চুয়াডাঙ্গা বৃহস্পতিবার , ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মাঠে লাঠি, কথায় লাঠি কোন দিকে যাচ্ছে রাজনীতি

সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২২ ৯:২৮ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

Girl in a jacket

সমীকরণ প্রতিবেদন: বিএনপির ওপর হামলা মামলা অনেকটা একপাক্ষিক হলেও কথার লাড়াইয়ে আওয়ামী লীগ বিএনপি সমানে সমান। দুই দলেরই শীর্ষ নেতারা কথার যুদ্ধে কেউ কাউকে ছাড়ছেন না। রাজপথ দখলের হুমকি পাল্টা হুমকি চলছেই। লাঠির জবাব লাঠিতে দেয়ার কথা হচ্ছে। এই পাল্টাপাল্টি চরম অবস্থান রাজনীতিকে কোন দিকে নিয়ে যাবে তা নিয়ে আতঙ্কিত খোদ দুই দলের নেতারাই। আওয়ামী লীগ নেতা এস এম কামাল হোসেন বলেছেন, ‘বিএনপিকে মাঠে নামতে দেয়া হবে না। তারা নৈরাজ্য সৃষ্টি করছে।’ আর বিএনপি নেতা সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেছেন, ‘নির্যাতন আর হামলা প্রতিরোধ করে বিএনপি এগিয়ে যাবে। সরকার কথা এবং কাজে সন্ত্রাসী তৎপরতা চালাচ্ছে।’
সর্বশেষ গত মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ছাত্রদলের নেতা কর্মীদের ব্যাপক লাঠিপেটা করে ছাত্রলীগ। ভিসির সাথে দেখা করতে যাওয়ার সময় ছাত্রদলের উপর চড়াও হয় তারা। এর একদিন আগে হাজরীবাগে লাঠির মাথায় জাতীয় পতাকা বেধে শোডাউন করে বিএনপি। গত এক মাসের ঘটনা বিবেচনায় এক পাক্ষিকভাবে বিএনপির কর্মসূচিতে হামলা হচ্ছে, মামলাও হচ্ছে তাদের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে। বিএনপির অন্তত চার জন কর্মী নিহত হয়েছেন। বিএনপি নেতারা বলছেন, এই হামলা মামলায় ভয় না পেয়ে তাদের নেতা-কর্মীরা চাঙ্গা হচ্ছেন। তারা বলছেন, রাজপথ দখলের লড়াই শুরু হয়ে গেছে। সরকারের পতন এখন সময়ের ব্যাপার। আর আওয়ামী লীগ বলছে, তারা মাঠে নামলে বিএনপিকে থাকবে না।

বিএনপি নেতারা এরইমধ্যে তাদের নেতা-কর্মীদের লাঠি ও লাইসেন্স করা অস্ত্র নিয়ে কর্মসূচিতে যোগ দিতে বলেছেন। তারা বলছেন, বন্দুকের নল আওয়ামী লীগের দিকেও ঘুরে যেতে পারে। আর আওয়ামী লীগ নেতারা বিএনপিকে রাজপথে জবাব দেয়ার কথা বলছেন। তারা বলছেন, রাজপথে নামলে বিএনপিকে খুঁজে পাওয়া যাবে না, লীগ খেলতেই বিএনপির পা ভেঙে যাবে। ফলে রাজপথের উত্তাপ এখন কথায়ও। আর এই কথার উত্তাপই আবার মাঠ উত্তপ্ত করছে।

Girl in a jacket

বিএনপি প্রতিরোধ করে এগিয়ে যাবে:
বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, ‘সরকার তার কথা, হামলা আর মামলার মধ্য দিয়ে যা করছে তাতে একটি নৈরাজ্যকর অবস্থা বিরাজ করছে। তাদের কথায় এবং কাজে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড অব্যাহত আছে। এটা চলতে থাকলে পরিস্থিতি আরো খারাপের দিকে যাবে। এর দায় সরকারকেই নিতে হবে। বিএনপি এতে ভয় পায় না। জনগণকে সাথে নিয়ে আন্দোলন আরো তীব্র করে এই সরকারকে বিদায় করব।’

লাঠির মাথায় জাতীয় পতাকা বেঁধে নেতা-কর্মীদের কর্মসূচিতে আসা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘পল্লবীতে আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে লাঠি দিয়ে তারা হামলা করছে। মোমবাতি প্রজ্জ্বলনের মত শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে তারা হামলা করেছে। বিভিন্ন জেলায় আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে লাঠি নিয়ে হামলা করছে, রক্তাক্ত করছে, হত্যা করছে। গতকালকে (মঙ্গলবার) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের ওপর লাঠি নিয়ে ব্যাপক হামলা চালানো হয়েছে। তাই আমরা বাধ্য হয়েই আত্মরক্ষার্থে লাঠি সাথে রাখছি। এটা আওয়ামী লীগ এবং সরকার আমাদের হাতে তুলে দিয়েছে।’ তার কথা, ‘আমাদের এই আন্দোলনে দেশের মানুষের সমর্থন আছে বলেই আমরা শহরে, নগরে, বন্দরে এইসব হামলা প্রতিরোধ করে কর্মসূচি পালন করতে পারছি, হামলা প্রতিরোধ করব আমরা। এভাবে জনগণের আন্দোলনকে দমন করা যায় না। এই দমন নীতি সরকারের জন্য বুমেরাং হবে।’

