চুয়াডাঙ্গা সোমবার , ১৩ ডিসেম্বর ২০২১
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মহাজনদের ঋণ নিয়ে আতঙ্কে চাষিরা!

বেগমপুর ও তিতুদহে অসময়ের টানা বর্ষণে পচে গেছে আলুর বীজ
দর্শনা অফিস:
ডিসেম্বর ১৩, ২০২১ ১২:৫৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

অসময়ের টানা ভারী বর্ষণে স্বপ্ন ভেঙে গেছে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বেগমপুর ও তিতুদহ ইউনিয়নের আলু চাষিদের। তাঁদের চোখে এখন বিষাদের পানি। তিন দিনের টানা বৃষ্টিতে আলু চাষে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। চাষিরা বলছেন, গত এক সপ্তাহের মধ্যে যারা আলুর বীজ রোপণ করেছিলেন, তারা বেশি ক্ষতির আশঙ্কায় রয়েছেন। ফলে আলু চাষিরা মহাজনদের ঋণ নিয়ে হতাশ হয়ে পড়েছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার বেশিরভাগ জমি বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে। বৃষ্টির সময় কৃষকরা আলু রোপণের জমি থেকে সেচের মাধ্যমে জমির পানি নিষ্কাশন করেছে। তবে বেশিরভাগ জমির আলু পচে গেছে।

তিতুদহ ইউনিয়নের ছোটশলুয়া গ্রামের পশ্চিমপাড়ার মৃত খেদের আলীর ছেলে আলু চাষি মিলন হোসেন বলেন, ‘এবার আমি ৬৯ শতাংশ জমি বর্গা নিয়ে আলুর বীজ লাগিয়েছি। সার, শ্রমিক ও জমি বর্গা চাষ খরচসহ প্রায় ৭০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। বৃষ্টির পানিতে আমার সব জমিতেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় প্রায় ৯৫ ভাগ জমির আলু বীজ পচে নষ্ট হয়ে গেছে। লাভের আশায় লোন করে এবং আত্মীয়-স্বজনদের কাছ থেকে টাকা ধার এনে আলু চাষ করেছিলাম, কিন্তু বৃষ্টি আমার সব স্বপ্ন ভেঙে দিল।’

তিতুদহ ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার লিটন বলেন, সারা দেশের ন্যায় তিতুদহ ও বেগমপুর ইউনিয়নে টানা তিন দিনের ভারি বর্ষণে চাষি মিলনের মতো শত শত আলু চাষির জমিতে আলুর বীজ পচে নষ্ট হয়ে গেছে। আলু চাষে একদিকে মহাজনদের ঋণ, অন্যদিকে স্বজনদের কাছে ধারের টাকা নিয়ে চাষিরা রয়েছেন চরম বিপাকে।

তিতুদহ ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা নিয়ামত আলী জানান, ‘নিম্নচাপ এবং অসময়ে বৃষ্টির কারণে এলাকার আলু চাষিদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। যেসব জমিতে সপ্তাহখানের মধ্যে বীজ লাগিয়েছে, তাদের ক্ষতির পরিমাণ বেশি। এছাড়াও তাৎক্ষণিক সমাধানে আমরা মাঠ পর্যায়ে কাজ করছি।’

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।