চুয়াডাঙ্গা সোমবার , ২ নভেম্বর ২০২০
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মহামারীর ছোবল বিষ ছড়াচ্ছে

সমীকরণ প্রতিবেদন
নভেম্বর ২, ২০২০ ১০:১২ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

Girl in a jacket

কর্মসংস্থানে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিন
করোনাভাইরাসের তা-ব এখনো কাটেনি। কিন্তু গত আট মাসে এটি দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক জীবনে যে মারাত্মক আঘাত হেনেছে তা কাটিয়ে ওঠা দুরূহ বলেই মনে হয়। নতুন স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনার সবরকম চেষ্টার পরও অর্থনৈতিক কর্মকা- স্বাভাবিক হয়ে উঠছে না। ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পকারখানায় গতি ফেরেনি। সরকারি-বেসরকারি অফিস-আদালতে সবাই কাজকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন ঠিকই কিন্তু সর্বত্র এক ধরনের ছন্দপতনের আবহ বিরাজ করছে। এর কারণ মূলত সার্বিক পরিস্থিতি। করোনাকালে অনেকেই কাজ হারিয়ে বেকার হয়ে পড়েছেন। অনেকের ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ হয়েছে। বহু মানুষের বেতন-ভাতা কমে গেছে, কর্মী ছাঁটাই করে প্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন অনেক মালিক। সব মিলিয়ে আগামী দিনগুলোর ব্যাপারে সৃষ্টি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। এমনকি লোকসান ঠেকাতে আর প্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রাখতে কোনো কোনো ব্যাংকও কর্মী ছাঁটাই করেছে এবং বেতন-ভাতা কমিয়েছে। বেসরকারি খাতের বেহাল অবস্থা। নতুন নিয়োগ হচ্ছে না। সরকারি খাতে চলছে ব্যয় সঙ্কোচন নীতি। ফলে সরকারি প্রতিষ্ঠানেও আগের মতো কর্মী নিয়োগ হচ্ছে না। বিদেশে কর্মসংস্থানের পথও রুদ্ধ। গত ১০ মাসে তিন লাখ কর্মীও বিদেশে যেতে পারেননি। অথচ আগের বছরের একই সময়ে অন্তত ১০ লাখ কর্মী দেশের বাইরে গিয়েছিলেন কাজের উদ্দেশে। এদিকে মহামারীর কারণে গত কয়েক মাসে প্রায় ১২ লাখ প্রবাসী কর্মী দেশে ফিরেছেন। এদের মধ্যে লাখ দুয়েক কর্মস্থলে ফিরে যেতে পেরেছেন। যারা রয়ে গেছেন তারা কোনো কাজ পাচ্ছেন না। জীবিকার সঙ্কটে আছেন দেশে ফেরা ৭০ শতাংশ প্রবাসী কর্মী। চাকরি, শ্রমবাজার কিংবা অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের পুরো ব্যবস্থাই প্রায় ধসে পড়েছে। ফলে নতুন কর্মসংস্থান একরকম বন্ধ। গণমাধ্যমের খবরে জানা যাচ্ছে, প্রায় ছয় মাস পর সীমিত পরিসরে কর্মী নিয়োগ করতে যাচ্ছে কিছু ব্যাংক, বীমা ও করপোরেট প্রতিষ্ঠান। কিন্তু তা সার্বিকভাবে জাতীয় জীবনে তেমন কোনো প্রভাব রাখতে পারবে না।
দু’টি বেসরকারি সংস্থার সদ্য প্রকাশিত জরিপের তথ্য মতে, দেশে কোভিড-১৯ এর কারণে জুলাই পর্যন্ত প্রায় ৩২ শতাংশ মানুষ কাজ হারিয়েছেন। আয় কমেছে ৮৪ শতাংশ মানুষের। যারা কাজ হারিয়েছেন বা দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছেন তাদের কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই। দুই সংস্থার প্রতিবেদনে জানা যায়, জুন শেষে নতুন করে ২২ দশমিক ৮ শতাংশ মানুষ দরিদ্র হয়ে গেছেন। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) হিসাব অনুযায়ী, মহামারীতে বাংলাদেশের তরুণদের বেকারত্ব দ্বিগুণ হয়েছে। মহামারীর আগে ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুণদের মধ্যে বেকারত্বের হার ছিল গড়ে ১২ শতাংশ, এখন তা বেড়ে প্রায় ২৫ শতাংশ। এর সাথে আছে পুরনো ২৭ লাখ বেকার। গত আগস্টে প্রকাশিত সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়, মহামারীর স্বল্পমেয়াদি প্রভাবে বাংলাদেশে কর্মসংস্থান হারাতে পারে ১১ লাখ ১৭ হাজার যুব শ্রমশক্তি। এই পরিস্থিতিতে সরকার প্রণোদনা প্যাকেজসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু প্রণোদনা প্যাকেজ বৃহৎ শিল্পের জন্য কিছুটা কার্যকর হলেও ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে তেমন কাজে আসেনি। এমনকি, এই করোনাকালে সামাজিক নিরাপত্তা খাতের যেসব কার্যক্রম ছিল সেগুলোও সঠিকভাবে কাজে আসেনি বলে জানা যাচ্ছে গণমাধ্যমের সূত্রে। এদিকে কর্মসংস্থান বাড়াতে গত ৩০ জুন এক হাজার কোটি টাকা ছাড় করেছে অর্থবিভাগ, যা কর্মসংস্থান ব্যাংক, প্রবাসীকল্যাণ ব্যাংক ও পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক এবং পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)-এর মাধ্যমে বিতরণ করা হবে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠান আড়াই শ’ কোটি টাকা করে বিতরণ করবে। এ অর্থ ফিরে আসা প্রবাসী শ্রমিক ও অন্য বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানে ঋণ হিসেবে দেয়া হবে। চলতি অর্থবছরের বাজেটে কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য দুই হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ আছে। এই মুহূর্তে কর্মসৃজনেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া দরকার। সেটা করাও হচ্ছে। কিন্তু এসব উদ্যোগ আমলাতান্ত্রিক জটিলতা পেরিয়ে কতটা সাফল্যের মুখ দেখবে, তা বলার সময় আসেনি। রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও যথাযথ মনিটরিং ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হলে বিদ্যমান অনিশ্চিত অবস্থা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হলেও হতে পারে।

Girl in a jacket

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।