বিএনপিকে মাঠে নামতে দেয়া হবে না:
আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন বলেছেন, ‘তারেক জিয়া কোনো রাজনৈতিক নেতা নয়। তিনি লন্ডনের ক্যাসিনোতে বসে দেশে একটি অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির নির্দেশ দিচ্ছেন। এ কারণে ফখরুলরা বলছে লাঠি নিয়ে নামতে হবে। লাঠি আরো লম্বা করতে হবে, নিজস্ব অস্ত্র নিয়ে রাস্তায় নামতে হবে। কিন্তু আওয়ামী লীগ তো বিএনপিকে রাস্তায় নামতে দেবে না। বিএনপিকে রাস্তায় নামতে হলে জাতির কাছে ক্ষমা চেয়ে বলতে হবে, আমরা ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা করে অন্যায় করেছি, আর করব না। আমরা বাংলাদেশকে জঙ্গিবাদের দেশ বানিয়েছি, আর বানাব না। বাংলা ভাইদের প্রশ্রয় দিয়ে ভুল করেছি। বিএনপি যদি বলে আমরা শাহ এ এম এস কিবরিয়া, আহসান উল্লাহ মাস্টারকে নিরপত্তা দিতে পারিনি এজন্য জাতির কাছে ক্ষমা চাচ্ছি, তাহলে বিএনপি রাস্তায় নামতে পারবে।’
তার কথা, ‘আমরা এখন আরো কঠিন অবস্থায় যাব। বিএনপি যেভাবে হুমকি দিচেছ যে আমাদের ঘর থেকে বের হতে দেবে না, আমরা যদি চূড়ান্তভাবে রাস্তায় নামি তাহলে বিএনপি ঘর থেকে বের হতে পারবে না। বিএনপির ওপর সব হামলার দায় স্বীকার না করলেও তিনি ‘কিছু’ হামলার কথা স্বীকার করে সেগুলোকে দুঃখজনক বলে অভিহিত করেন। আর এই হুমকি পাল্টা হুমকিতে পরিস্থিতি আরো খারাপ হতে পারে স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘সেরকম পরিস্থিতি হলে আমরা প্রশাসনের সহযোগিতায় দেশের মানুষের নিরাপত্তা ও দেশের শান্তির জন্য সার্বক্ষণিকভাবে মাঠে থাকব।’

নির্বাচনের আগে আরো হিসাব আছে:
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্বিবিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. শান্তনু মজুমদার মনে করেন এখন পরিস্থিতি যাই হোক না কেন তা শেষ পর্যন্ত আরো সহিংস হওয়ার আশঙ্কা নেই। তার কথা, ‘নির্বাচনের অনেক বাকি। ভোটের আগে রাজনৈতিক হিাসাব নিকাশ অনেক পাল্টে যাবে। আরো অনেক সমীকরণ আছে। একটি ভালো নির্বাচনের জন্য সব দিক থেকে সরকার এবং সব দলের ওপর চাপ আছে। আমি মনে করি না আওয়ামী লীগ বা বিএনপির কারুরই ২০০৬ সাল বা ২০১৪ সালের মত পরিস্থিতি তৈরি করার মত অবস্থা আছে।’
তাতিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের কথায় এখন মাঠ উত্তপ্ত হচ্ছে। আর সাংবাদিকদেরও দায়িত্বশীল হতে হবে। তারা নির্বাচনের দেড় বছর আগেই এমনভাবে খবর পরিবেশন করছে যেন দেশে একটি যুদ্ধাবস্থা তৈরি হচ্ছে।’ তাহলে এত আগে, এখনই বিএনপির ওপর কেন হামলা হচ্ছে আর বিএনপিই বা কেন মাঠে নামছে? এর জবাবে তিনি বলেন, বিএনপি রাস্তায় শোডাউন করে এখন তাদের শক্তিমত্তা দেখাতে চাচ্ছে। সরকারের টেম্পারটাও বুঝতে চাচ্ছে। আর সরকার মনে করছে বিএনপি যদি এভাবে মাঠে নেমে তাদের জনপ্রিয়তা দেখাতে পারে তাহলে সরকারকে আগামী নির্বাচন পর্যন্ত একটা চ্যালেঞ্জের মধ্যদিয়ে যেতে হবে। সরকার সেটা চায় না। ফলে এখন এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। তবে এটা আরো বাড়বে বলে এখন পর্যন্ত আমার মনে হচ্ছে না, এভাবেই চলবে।’

Girl in a jacket

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।