মজুরী নিয়ে বাইসাইকেলযোগে বাড়ি ফেরার পথে চুয়াডাঙ্গার সরোজগঞ্জে দুর্ঘটনা পূর্বাশা পরিবহনের ধাক্কায় হতদরিদ্র দিনমজুর নিহত

331

dfsgনিজস্ব প্রতিবেদক:  চুয়াডাঙ্গার সরোজগঞ্জে যাত্রীবাহী বাস পূর্বাশা পরিবহনের ধাক্কায় এক দিনমজুর নিহত হয়েছেন। সরোজগঞ্জ বাজার থেকে মজুরীর টাকা নিয়ে বাইসাইকেলযোগে বাড়ি ফেরার পথে ঢাকাগামী পূর্বাশা পরিবহন তাকে ধাক্কা দেয়। ছিটকে পড়েন দিনমজুর মোতালেব। স্থানীয়রা গতরাত সাড়ে ৯টার দিকে তাকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেয়। রাত ১০টার দিকে হাসপাতালের জরুরী বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক মোতালেবকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। গতরাতে তার মৃতদেহ সদর হাসপাতালের হিম ঘরে রাখা হয়েছে। আজ তার লাশের ময়নাতদন্ত করা হতে পারে। এদিকে বাইসাইকেল চালক মোতালেবকে ধাক্কা দিয়ে ঘাতক যাত্রীবাহী বাস পূর্বাশা পরিবহন দ্রুত গতিতে চলে যায়। স্থানীয় ও পরিবারসূত্রে জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের বোয়ালিয়া পূর্বপাড়ার মৃত শাকের আলী ওরফে শাকের মিস্ত্রীর ছেলে হতদরিদ্র মোতালেব হোসেন (৪০) গোডাউনের শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বিভিন্ন গোডাউনে মালামাল ওঠা-নামানোর কাজ করতেন তিনি। গতকাল সারাদিন লেবারের কাজ করে রাত ৯টার দিকে মজুরির টাকা পান মোতালেব। টাকা নিয়ে বাইসাইকেলযোগে স্ত্রী-সন্তানের কাছে বোয়ালিয়া পূর্বপাড়ায় যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে সরোজগঞ্জ স্ট্যান্ডের নিকট পৌছুলে চুয়াডাঙ্গা থেকে ছেড়ে আসা পূর্বাশা পরিবহন বাস তাকে ধাক্কা দেয়। দ্রুত গতির যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় ছিটকে পড়েন মোতালেব। গুরুতর আহত হন তিনি। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেয়। রাত ১০টার দিকে মোতালেবকে হাসপাতালে নিলে জরুরী বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক মোতালেবকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। গতরাতেই মোতালেবের লাশ হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়। আজ তার লাশের ময়নাতদন্ত হতে পারে। বোয়ালিয়া গ্রামের পূর্বপাড়ার হতদরিদ্র মোতালেব হোসেন দীর্ঘ ৭/৮ বছর একই এলাকার আজিজুল ইসলামের একটি জমিতে ঘর তুলে বসবাস করে আসছিলেন। পিতৃ-মাতৃহীন হতদরিদ্র মোতালেব হোসেন সরোজগঞ্জ বাজারের বিভিন্ন গোডাউনে দিনমজুরের কাজ করতেন। বিভিন্ন সময় ভিন্ন গোডাউনের ধান, গম, ভূট্টাসহ বিভিন্ন মালামাল তোলা- নামানোর কাজ করে কোন রকমে খেয়ে না খেয়ে দিন কাটতো মোতালেবের পরিবারের। মোতালেবের মৃত্যুতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তার স্ত্রী। কিছু বুঝে ওঠার আগের বাবাকে হারানোর শোকে বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলো শিশুসন্তান রনি (৭) ও জনি (৪)। পিতৃহীন দুই শিশুর ভবিষ্যত নিয়েও প্রশ্ন করেছেন অনেকে। এদিকে, ঘাতক যাত্রীবাহী বাস পূর্বাশা পরিবহন মোতালেবকে ধাক্কা দিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।