চুয়াডাঙ্গা শনিবার , ১৫ জানুয়ারি ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মধ্যপ্রাচ্যগামী কর্মীরা ধারদেনায় কিনছেন টিকিট

সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
জানুয়ারি ১৫, ২০২২ ১১:০৬ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

সৌদি আরব, কুয়েত, কাতারসহ মধ্যপ্রাচ্যগামী শ্রমিকরা অনেকটা বাধ্য হয়েই ধারদেনা করে বিমানের টিকিট কেটে কর্মস্থলে পাড়ি জমাচ্ছেন। পরে তারা অতিরিক্ত দামের এই টিকিটের টাকা কিভাবে শোধ করবেন তা নিয়েও তারা রয়েছেন দুশ্চিন্তায়। যদিও মধ্যপ্রাচ্যের রুটগুলোতে বিমানের টিকিটের মূল্যবৃদ্ধিতে ট্র্যাভেল এজেন্টদের একটি চিহ্নিত শক্তিশালী সিন্ডিকেট জড়িত বলে সংবাদমাধ্যমের কাছে অভিযোগ করে আসছেন অ্যাসোসিয়েশন অব ট্র্যাভেল এজেন্ট অব বাংলাদেশের (আটাব) বর্তমান ও সাবেক নেতৃবৃন্দ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কিছু দিন আগেও যেখানে সৌদি আরবের জেদ্দা, রিয়াদ, দাম্মাম, মদিনা, দুবাই, কাতার কুয়েতসহ অন্যান্য রুটে একজন যাত্রীর বিমান ভাড়া সর্বোচ্চ ছিল ২৫-৩০ হাজার টাকার মধ্যে। এখন সেই টিকিটের মূল্য ৪ গুণ বেড়ে লাখ ছুয়েছে। তাও একটি টিকিট যেন সোনার হরিণ! চাইলেই কিন্তু পাওয়া যাচ্ছে না! মধ্যপ্রাচ্যের রুটগুলোতে একটি টিকিটের দাম প্রায় লাখ টাকা হলেও এমিরেটসের মতো এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে যেকোনো যাত্রী ঢাকা থেকে আমেরিকা অথবা লন্ডনে মাত্র ৬৫-৭০ হাজার টাকায় টিকিট কিনে গন্তব্যে পাড়ি জমাতে পারছেন। মূলত মধ্যপ্রাচ্যের রুটগুলোতে পর্যাপ্ত ফ্লাইট না থাকার সুযোগে কিছু ট্র্যাভেল এজেন্সি এয়ারলাইন্সগুলোকে নিজেদের মতো করে ব্যবহার করে টিকিট ব্লকের জমাজমাট বাণিজ্য করছে বলে অভিযোগ রয়েছে ট্র্যাভেল এজেন্সি মালিকদের পক্ষ থেকেই। আর কয়েক দিন আগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পক্ষ থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী বিমানের ফ্লাইটগুলোতে টিকিটের মূল্য কমিয়ে দেয়ার যে তথ্য সংবাদমাধ্যমকে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দেয়া হয়েছে সেটিও সঠিক নয় বলে দাবি করছেন কোনো কোনো ট্র্যাভেল এজেন্সির মালিক। গতকাল শুক্রবার রাত পৌনে ৭টার দিকে প্যান ব্রাইট ট্র্যাভেল অ্যান্ড ট্যুরসের স্বত্বাধিকারী ও সাবেক হাব নেতা রুহুল আমিন মিন্টু মধ্যপ্রাচ্যে বিমানের টিকিটের দাম বাড়ার ব্যাপারে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, আগে সিন্ডিকেটের সদস্যরা নিজেদের নামে (প্রতিষ্ঠান) টিকিট ব্লক করে ব্যবসা করত। এখন তারা কৌশল পাল্টে ভিন্ন নামে টিকিট ব্লক করছে। যে দিন ফ্লাইট ছাড়ার ডেট ঠিক থাকে, তার দুই দিন আগে তারা ওই ফ্লাইটের টিকিট ক্যানসেল করে নতুন নামে আবার টিকিট (পিয়েনার বানায়) কেটে ফেলে। এভাবে ট্র্যাভেল এজেন্সির একটি সিন্ডিকেট এয়ারলাইন্সগুলোর সাথে যোগসাজশ করে বিদেশগামীদের অনেকটা জিম্মি করেছে। যার কারণে ২৫-৩০ হাজার টাকার টিকিটের দাম এখন লাখ টাকার উপরে হয়েছে। এই টিকিটের দাম বেড়ে যাওয়ায় বিদেশগামী যাত্রীরা অনেকটা জিম্মি হয়ে পড়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, তারা এখন উপায় না পেয়ে ধারদেনা করে চাকরি বাঁচাতে অতিরিক্ত দামে টিকিট কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।

