চুয়াডাঙ্গা শুক্রবার , ১৩ জানুয়ারি ২০২৩
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ভোক্তা পর্যায়ে দাম বাড়ল বিদ্যুতের

বিইআরসির গণশুনানি উপেক্ষিত, ইউনিট প্রতি বাড়ল সর্বনিম্ন ১৯ পয়সা
সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
জানুয়ারি ১৩, ২০২৩ ৮:০৮ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

Girl in a jacket

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) গণশুনানিকে পাশ কাটিয়ে সরকারের এক নির্বাহী আদেশে বিদ্যুতের দাম গ্রাহক বা ভোক্তা পর্যায়ে ইউনিট প্রতি সর্বনিম্ন ১৯ পয়সা বাড়ানো হয়েছে। ১ জানুয়ারি থেকে বিদ্যুতের নতুন এ দাম কার্যকর হবে। এর ফলে ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম পাঁচ শতাংশ হারে বাড়ানো হল। গতকাল বৃহস্পতিবার প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেয়া হয়। বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মো. হাবিবুর রহমান বলেন, সরকার নির্বাহী আদেশে বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে। গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর জন্য বিইআরসিতে থাকা গণশুনানির অপেক্ষায় থাকা আবেদনের বিষয়ে জানতে চাইলে সচিব বলেন, সরকারের এই দাম বাড়ানোর পর বিইআরসির আর দাম বাড়ানোর প্রয়োজন নেই। এর আগে সর্বশেষ ২০২০ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছিল সরকার।

বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, আবাসিক গ্রাহকদের মধ্যে শূন্য থেকে ৫০ ইউনিট ব্যবহারকারী লাইফলাইন গ্রাহকদের বিদ্যুতের দাম ইউনিট প্রতি ৩ টাকা ৭৫ পয়সা থেকে বেড়ে ৩ টাকা ৯৪ পয়সা, শূন্য থেকে ৭৫ ইউনিট ব্যবহারকারীর বিদ্যুতের দাম ৪ টাকা ১৯ পয়সা থেকে বেড়ে ৪ টাকা ৪০ পয়সা, ৭৬ থেকে ২০০ ইউনিট ব্যবহারকারীদের ৫ টাকা ৭২ পয়সা থেকে বেড়ে ৬ টাকা ১ পয়সা, ২০১ থেকে ৩০০ ইউনিট ব্যবহারকারোদের ৬ টাকা থেকে বেড়ে ৬ টাকা ৩০ পয়সা, ৩০১ থেকে ৪০০ ইউনিটের জন্য ৬ টাকা ৩৪ পয়সা থেকে বেড়ে ৬ টাকা ৬৬ পয়সা, ৪০১ থেকে ৬০০ ইউনিটের জন্য ৯ টাকা ৯৪ পয়সা থেকে বেড়ে ১০ টাকা ৪৫ পয়সা এবং ৬০০ ইউনিটের ওপরে বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী আবাসিক গ্রাহকদের বিদ্যুৎ বিল ১১ টাকা ৪৯ পয়সা থেকে বেড়ে ১২ টাকা ৩ পয়সা করা হয়েছে। আবাসিক গ্রাহক ছাড়াও বেড়েছে সব ধরনের বিদ্যুতের দাম। এরমধ্যে আছে কৃষি, ধর্মীয়, দাতব্য, হাসপাতাল, রাস্তার বাতি, পানির পাম্প, ক্ষুদ্র শিল্প, শিল্প, বাণিজ্য, ব্যাটারি চার্জিং স্টেশনের বিদ্যুতের দাম বেড়েছে।

প্রসঙ্গত, গত কয়েকদিন ধরে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি নিয়ে বিইআরসি এবং বিদ্যুৎ বিভাগে নানা খবর শোনা যাচ্ছিল। গত ৮ জানুয়ারি বিইআরসি গণশুনানির আগে মন্ত্রণালয়ের মতামত নেয়। মন্ত্রণালয় তখন বিইআরসিকে শুনানি করে দাম বৃদ্ধির অনুমোদন দেয়। কিন্তু ৮ জানুয়ারি শুনানির পর মন্ত্রণালয় থেকে ১৫ জানুয়ারির মধ্যে দাম বৃদ্ধির ঘোষণা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। তখন বিইআরসি এই পরামর্শ বাস্তবায়নে অপারগতা প্রকাশ করে মন্ত্রণালয়কে জানায়, ১৫ জানুয়ারি শুনানি পরবর্তী মতামত দেওয়ার সময় বেঁধে দিয়েছে তারা। এর আগে দাম বাড়ানো তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। এতদিন গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম নির্ধারণ করতো বিইআরসি একাই। গত ১০ জানুয়ারি বিশেষ প্রেক্ষাপটে বিদ্যুৎ, জ্বালানি তেল ও গ্যাসের দাম নির্ধারণ, পুনর্নিধারণ এবং সমন্বয়ে সরাসরি সরকারের হস্তক্ষেপের সুযোগ রেখে ‘বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (সংশোধন) আইন ২০২৩’ এর খসড়ায় চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এর পরপরই বৃহস্পতিবার প্রজ্ঞাপন জারি করে বিদ্যুতের দাম বাড়ালো বিদ্যুৎ বিভাগ।

এর আগে গত ২৮ নভেম্বর ‘বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২২’ এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা। গত ১ ডিসেম্বর *বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২২ জারি করেন। প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ। এ অধ্যাদেবলে বিইআরসির পাশাপাশি সরকার চাইলেই বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম বাড়াতে বা কমাতে পারবে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন আইন সংশোধন করে সেখানে ট্যারিফ নির্ধারণ, পুনর্র্নিধারণ বা সমন্বয়ে সরকারের ক্ষমতা শিরোনামে নতুন একটি ধারা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ওই ধারায় বলা হয়েছে, এই আইনের অন্যান্য বিধানে যাহ কিছুই থাকুক না কেন, বিশেষ ক্ষেত্রে সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, ভর্তুকি সমন্বয়ের লক্ষ্যে, জনস্বার্থে, কৃষি, শিল্প, সার, ব্যবসা-বাণিজ্য ও গৃহস্থালি কাজের চাহিদা অনুযায়ী এনার্জির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করবার লক্ষ্যে এর উৎপাদন বৃদ্ধি, সঞ্চালন, পরিবহন ও বিপণনের নিমিত্ত দ্রুত কার্যকরি ব্যবস্থা গ্রহণের সুবিধার্থে বিদ্যুৎ উৎপাদন, এনার্জি সঞ্চালন, মজুদকরণ, বিপণন, সরবরাহ, বিতরণ এবং ভোক্তা পর্যায়ে ট্যারিফ নির্ধারণ, পুনর্র্নিধারণ বা সমন্বয় করতে পারিবে।

Girl in a jacket

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।