মদনা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে স্বামী পরিত্যাক্তার সাথে

504

অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের অভিযোগ : বিয়ের দাবিতে সেলিনার অনশন
দর্শনা অফিস: দামুড়হুদার মদনা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইয়াসনবীর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে সেলিনা আক্তার (৩৫) নামের এক স্বামী পরিত্যাক্তার সাথে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের অভিযোগ উঠেছে। গতকাল বুধবার বিয়ের দাবিতে স্বামী পরিত্যাক্তা সেলিনা আক্তার প্রধান শিক্ষক ইয়াসনবীর বাড়িতে বিয়ের দাবিতে অনশন করেন। শিক্ষকের বাড়ির সামনে অবস্থানের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌছায় দামুড়হুদা থানা পুলিশ। এসময় পুলিশ সেলিনা আক্তারকে আইনি আশ্রয় নিতে বললে অনশনস্থল ত্যাগ করেন সেলিনা খাতুন। সেলিনা আক্তার দামুড়হুদা উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের ইয়ার উদ্দিনের মেয়ে।
সেলিনা আক্তার অভিযোগ করে জানান, স্বামী তালাকের পর পিতার বাড়িতে বসবাস করে আসছিলো। ৪ বছর আগে ইয়াসনবী গোবিন্দপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ছিলো। সে সময় সেলিনা আক্তার তার ৬ বছরের মেয়ে স্কুলে ভর্তি করার জন্য প্রধান শিক্ষকের শরনাপন্ন হয়। সেই সুবাদে সেলিনার সাথে প্রধান শিক্ষক ইয়াসনবীর মোবাইল ফোনে পরকীয়া প্রেমজ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এরই এক পর্যায়ে স্বামী পরিত্যাক্তা সেলিনা আক্তারকে বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে প্রধান শিক্ষক ইয়াসনবী মোবাইল ফোনে বিভিন্ন জায়গায় ডেকে নিয়ে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে। এছাড়া ইয়াসনবীর বোন খালেদা অসুস্থতার সুজগে আমাকে বোনের বাড়িতে কাজের মেয়ে হিসাবে রেখে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে।
এছাড়া তিনি আরও বলেন, আমার স্ত্রীকে দেড় লক্ষ টাকা দিয়ে বাদ দিয়েছি কিছুদিন অপেক্ষা করো তোমার স্ত্রীর মর্জদা দিয়ে ঘরে তুলবো একথা বলে আমার দর্শনা হঠাৎপাড়া নিত্যনন্দর বাড়িতে ঘর ভাড়া করে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বেশ কিছুদিন রেখেছিলো। তাছাড়া বিয়ের কথা বললে কোন কর্ণপাত না করে আস্তে আস্তে যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা করছিলো। এরই একপর্যায় গতকাল বুধবার পরকিয়া প্রেমিকা নাসিমা আক্তার (৩৫) বিয়ের দাবিতে দামুড়হুদার ঘুঘুডাঙ্গা গ্রামের পরকীয়া প্রেমিক শিক্ষক ইয়াসনবীর বাড়িতে অনশন শুরু করে। এসময় লম্পট শিক্ষক কৌশলে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে উৎসক নারী-পুরুষ ভীড় জমায় ইয়াসনবীর বাড়িতে। পরে দুপুর ২টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌছায় দামুড়হুদা থানা পুলিশ। এসময় পুলিশ আইনি সহায়তা নেওয়ার কথা জানালে অনশনস্থল ছেড়ে চলে যায় সেলিনা খাতুন।
এবিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক ইয়াসনবী জানান, এটি একটি ষড়যন্ত্রমূলক ঘটনা। আমাকে ফাঁসাতে সে আমার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ তুলেছে।
এবিষয়ে দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সুকুমার বিশ্বাস বলেন, উক্ত ঘটনায় থানাতে কোন অভিযোগ করেনি। তবে অভিযোগ পেলে আমরা আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।