রুহুল আমিন মিন্টু ক্ষোভ প্রকাশ করে আরো বলেন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পক্ষ থেকে বিমান ভাড়া কমানোর যে বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়েছে সেটি আমার কাছে ডাহা মিথ্যা মনে হচ্ছে। তিনি বলেন, তারা পুরো ফ্লাইটের টিকিটের দাম নয়, একটি ফ্লাইটে যতগুলো সিট রয়েছে তার মধ্যে ৮-১০টি অথবা সর্বোচ্চ ১৫-২০টির (সিট) দাম কমিয়েছে বলে জানি। সেটিও পরে অন্য সিটগুলোর কোনো কোনো ক্লাসের সিটের দাম সমন্বয় করে নেয়া হচ্ছে বলে দাবি করেন। এতে বিমানের কোনো লোকসান হচ্ছে না। এটি কোনো সমাধান নয়। কারণ মধ্যপ্রাচ্যগামী শ্রমিকরা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ওপর সবচেয়ে বেশি নির্ভরশীল। তাই বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষকে আরো ছাড় দিতে হবে।

এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যার পর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. আবু সালেহ মোস্তফা কামালের বক্তব্য নিতে ফোন করা হয়। কিন্তু তিনি প্রতিবেদকের টেলিফোন রিসিভ করেননি। এর আগে মধ্যপ্রাচ্যগামী প্রবাসী শ্রমিকদের সাথে কথা হয় মতিঝিলের বিমানের বলাকা ভবন অফিসের সামনে। তাদের একজন হচ্ছে রুস্তম। তিনি বলেন, চড়া দামে বিমানের টিকিট কিনতে গিয়ে তারা অনেকটা দিশেহারা হয়ে পড়ছেন। তার বক্তব্য, ভিসার মেয়াদ অনুযায়ী তার জানুয়ারি মাসের মধ্যে কাজে যোগ দিতে হবে। কিন্তু টিকিটের দাম নাগালের বাইরে। এখন এত টাকা দিয়ে কিভাবে টিকিট কিনবেন তা নিয়ে তিনি টেনশনে আছেন। কারণ দীর্ঘসময় করোনার ধাক্কা সামলানোর পর বিদেশ যাওয়ার সময়ে অতিরিক্ত দামে টিকিট ক্রয় যেন মাথার ওপর বাড়তি বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। জমানো টাকাও শেষের পথে। এখন বিদেশে কর্মস্থলে যেতে হলে ধারদেনা করে টিকিট কেনা ছাড়া বিকল্প উপায় নেই। কাজে যাওয়ার পর তো তাকে আবার এই টাকা শোধ করতে হবে। এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তিনি। শুধু রুস্তম নন তার মতো হাজার হাজার মধ্যপ্রাচ্যগামী চড়া দামে টিকিট কিনতে গিয়ে দিশেহারা। তারা সরকারের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। নতুবা তাদের কষ্টের টাকাগুলো নানা কৌশলে সিন্ডিকেটের হাতে চলে যাচ্ছে। এ দিকে যেসব বিদেশগামী শ্রমিক চড়া দামে টিকিট কিনে পাড়ি জমাতে যাচ্ছেন তাদের মধ্য থেকে অনেককে আবার ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দরে যাওয়ার পর অফলোড করা হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে বিমানবন্দরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ও ট্র্যাভেল এজেন্ট ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ত একাধিক মালিক গত রাতে বলেন, ফ্লাইটে ওঠার ৬ ঘণ্টা আগে বিমানবন্দরে র্যাপিড পিসিআর পরীক্ষার রিপোর্ট যথাসময়ে না পাওয়ার কারণে মধ্যপ্রাচ্যগামী কোনো কোনো ফ্লাইটের যাত্রীদের উপায় না পেয়ে এয়ারলাইন্সগুলো অফলোড করতে বাধ্য হচ্ছে। এতে ফ্লাইট মিস করা প্রবাসী এসব শ্রমিকরা বিমানবন্দরেই কান্নায় ভেঙে পড়ছেন। কারণ অনেক কষ্ট করে ধারদেনা করে তারা চড়া দামে বিমানের টিকিট কিনেছিলেন, করোনা পরীক্ষা করানোর খরচ দিয়েছিলেন, ঢাকায় থাকা খাওয়ার বিল পরিশোধ করেছেন। এরপরও যখন শেষ মুহূর্তে তাদের অফলোড করার ঘোষণা মাইকে ভেসে আসে তখন তাদের কান্না ছাড়া আর কি করার থাকতে পারে? এসব বিষয় সংশ্লিষ্টদের ভেবে দেখা উচিত বলে সচেতন মহল মনে করছেন।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।