এলাকায় গণসংযোগকালে নির্বাচনী প্রার্থীরা জনাসমাগম করে হাতে হাত, কোলাকুলি করে কুশল বিনিময় করে ভোটারদের কাছে টানার চেষ্টা করছেন। জনসমাগমকালে প্রার্থীদের কাছে নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে জানতে চাইলে এক চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে আমি এখনও জানতে পারিনি। আর সভা-সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও এটা আমি একা করছি না, সব প্রার্থীরা এটা ভঙ্গ করছেন। তাহলে এটির ব্যবস্থা প্রশাসনকে সমন্বিতভাবে নিতে হবে।’
নিষেধাজ্ঞা অমান্য করার বিষয়ে দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মুনিম লিংকন বলেন, ‘জেলায় সকল প্রকার রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ বন্ধ করা হয়েছে। এর ভেতর কেউ যদি সভা-সমাবেশ করে, আমরা এটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।’ তিনি আরও বলেন, ‘এখন পর্যন্ত কোনো নির্বাচনী প্রচারনণয় সমাবেশ করার কথা আমরা জানতে পারিনি।’
এদিকে, নাটুদাহ ইউনিয়ন পরিষদের তরুণ ভোটার শামিম হোসেন ভোট পেছানোর দাবি রেখে বলেন, ‘করোনাভাইরাস নিয়ে আমাদের দুটি ইউনিয়নে কোনো সচেতনতামূলক বার্তা নেই। এখানে কেউ করোনাভাইরাস আক্রান্ত আছে কি না, সেটাও আমরা জানতে পারছি না। আর করোনা আক্রান্ত কোনো ব্যক্তি আমাদের এলাকায় ঢুকলে নিমিষেই ছড়িয়ে পড়বে। তাছাড়া জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্যবিভাগের পক্ষ থেকে যে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে, তা নির্বাচনী প্রচারণায় কেউ মানছেন না। এজন্য সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের কাছে আমার দাবি থাকবে, সচেতন হয়ে সচেতনতা রক্ষা করতে নির্বাচনটি পেছানো হোক।’
নতিপোতা ইউনিয়ন পরিষদের ভোটার আব্বাস উদ্দীন বলেন, ‘আমাদের দেশে একজন করোনা আক্রান্ত ব্যক্তি মারা গেছে। আমরা সময় থাকতে সচেতন হচ্ছি না। এরমধ্যে আমাদের নির্বাচন সামনে আসছে, যেখানে সবসময় জনসমাগম হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে ভোটাররা তাদের এলাকায় আসছে। এমতাবস্থায় আমরা আতঙ্কে আছি। সে জন্য নির্বাচন কমিশনের দ্রুত এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।’
নাটুদাহ ইউনিয়ন পরিষদের আওতাভুক্ত মেম্বার পদপ্রার্থী কয়েকজন ব্যক্তির সঙ্গে কথা বললে তাঁরা জানান, ‘করোনা এখনও তো আমাদের এলাকায় আসিনি। আমার জানা মতে, দামুড়হুদাতে এমন কোনো আক্রান্ত রোগী এখনও পাওয়া যায়নি। তারপরও সরকার যেটা সিদ্ধান্ত নেবে সেটা আমাদের মেনে নিতে হবে।’
নাম না প্রকাশ করার শর্তে নতিপোতা ইউনিয়ন পরিষদের এক চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী বলেন, ‘যদি ভোটার না আসে, তাহলে সেই নির্বাচনের প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না। জনগন নিয়ে আমাদের রাজনীতি। দেশের মহামারি এ আতঙ্কে নির্বাচন কমিশন যে সিদ্ধান্ত নেবে, সেটা আমি সাদরে মেনে নেব।’[ পাশাপাশি তিনি জনগণকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও সাবধানতা অবলম্বন করতে বলেন।
প্রসঙ্গত, আগামী ২৯ মার্চ রোববার দামুড়হুদা উপজেলার নতিপোতা ও নাটুদাহ ইউনিয়ন পরিষদের এ দুটি নির্বাচন হওয়ার তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। এ নিয়ে প্রার্থীরা প্রতিদিন তাঁদের ভোট টানতে সভা-সমাবেশ, মিটিং মিছিল করে নির্বাচনী প্রচারণা করে চলেছেন।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।