চুয়াডাঙ্গা মঙ্গলবার , ৫ এপ্রিল ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মশা কি সরকারি প্রাণীদের কামড়াই না?

মশার কামড়ে অতিষ্ঠ চুয়াডাঙ্গা পৌরবাসী : শেষে ফেসবুকেও মশা নিয়ে মশকরা
সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
এপ্রিল ৫, ২০২২ ৯:০৩ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাতদিন মশার কামড়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে চুয়াডাঙ্গা পৌরবাসী। বাসিন্দাদের অভিযোগ, পৌর প্রশাসনের পক্ষ থেকে মশা নিধনে কোনো কার্যক্রম নেই বললেই চলে। মশার কামড় খেয়েই জীবনযাপন করতে হচ্ছে তাঁদের। এদিকে, মশা আতঙ্ক ছড়িয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেও। মশা নিয়ে সেখানে অনেকেই করছেন মশকরা। দিচ্ছেন নানা পোস্ট।

জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা শহরে মশার আতঙ্ক বেড়েই চলেছে। পৌরসভার উদ্যোগে সঠিক সময়ে ময়লা পরিষ্কার না করায় যেখানে সেখানে তো ময়লার ভাগার আছেই, সেই সাথে মশা ফ্রি। এমনটাই বলছেন, পৌরবাসীদের কেউ কেউ। গত কয়েকদিনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে চুয়াডাঙ্গা কেন্দ্রীক বিভিন্ন গ্রæপগুলোতে আলোচনার বিষয়বস্তুই যেন এই মশা।

          ‘নেটওয়ার্ক চুয়াডাঙ্গা’ নামে চুয়াডাঙ্গা কেন্দ্রীক একটি ফেসবুক গ্রæপে সোয়েব হাসান নামে একজন পোস্ট করেছেন, ‘মশার অত্যাচারে অতিষ্ট চুয়াডাঙ্গার সকল প্রাণী। এমনকি মশাও রেহায় পাচ্ছেনা মশার হাত থেকে। এ ব্যাপারে পৌরসভা বা সরকারি কোনো উদ্যোগ নেই। প্রশ্নঃ মশা কি সরকারি প্রাণীদের কামড়াই না?’ পোস্টটিতে বিভিন্ন রকম মন্তব্য দেখা গেছে। অপরদিকে, একই গ্রæপে মোহাম্মদ মেহেদী খান নামে একজন একজোড়া চটি স্যান্ডেলেও ওপর দুটো আস্ত মশার কয়েল জ্বালিয়ে ছবিটি পোস্ট করেছেন। ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকাতে মশার যা উৎপাত তাতে এভাবেই সেন্ডেল লাগিয়ে চলতে হবে। কোনোদিনই দেখি না কোথাও কোনো মশা নিধনের জন্য ওষুধ ছেটানো হয়। কারণটা কি জানা নেই। হয়তো বাজেট বরাদ্দ নেই, অথবা সদিচ্ছা নেই। দয়া করে শহরবাসীর দিকে সেবা সংক্রান্ত মন নিয়ে নজর দেবার অনুরোধ রইলো।’

চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার একাধিক বাসিন্দা বলছেন, আগে মাঝেমধ্যে পৌরসভার উদ্যোগে মশা নিধনের স্প্রে করলেও এখন তা চোখে পড়ে না। দীর্ঘদিন মশা নিধন স্প্রে না করায় শহরে মশার দখল বেড়েছে।

পৌরসভার সিনেমা হল পাড়ার বাসিন্দা রাজু আহমেদ বলেন, ‘শুধু রাতে না, দিনেও ঘর একটু অন্ধকার হলেই মশা কামড়াচ্ছে। কয়েল জ্বালালেও কাজ হয় না। পৌরসভার কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ছে না।’

পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ব্যবসায়ী সুমন রেজা বলেন, ‘আগে সন্ধ্যা নামার পর থেকেই ঘরে মশার উপদ্রব বেড়ে যেত। এখন দিনেও মশার উপদ্রব। পৌরসভার কোনো উদ্যোগই চোখে পড়ে না।’

এবিষয়ে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার সচিব এসএম রেজাউল করিম বলেন, ‘মশার ওষুধ ছিটানোর জন্য পৌরসভায় সব ব্যবস্থাই রয়েছে। মশার ওষুধ ছিটানোও হচ্ছে। আসলে লোকবল সংকটের কারণে ব্যাপকভাবে কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। দু-একদিনের মধ্যে মশা নিধনে ব্যাপকভাবে ওষুধ ছিটানো হবে।’

এদিকে, এবিষয়ে কথা বলার জন্য চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার মেয়র জাহাঙ্গির আলম মালিক খোকনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি মুঠোফোন রিসিভ করেননি।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।