চুয়াডাঙ্গা শুক্রবার , ১১ আগস্ট ২০১৭
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ভোটার তালিকা হালনাগাদকরণ প্রসঙ্গে

সমীকরণ প্রতিবেদন
আগস্ট ১১, ২০১৭ ৬:১৯ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার উদ্দেশ্যে নির্বাচন কমিশনের নেয়া ১৬ দিনব্যাপী কার্যক্রমের সমাপ্তি ঘটেছে কিন্তু সাধারণ মানুষ সে সম্পর্কে বলতে গেলে জানতেই পারেনি। পত্রিকান্তরে প্রকাশিত রিপোর্টে জানানো হয়েছে, কথা ছিল- ২৫ জুলাই থেকে ৯ আগস্ট পর্যন্ত বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হবে। প্রধান উদ্দেশ্য ছিল তালিকায় ১৮ বছর বয়স পূর্ণ করেছে এমন নতুন ভোটারদের নাম যুক্ত করা। এর মধ্যে যেসব ভোটারের মৃত্যু ঘটেছে তালিকা থেকে তাদের নাম বাদ দেয়া ছিল দ্বিতীয় উদ্দেশ্য। পাশাপাশি ঠিকানা বদলসহ প্রাসঙ্গিক আরো কিছু তথ্যও সংগ্রহ করার পরিকল্পনা নিয়েছিল নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সে অনুযায়ী ইসি তথ্য সংগ্রহ করার জন্য মাঠকর্মীদের নিযুক্তি দিয়েছিল। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, নির্বাচন কমিশন যেমন ব্যাপকভাবে প্রচারণা চালায়নি, মাঠকর্মীরাও তেমনি বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করেনি। প্রচারণা না চালানোর ফলে সাধারণ মানুষ বিষয়টি সম্পর্কে জানতেই পারেনি। ওদিকে মাঠকর্মীরাও প্রচারণা চালানোর এবং বাড়ি বাড়ি গিয়ে খোঁজ-খবর করার পরিবর্তে বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা ও এলাকার স্কুলে গিয়ে চেয়ার-টেবিল নিয়ে বসেছে। তাদের কাছে যে স্বল্পসংখ্যক মানুষ গেছে তারা গেছে লোকমুখে শুনে এবং স্বতঃস্ফূর্তভাবে। তাদের সঙ্গেও খুব ভালো বা উৎসাহব্যঞ্জক ব্যবহার করেনি মাঠকর্মীরা। অনেকাংশে অনুগ্রহ করার ঢঙে কমিশনের তথ্য সংগ্রহের ফরম হাতে তুলে দিয়েই দায়িত্ব পালন শেষ করেছে তারা। সেই ফরম পূরণ করেছে আগ্রহী মানুষেরা। কেউ নিজে লিখেছে, অনেকে আবার অন্যকে দিয়ে লিখিয়েছে। কিন্তু তাদের দেয়া নাম, পিতা-মাতার নাম, বয়স ও ঠিকানাসহ বিভিন্ন তথ্য আদৌ সঠিক কি না, তাদের কারো জাতীয় পরিচয়পত্র আছে কি না- এ ধরনের কোনো ব্যাপারেই যাচাই বা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি।
আমরা মনে করি, নির্বাচন কমিশনের উচিত নতুন করে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার কার্যক্রম হাতে নেয়া। তার আগে কমিশনকে প্রচারপত্র ও পোস্টারের পাশাপাশি রেডিও-টেলিভিশন ও সংবাদপত্রসহ গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারণা চালাতে হবে, জনগণ যাতে বিষয়টি সম্পর্কে আগে থেকে জানতে পারে। কোনো এলাকায় কার্যক্রম চালানোর আগে সে এলাকায়ও প্রচারণা চালানোর ব্যবস্থা নিতে হবে। বড় কথা, মাঠকর্মীদের ব্যাপারে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে, যাতে এবারের মতো স্কুলে বসে দায়সারাভাবে কাজ করার পরিবর্তে তারা কষ্ট করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করে। একই সাথে এমন ব্যবস্থাও নেয়া জরুরি যাতে ইতিমধ্যে বাদ পড়া সকলেই সহজে তালিকাভুক্ত হতে পারে। তাদের যাতে ঝামেলায় পড়তে না হয়। আমরা চাই, সব মিলিয়ে দেশে একটি গ্রহণযোগ্য ভোটার তালিকা তৈরি করা হোক। এই তালিকা নিয়ে ভবিষ্যতে যাতে কোনো বিতর্কের সৃষ্টি না হতে পারে। আমাদের ধারণা, গভীর রাজনৈতিক সংকটে পড়ে থাকা বর্তমান বাংলাদেশে ভোটার তালিকার বিষয়টি যে অত্যন্ত স্পর্শকাতর- সে কথাটা অনুধাবন করতে ভুল করবে না নির্বাচন কমিশন।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।