মহাখুশি ৭৯টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার

36

জীবননগরে মুজিববর্ষে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ঘরের চাবি হস্তান্তর
নিবিড়ভাবে তদারকি করে ঘরগুলো প্রস্তুত করা হয়েছে -ইউএনও রাসেল
মিঠুন মাহমুদ:
মুজিব শতবর্ষে জীবননগর উপজেলায় ৭৯টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার পেল তাদের স্বপ্নের ঠিকানা জমি ও ঘর। মুজিববর্ষে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া এসব ঘর পেয়ে মহাখুশি তারা। বছরের পর বছর ভাঙা ঘরে সন্তানদের নিয়ে কষ্টে জীবনযাপন করা এসব পরিবার বিনামূল্যে ঘর পেয়ে আপ্লুত।
জানা গেছে, মুজিবশতবর্ষ উপলক্ষে সারা দেশের মতো জীবননগর উপজেলায় ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে ঘর। ইতোমধ্যে ঘরের নির্মাণকাজ শেষে সুবিধাভোগীদের মধ্যে ঘরের চাবি হস্তান্তর করা হয়েছে। ঘরের সাথে জমির কাগজপত্রের মালিকানা পেয়ে ভীষণ খুশি এসব গৃহহীন ও ভূমিহীন পরিবার। তাদের অনেকেরই কাছে এরকম একটি ঘরের মালিক হওয়া ছিল স্বপ্নের মতো। অবশেষে তাদের এ স্বপ্ন পূরণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে নিজেদের স্থায়ী ঠিকানা হওয়ায় খুশি দারিদ্রপীড়িত জনপদের ভূমিহীন ও গৃহহীনরা। নিজেদের মাথা গোজার ঠাই করে দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রীর জন্য প্রাণ খুলে দোয়াও করছেন অনেকে। ঘর পেয়ে এসব পরিবার অর্থনীতির মূল চালিকা শক্তি হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারবে বলে মনে করেন সুবিধাভোগীরা। অনেকে ঘরের সামনে পরিত্যাক্ত জমিতে চাষ করছেন বিভিন্ন ধরনের সবজি, পালন করছেন হাঁস, মুরগী ও গবাদীপশু।
দুর্যোগ সহনীয় বাসগৃহ নির্মাণ আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় নকশা অনুযায়ী দৈর্ঘ্য সাড়ে ১৯ ফুট, প্রস্থ ২২ ফুটসহ সাড়ে ৮ ফুট উচ্চতা সম্বলিত একটি ঘরে বারান্দা, ৮ ফুট করে দু’টি কক্ষ, একটি রান্না ঘর, একটি টয়লেটের ব্যবস্থা আছে। ঘরগুলো নির্মিত হচ্ছে দেড় ফুট মাটির নিচে ১০ ইঞ্চি ইটের ওপর ৫ ইঞ্চি দেওয়ালের গাঁথুনি দিয়ে। প্রতিটি ঘরের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা।
জীবননগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাজি হাফিজুর রহমান জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জীবননগর উপজেলায় যে সমস্থ গৃহহীন ব্যক্তিদের মাঝে ঘর উপহার দিয়েছে, তারা ঘর পেয়ে আজ অনেক খুশি। তারা আজ নিজেদের একটি বসবাসের জন্য নির্দিষ্ট স্থান পেয়েছে। তারা নিজেদের সন্তানদের নিয়ে সুখে জীবনযাপন করছে। পাশাপাশি বাড়ির আঙিনায় তারা বিভিন্ন সবজি চাষ করছে।
জীবননগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আরিফুল ইসলাম রাসেল বলেন, জীবননগর উপজেলার ১টি পৌরসভা ও ৮টি ইউনিয়নে ৭৯টি ঘর ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের জন্য ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ ঘরগুলো নির্মাণে উপজেলা পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট কমিটি নিবিড়ভাবে তদারকি করে ঘরগুলো প্রস্তুত করেছে। এছাড়াও সুবিধাভোগীদের জমি বরাদ্দ, রেজিস্ট্রেশন, ভূমি অফিস থেকে মিউটেশন কার্যক্রম সম্পন্ন করে তা হস্তান্তর করা হয়েছে। তা ছাড়া আমরা উপজেলার ৭৯টি ঘর পরিদশন করেছি। ঘরগুলোই এখন পর্যন্ত কোনো সমস্যা হয়নি।