মধ্যবর্তী নির্বাচনের সম্ভাবনা নেই

226

retrt

সমীকরণ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনের প্রস্তাব দেওয়ার আগে জাতির কাছে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার ক্ষমা চাওয়া উচিত ছিল। একটি দলের প্রধান হিসেবে উনি বিগত নির্বাচনে না আসার ভুল সিদ্ধান্ত নেন। তার নির্দেশে সারাদেশে আন্দোলনের নামে মানুষ পুড়িয়ে হত্যা, বাসে-ট্রেনে-লঞ্চে আগুন দেওয়া হয়। এখন উনি প্রস্তাব নিয়ে এগিয়ে এসেছেন। আগে জাতির কাছে মানুষ হত্যার জবাব দিক, পরে প্রস্তাব নিয়ে কথা হবে। তাকে বহনকারী বিমানে যান্ত্রিক ত্রুটি প্রসঙ্গে বলেছেন, মহান আল্লাহ তালা যতদিন তাকে বাঁচিয়ে রাখবেন ততদিন মৃত্যুকে ভয় করবেন না। গতকাল শনিবার গণভবনে এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক হাঙ্গেরি সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরতেই এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে ঘুরেফিরে উঠে আসে তাকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ভিভিআইপি ফ্লাইটের যান্ত্রিক ত্রুটি ও জরুরি অবতরণের বিষয়টি। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী ইসি পুনর্গঠনে বিএনপির প্রস্তাবসহ দেশের সর্বশেষ রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন। সংবাদ সম্মেলনে পানি সম্পদ মন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমানের বুদাপেস্টগামী উড়োজাহাজে মাঝ আকাশে যান্ত্রিক ত্রুটির ঘটনা নিয়ে জাতির উদ্বেগের কথা তুলে ধরে একাধিক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন। যে ঘটনা ঘটেছে, সেটি নিছকই দূর্ঘটনা নাকি অন্য কোনো কিছু একজন সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে কবিতার ভাষায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জীবনমৃত্যু পায়ের ভৃত্য, বুঝেছে দুর্বৃত্ত’। শেখ হাসিনা বলেন, এতে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। তবে দুর্ঘটনা যান্ত্রিক ত্রুটিতেও হতে পারে, আবার মনুষ্যসৃষ্ট কারণেও হতে পারে।  কিন্তু দুর্ঘটনা ঘটেনি, এটাই বড় কথা। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। সহি-সালামতে দেশের মানুষের কাছে ফিরে এসেছি। এখন দেশবাসীর দোয়া চাই।  জনগণের কল্যাণে কাজ করবো বলে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই তো দেশে এসেছিলাম। তাই যতদিন আল্লাহ বাঁচিয়ে রাখবেন, ততদিন মৃত্যুকে ভয় করব না।  এ প্রসঙ্গে আবারো সবাইকে আশ্বস্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, হয়তো যান্ত্রিক কিছু একটা হয়েছে। সম্প্রতি ব্রাজিলে ফুটবল প্লেয়ারসহ প্লেন ক্র্যাশ হলো। দুর্ঘটনা তো দুর্ঘটনাই।
রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর জন্য নতুন বিমান কেনার বিষয়টি সরাসরি নাকচ করে দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আলাদা বিমান কেনার মতো বিলাসিতা করার সময় আসেনি। কারণ গরীবের ঘোড়া রোগ না হওয়াই ভালো। ঘোড়া লালন-পালন করতে যথেষ্ট খরচ লাগে। নতুন উড়োজাহাজ কেনার কোনো প্রয়োজন নেই, আমি চাইও না। যে প্লেনে আমার দেশের সাধারণ মানুষ চলাচল করবে, সেখানে যদি আমার নিরাপদবোধ না থাকে, তাহলে আমার আলাদা প্লেন কিনে কী লাভ? আমি মানুষের সঙ্গে চলি। সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী মধ্যবর্তী নির্বাচনের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে বলেন, ‘এখন আর মধ্য নেই, মধ্য পার হয়ে গেছে। আমরা মেয়াদের তিন বছর পার করতে যাচ্ছি। মধ্যবর্তী যদি কেউ বলেও থাকেন সেটা হয়তো পরবর্তী নির্বাচনের বিষয়ে বলেছে। ’
ইসি পুনর্গঠন নিয়ে খালেদা জিয়ার প্রস্তাব প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘তার প্রস্তাবের তো কোন আগামাথা নেই। ক্ষমতায় থাকতে তারা নির্বাচন নিয়ে কী খেলা খেলেছেন তা কী তাদের স্মরণ আছে? এখন উনি নির্বাচন কমিশন নিয়ে কথা বলেন। এই ইসি তো সরকার থেকে করা হয়নি। সার্চ কমিটি করে ইসি গঠন করা হয়। তখন তাদের যা যা দাবি ছিল তা মেনেই এ কমিশন করা হয়েছে। এখন সেই প্রক্রিয়াই অনুসরণ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, বিএনপি যখন ৫টি সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে বিজয়ী হলো তখন তো বর্তমান নির্বাচন কমিশন নিয়ে কোন কথা বলেনি। তারা যখন নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছে তখন ইসি ভাল, আর হারলেই খারাপ। তার প্রস্তাব তিনি দিয়েছেন। তারা রাষ্ট্রপতিকে বলুক, রাষ্ট্রপতিই যা ব্যবস্থা নেওয়ার নিবেন। এ বিষয়ে আমাদের কিছু বলার নেই।’
বিএনপি নেত্রীর সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে টানা ৯২ দিন দলীয় অফিসে থেকে খালেদা জিয়া জীবন্ত মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করেছেন। তার ছোট পুত্র মারা যাওয়ার পর দেখতে গেলে আমার মুখের ওপর দরজা বন্ধ করে দিয়ে ঢুকতে দেয়া হয়নি। এমনকি ছোট পকেট দরজা দিয়ে দিয়ে প্রবেশ করতে গেলেও তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এ ধরনের অসৌজন্যতা যারা দেখায়, তারা কী প্রস্তাব দিলো বা না দিলো তাতে আমাদের কিছুই করার নেই। তার প্রস্তাব নিয়ে এতো তোলপাড় করার কিছু দেখি না।