মাদকের বিরুদ্ধে চলবে সাঁড়াশি অভিযান -ডিসি নজরুল ইসলাম

146

চুয়াডাঙ্গার আলডাঙ্গা উপজেলাকে অতিদ্রুত মাদকমুক্ত করতে প্রশাসনিক উদ্যোগ গ্রহণ
নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গার আলডাঙ্গা উপজেলাকে অতিদ্রুত মাদকমুক্ত করতে প্রশাসনিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে জেলার বাকী চারটি উপজেলাকেও মাদকমুক্ত করা হবে। গতকাল রোববার বিকেল চারটায় চুয়াডাঙ্গার একটি উপজেলাকে মাদকমুক্ত ঘোষণা করার লক্ষ্যে জুম ক্লাউড অ্যাপের মাধ্যমে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে প্রথম ধাপে জেলার চার উপজেলার মধ্যে আলমডাঙ্গা উপজেলাকে সর্বপ্রথম মাদকমুক্ত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। আলোচনা সভায় অতীব জরুরিভাবে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নজরুল ইসলাম সরকার। সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘সরকারি নির্দেশনা আছে, অতিদ্রুত দেশের প্রত্যেকটি জেলাকে মাদকমুক্ত করতে হবে। সরকার মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছে আগেই। এখন পরিপূর্ণভাবে দেশকে মাদকমুক্ত করতে উদ্যোগ নিয়েছে। সে লক্ষ্যে বিভাগীয় কমিশনার মহোদয়ের সাথে খুলনা বিভাগের দশ জেলার জেলা প্রশাসকদের সভাও অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেই সভায় প্রাথমিক পর্যায়ে প্রত্যেকটি জেলার একটি করে উপজেলাকে মাদকমুক্ত করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় আজকের সভা।’
এসময় জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার জেলার পুলিশ বিভাগ, বিজিবি, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, গোয়েন্দা বিভাগ, উপজেলা প্রশাসন, সাংবাদিক এবং জনপ্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকতাদের সাথে কোনো উপজেলাকে প্রথম ধাপে মাদকমুক্ত করা হবে, তার মতামত চাইলে তাঁরা এ বিষয়ে মতামত দেন। সভায় ভার্চুয়ালভাবে অধিকাংশই মতামত দেন চুয়াডাঙ্গা একটি সীমান্তবর্তী জেলা। এ জেলায় চুয়াডাঙ্গা সদর, দামুড়হুদা ও জীবননগর উপজেলা সীমান্তবর্তী। এ তিন উপজেলায় পুলিশ বিভাগ এবং গোয়েন্দা বিভাগের তথ্য মোতাবেক মাদকের মামলা এবং প্রবণতা অনেক বেশি। সুতরাং সীমান্তবর্তী হওয়ায় প্রথম পর্যায়ে এই তিনটি উপজেলার যেকেনো একটিকে মাদকমুক্ত করা বেশ কঠিন। তাছাড়া আলমডাঙ্গা উপজেলাতেও মাদকের প্রবণতা ও মামলা খুব একটা কম নয়। তারপরও এটিই একটিমাত্র উপজেলা যেটি সীমান্তঘেষা নয়। তাই প্রথম পর্যায়ে এই উপজেলাটিকেই মাদকমুক্ত ঘোষণা করার লক্ষ্যে মাদকবিরোধী কার্যক্রম করা যেতে পারে।
সভায় সকলের মতামত নিয়ে জেলা প্রশাসক আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. লিটন আলী, আলমডাঙ্গা উপজেলা চেয়ারম্যান আয়ুব হোসেন, আলমডাঙ্গা পৌর মেয়র হাসান কাদির গনুর কাছে আলমডাঙ্গা উপজেলাকে প্রথম পর্যায়ে এ কার্যক্রমের আওতায় আনার মতামত চান। তাঁরা আলমডাঙ্গা উপজেলাকে মাদকমুক্ত করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। পরে জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার আলমডাঙ্গা উপজেলাকে মাদকমুক্ত করার জন্য অতিদ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ প্রদান করে বলেন, কাজটির সাথে উপজেলার সামাজিক, রাজনৈতিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে সংযুক্ত করতে হবে। সকলের সমন্বয়ে উপজেলা, পৌর, ইউনিয়ন এমনকি ওয়ার্ড কমিটি গঠন করতে হবে। আমরা মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর হব বটে, তবে আমরা পুনর্বাসনের ব্যবস্থাও করব। কোনো মাদক ব্যবসায়ী যদি স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে চাই, সেক্ষেত্রে তাকে পুনর্বাসন করা হবে। আমাদের মূল টার্গেটই হবে পুনর্বাসন করা। অতিদ্রুত মাদকমুক্ত করার কাজ করতে হবে। মাদকের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হবে। প্রচার-প্রচারণা চালাতে হবে। শুধু আলমডাঙ্গাকে নয়, প্রত্যেকটা উপজেলাকেই পর্যায়ক্রমে মাদকমুক্ত করা হবে। অতিদ্রুতই আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে, কত দিনের মধ্যে আলমডাঙ্গাকে মাদকমুক্ত করা হবে। কর্মপরিকল্পনা তৈরি করতে হবে। যেদিন আলমডাঙ্গাকে মাদকমুক্ত ঘোষণা করা হবে, সেদিনই পরবর্তী উপজেলার নাম ঘোষণা করা হবে। আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন, চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মনিরা পারভীন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আবু তারেক, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ সাদিকুর রহমান, জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক শরিয়ত উল্লাহ, প্রত্যাশা সামাজিক উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক বিল্লাল হোসেন, দৈনিক সময়ের সমীকরণ-এর নিজস্ব প্রতিবেদক মেহেরাব্বিন সানভী প্রমুখ।