মরা ছাগল জবাই, হাতে-নাতে কসাই আটক

99

জীবননগর অফিস:
জীবননগরে মরা ছাগল জবাই করে জনতার হাতে আটক হয়েছেন এক কসাই। গতকাল সোমবার বেলা দুইটার দিকে জীবননগর পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড মহানগর দক্ষিণপাড়ার যানু কসাইয়ের ছেলে আরজ কসাইয়ের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, আরজ কসাইয়ের এক আত্মীয় মহেশপুর উপজেলার নাটিমা থেকে অসুস্থ একটি ছাগল নিয়ে চিকিৎসার জন্য ডাক্তারের কাছে নিয়ে আসার সময় পথের মধ্যে ছাগলটি মারা যায়। মৃত ছাগলটি মাটিতে না পুতে অর্থের লোভে জীবননগর আরজ কসাইয়ের বাড়িতে জবাই করে। স্থানীয় জনগণ হাতে-নাতে মরা ছাগলসহ কসাইকে আটক করে। পরে এ ধরনের কাজ আর করবে না বলে মুচলেকা দিয়ে ওই কসাই রেহাই পান।
তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, আরজ কসাইয়ের নিকট থেকে অল্প দাম দিয়ে জীবননগর শহরের হাজী বিরিয়ানি খাশির মাংশ কিনে সাধারণ মানুষকে বোকা বানিয়ে মরা ছাগলের মাংস দিয়ে বিরিয়ানি খাওয়াচ্ছেন বলেও অনেক অভিযোগ উঠেছে। তা ছাড়া আরজ কসাই এর আগেও বেশ কয়েকবার বাচুরসহ গরু জবাই করার অপরাধে মাংস জব্দ করে পৌরসভায় কেরোসিন দিয়ে সেগুলো মাটিতে পুতে রাখা হয়। সে সময়ও এ ধরনের কাজ আর করবে না এই মর্মে একটি লিখিত দিয়ে রেহাই পান। শুধু আরজ কসাই এক ধরনের অপরাধ করেন না, এর সাথে রয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন কসাই। যারা রাতের আধারে অসুস্থ গরু-ছাগল জবাই করে ফ্রিজে রেখে সকালে পৌরসভার সিল মেরে বাজারে মাংস বিক্রি করে থাকেন। এত বড় অপরাধ করা সত্ত্বেও কসাইদের বিরুদ্ধে নেওয়া হয়নি কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা। যার জন্য সাধারণ মানুষের প্রতিনিয়ত ভুগতে হচ্ছে নানা ধরনের কঠিন ও জটিল রোগে।
এবিষয়ে আরজ কসাইয়ের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, ‘আমি কোনো মরা ছাগল জবাই করিনি। যে ছাগল নিয়ে এত কথা উঠছে, সেই ছাগলটা চাল খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে। সে কারণে জবাই করা হয়।’
জীবননগর পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সোয়েব আহম্মেদ অঞ্জন বলেন, ‘মরা ছাগল জবাই করার বিষয়টি আমি স্থানীয় এলাকাবাসী সূত্রে শুনেছি। যারা এ কাজটি করেছে, তারা এটা ঠিক করেনি।’