ভয়াবহ দূষণ ঝুঁকিতে বাংলাদেশ

363

গত কয়েক বছর ধরে বিশ্বব্যাপী বহুমুখী দূষণ বৃদ্ধির বিষয়টি বহুল আলোচিত। বিশ্বের বিভিন্ন শহরে বায়ুদূষণ আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধির বিষয়টিও বিভিন্ন সংস্থার প্রতিবেদনে ক্রমাগত উঠে এসেছে। দুঃখজনক হল, দূষণ বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে দূষণ রোধে বড় ধরনের কোনো উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়। ফলে দূষণের কারণে সৃষ্ট বিভিন্ন রোগে সারা বিশ্বে মৃত্যুর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক চিকিৎসাবিষয়ক গবেষণা সাময়িকী দ্য ল্যানসেটের সাম্প্রতিক এক গবেষণা তথ্য অনুসারে ২০১৫ সালে বিশ্বব্যাপী দূষণের কারণে সৃষ্ট রোগে প্রাণ হারিয়েছে ৯০ লাখ মানুষ। এর মধ্যে বেশিরভাগ মৃত্যু ঘটেছে নিম্ন ও মধ্য আয়ের দেশগুলোতে। ল্যানসেটের তথ্য অনুসারে পরিবেশ দূষণের ফলে জনসংখ্যা অনুপাতে মৃত্যুর হারে শীর্ষে রয়েছে বাংলাদেশ। বস্তুত এদেশে শুধু বায়ুদূষণেই প্রতিবছর মারা যায় বিপুলসংখ্যক মানুষ। সারাদেশে বায়ুদূষণের বিষয়টি বহুল আলোচিত। এ অবস্থায় সারাদেশে বায়ুদূষণের উৎস বন্ধে জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে। পানি দূষণের কারণেও দেশে প্রতিবছর মারা যায় বিপুলসংখ্যক মানুষ। সারাদেশে বিশুদ্ধ পানির সংকট আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। পানি দূষণ রোধে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে আগামীতে পানি দূষণজনিত রোগে মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। দেশের সব নদীকে দূষণমুক্ত করা না গেলে জনস্বাস্থ্যের ওপর এর ভয়াবহ নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। এছাড়া চামড়া প্রক্রিয়াজাতকারী ট্যানারির বর্জ্যে দূষণ বৃদ্ধির বিষয়টি উদ্বেগজনক। এ তথ্য থেকেই স্পষ্ট, সারাদেশের নদীগুলোকে দূষণমুক্ত রাখার কাজটি কতটা কঠিন। এ কঠিন কাজে আমাদের সফল হতেই হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট বিভিন্ন অনুষঙ্গও আমাদের দেশের পরিবেশ সুরক্ষায় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিতে পারে। উদাহরণ হিসেবে এবারের বর্ষায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতার বিষয়টি উল্লেখ করা যায়। মূলত সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে যাওয়ার কারণেই শহরে শহরে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছিল। আগামীতে এ সমস্যা আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। কাজেই আমাদের দেশের পরিবেশ সুরক্ষার জন্য দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ নেয়া জরুরি। আর্থিক সংকটের কারণে এ বিষয়ক কোনো কোনো পদক্ষেপ যথাযথভাবে বাস্তবায়নে সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। তাই এসব সমস্যার সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে যুক্ত করার বিষয়টিও ভাবতে হবে। দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গে পরিবেশ দূষণের একটি সম্পর্ক রয়েছে। এ বিষয়েও উল্লিখিত গবেষণায় সতর্ক করা হয়েছে। দ্রুত শিল্পায়নের কারণে দেশে যেসব সমস্যা সৃষ্টি হয়, তার সমাধানে বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নিতে হবে। সম্প্রতি উখিয়া, টেকনাফ ও এর আশপাশের এলাকায় নতুন করে আশ্রয় নিয়েছে ছয় লাখ রোহিঙ্গা। তাদের রান্নার জন্য জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বনের গাছ। জানা গেছে, নতুন আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের রান্নার জন্য প্রতিদিন পুড়ছে বনের পাঁচ লাখ কেজি গাছ। রোহিঙ্গাদের রান্নার জন্য এভাবে বনের গাছ কাটা অব্যাহত থাকলে পরিবেশের ওপর এর কী প্রভাব পড়বে এটাও উদ্বেগের বিষয়। দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষ অতিরিক্ত আর্সেনিকযুক্ত পানি পান করছে। এ সমস্যার সুরাহা হওয়া জরুরি। দেশের দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের পানি সংকটের আশু সমাধানেও নিতে হবে পদক্ষেপ। বাংলাদেশের পরিবেশ কতটা ঝুঁকিতে, এটা কয়েক দশক ধরেই আলোচনায় রয়েছে। কাজেই দেশের সার্বিক পরিবেশ সুরক্ষায় এখনই নিতে হবে আশু ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ।