চুয়াডাঙ্গা বৃহস্পতিবার , ৪ আগস্ট ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ভোলায় গুলিবিদ্ধ ছাত্রদল সভাপতিও মারা গেলেন, আজ হরতাল

সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
আগস্ট ৪, ২০২২ ৮:৫২ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

সমীকরণ প্রতিবেদন: বিদ্যুতের লোডশেডিং ও জ্বালানি খাতে অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদে ভোলায় বিএনপির ডাকা সমাবেশে পুলিশের সাথে সংঘর্ষে আহত ভোলা জেলা ছাত্রদলের সভাপতি নুরে আলম তিন দিন লাইফ সাপোর্টে থাকার পর রাজধানীর গ্রিন রোডের কমফোর্ট হাসপাতালে মারা গেছেন। তার মৃত্যুর ঘটনায় আজ বৃহস্পতিবার ভোলায় সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক দিয়েছে বিএনপি। এ দিকে নুরে আলমের মৃত্যুর ঘটনায় ভোলায় বইছে শোকের ছায়া। জেলা বিএনপির সভাপতিসহ অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা শোক জানিয়েছেন।

জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলাম কায়েদ জানান, নুরে আলমের মাথা, বুক, হাত-পা ও মুখমণ্ডলে গুলি লেগেছে। শরীর থেকে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়েছে। গত রোববার সংঘর্ষের পর প্রথমে তাকে ভোলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকা নিউরো সায়েন্স হাসপাতালে পাঠান। রোববার রাত ৯টার দিকে তাকে নিউরো সায়েন্স হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। এরপর রাত ১০টার দিকে ওই হাসপাতাল থেকে তাকে গ্রিন রোড কমফোর্ট হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তিন দিন লাইফ সাপোর্টে থেকে গতকাল বুধবার বেলা ৩টায় নুরে আলম মারা যান।

জেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম নবী আলমগীর বলেন, শান্তিপূর্ণ ভোলা জেলাকে পুলিশ আজ লাশের শহরে পরিণত করেছে। স্বেচ্ছাসেবক দলেন নেতা আবদুর রহিমের মৃত্যুর তিন দিন পরে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি নুরে আলমের মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। এই মৃত্যু কোনোভাবে মেনে নেয়া যায় না। এই মৃত্যুর জন্য পুলিশকে দায়ী করেছেন তিনি। সভাপতি বলেন, বিএনপি এমন কোনো উচ্ছৃঙ্খলতা করেনি তার জন্য পুলিশকে গুলি করে মানুষ হত্যা করতে হবে। পুলিশ এখন অতি উৎসাহী হয়ে বিএনপি নেতাদের ধরে ধরে গুলি করে মারছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

আজ ভোলায় সকাল-সন্ধ্যা হরতাল :

জেলা ছাত্রদল সভাপতি নুরে আলমের মৃত্যুর ঘটনায় আজ বৃহস্পতিবার ভোলা জেলায় সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক দিয়েছে বিএনপি। গতকাল বুধবার বিকেলে দলটি এ কর্মসূচির ঘোষণা করে। এ ছাড়াও সাত দিনের শোক পালনের ঘোষণা দিয়েছে জেলা বিএনপি। জেলা ছাত্রদল সভাপতি নুরে আলমের নিহতের খবর শোনার পর থেকে জেলা বিএনপি বিক্ষোভ মিছিল বের করেছে। এতে জেলা নেতারা উপস্থিত ছিলেন। ভোলা জেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম নবী আলমগীর হরতাল সফল করতে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাজপথে থাকতে বলেন। তিনি জনগণকে হরতাল সফল করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, জেলা ছাত্রদল সভাপতি নুরে আলম ও সেচ্ছাসেবক দল নেতা আবদুর রহিমকে পুলিশ গুলি করে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। এ সময় শতাধিক নেতাকর্মী গুরুতর আহত হয়েছে। দু’জন ত্যাগী ও রাজপথের লড়াকু সৈনিককে হারিয়ে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। দলের জন্য তাদের এই ত্যাগ চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। এ দিকে এ সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা চার শতাধিক নেতাকর্মীর নামে আলাদা দু’টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

হরতাল সফল করতে বুধবার সন্ধ্যায় ভোলা শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ। সন্ধ্যায় বিএনপি কার্যালয়ের সামনে রাস্তায় টায়ার জালিয়ে বিক্ষোভ করে নেতাকর্মীরা। এ সময় একটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। তবে কোনো ধতৃণর অরাজকতা সৃষ্টি না হয় সে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জেলা বিএনপি কার্যালয়ের সামনে ও শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বিএনপি কার্যালয় থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়ে সদর রোড প্রদক্ষিণ করে দলীয় অফিসের সামনে এসে শেষ হয়। মিছিলে জেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম নবী আলমগীর, সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ ট্রুম্যান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির সোপান, সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক, সদর উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব হেলাল উদ্দিন, জেলা যুবদল সভাপতি জামাল উদ্দিন লিটন, সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদের সেলিম, সাংগঠনিক সম্পাদক মনির হাসান, বিএনপি নেতা কবির হাসান, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আল আমিন, বিএনপি নেতা তরিকুল ইসলাম কাদের, সদর উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আবদল্লাহ আল রাসেল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।