একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে ঋণের বোঝায় জর্জরিত পরিবারটি দিশাহারা

ময়নাতদন্ত শেষে ইজিবাইক চালকের দাফন সম্পন্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক:
দামুড়হুদা উপজেলার ইব্রাহিমপুর গ্রাম থেকে উদ্ধার হওয়ায় ইজিবাইক চালক আশরাফ সরদারের লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. ওয়াহিদ মাহমুদ রবিনের নেতৃত্বে ময়নাতদন্তটি সম্পন্ন করে তিন সদস্যের মেডিকেল বোর্ড। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা আড়াইটার পরে ময়নাতদন্ত শেষে লাশ দাফনের জন্য পরিবারের সদস্যদের নিকট হস্তান্তর করে। এসময় লাশটি নিহতের নিজ এলাকা দৌলাতদিয়াড় সর্দারপাড়ায় নেওয়া হয়। বিকেলে পৌনে চারটায় সর্দারপাড়া ঈদগাহ ময়দানে আশরাফ সরদারের লাশের জানাজা শেষে বেদনাবিধুর পরিবেশের মধ্যদিয়ে একই কবরস্থানে দাফনকার্য সম্পন্ন হয়।

এদিকে, আশরাফ সরদারের মৃত্যুতে বিপাকে পড়েছে তার পরিবারটি। মৃত্য শোক কাটিয়ে ওঠার পূর্বেই পরিবারটির মাথায় চেপে বসেছে ৫০ হাজার টাকা ঋণের বোঝা। যে ঋণটি ইজিবাইকের ব্যাটারি পরিবর্তণের জন্য দুই মাস পূর্বে নিয়েছিলেন আশরাফ সরদার। আশা ফাউন্ডেশনের এ ঋণটির মাত্র দুটি কিস্তি দিতে পেরেছিলেন আশরাফ।

নিহত আশরাফ সরদারের মা সাহেদা খাতুন বলেন, ‘আমার বড় ছেলে বাস-ট্রাকে হেল্পারি করে। বেশিরভাগ সময় তার কাজ থাকে না। তারও দুই মেয়ে। কোনোমতে তার সংসার চলে। ছোট ছেলে অটো চালিয়ে সংসার চালাতো। এখন আর সে নেই। অটোর ব্যাটারি কেনার জন্য আশা সমিতি থেকে ঋণ নেওয়া ৫০ হাজার টাকা কোথা থেকে শোধ দেব? বাপ মরা মেয়ে দুটোকে কে দেখবে?’ নিজেকেই এসব প্রশ্ন করতে শুরু করেন তিনি। একেতো মৃত্যু শোক, তার ওপরে ঋণের বোঝা। একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে পরিবারটি এখন দিশাহারা।
দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফেরদৌস ওয়াহিদ বলেন, ‘ইজিবাইক চালক আশরাফ সরদার হত্যা ঘটনায় নিহতের বাড়িতে শোকাবহ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো অভিযোগ হয়নি। তবে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনসহ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে এবং ইজিবাইকটি উদ্ধারে জোর তৎপরতা চালানো হচ্ছে।’