মনের ক্যান্সার ডিপ্রেশন!

11

স্বাস্থ্য প্রতিবেদন:
সম্প্রতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সমীক্ষায় জানা গেছে, পৃথিবীর ১২১ মিলিয়ন মানুষ ক্রনিক ডিপ্রেশনে ভুগছে। এই ডিপ্রেশন থেকে আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়ে। জার্মানির মনস্তাত্তিক ড. মোনিকা সাইস ভন হাইডেব্রান্ট বলেন, ‘আমাদের অর্থনৈতিক অবস্থার অবনতি সঙ্গে বাড়ছে বেকারত্ব ফলে পরিবারকে আগের মতো সাপোর্ট করতে পারছেন না তারা। এছাড়াও মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতার অভাব রয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘যারা মানসিক রোগের শিকার তারা সাধারণত নিজেদের একটি কাঁচের বাক্সের মধ্যে বন্দী হিসেবে মনে করেন। বাইরের এই সুন্দর জগত দেখতে পেলেও, কিছুতেই যেন তারা তার সঙ্গে নিজেদের মানাতে পারেন না। কোন কিছুই যেন তাদের মনে দাগ কাটতে পারে না। কোন কিছুতেই কোন উচ্ছ্বাস ও আনন্দ নেই। এমনকি দুঃখও নেই। কেমন যেন একটা আবেগহীন অবস্থা সেটা। বড় একা ও নিঃসঙ্গ হয়ে যায় তারা।’ এই আবেগহীন ব্যক্তিদের আবেগকে প্রভাবিত করতে মনস্তাত্তিক ড. হাইডেব্রান্ট বলেন, ‘এর জন্য প্রথমেই আমরা তাদের মূল সমস্যাটি বোঝার চেষ্টা করে থাকি। বলি যে আপনি যদি সারাদিন বিছানাতে শুয়ে কাটান, তাহলে আপনাদের চিন্তা-ভাবনার মধ্যেও একটা নেতিবাচক দিক চলে আসবে। তাই আমরা তাদের ইতিবাচক কাজকর্মের জন্য বহির্বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের জন্য উৎসাহ দেই। তারা যদি সে কাজ করতে সক্ষম হয়, তবে তারা নিজেরাই বুঝতে শুরু করে যে এই পৃথিবী এতো ঘোলাটে, এতো কৃষ্ণবর্ণ নয়। আর এটা যদি করা যায়, তবে ধীরে ধীরে তারা চিন্তার সেই নেতিবাচক বৃত্ত থেকে ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসতে শুরু করে।’ এই নিঃসঙ্গতা তাদের বাধ্য করে নিজেকে সমাজ-সংসার, বন্ধু-বান্ধব থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে ও বাধ্য করে নিজ ক্ষতি সাধন করতে। আত্মহননের পথ বেঁচে নিতে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ঐ সমীক্ষাটিতে দেখা যাচ্ছে, যে বছরে প্রায় ১০,০০০ জার্মান বেছে নিচ্ছেন আত্মহত্যার পথ। যাদের মধ্যে অধিকাংশই ছিলেন ডিপ্রেশনের শিকার।’ ডিপ্রেশনের রোগীদের মধ্যে পুরুষের চাইতে নারীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। শতকরা ২৮.৭ পুরুষ এবং ৩৯.৭ শতাংশ নারী ডিপ্রেশনে ভুগছেন বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বীমা প্রতিষ্ঠান। মনরোগ বিশেষজ্ঞরা বলেন, ‘সাধারণত দেখা গেছে যে পুরুষের তুলনায় মহিলারা ডিপ্রেশন সম্পর্কে একটু বেশি সচেতন। ফলে পুরুষদের অনুপাতে মেয়েরাই বেশি আসে সাহায্যের জন্য।’