ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি

203

যশোরে ১৪ কনস্টেবলের বিরুদ্ধে মামলা : গ্রেফতার ২, পলাতক ১২
সমীকরণ প্রতিবেদন:
যশোরে ভুয়া সনদে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় পুলিশের চাকরি নেয়ায় ফেঁসে যাচ্ছেন ১৪ কনস্টেবল। কোতোয়ালি থানায় চারটি মামলায় তাদের আসামি করা হয়েছে। মামলার দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বাকি ১২ কনস্টেবল গ্রেফতার এড়াতে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। তাদের গ্রেফতারে পুলিশের সব ইউনিটে চিঠি দেয়া হয়েছে। ভুয়া সনদে চাকরির ৫-৭ বছর পর মামলা হওয়ায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। সনদ জালিয়াতির সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছেন মুক্তিযোদ্ধারা।
ভুয়া সনদে কনস্টেবলের চাকরি নেয়ার ঘটনায় ১৪ কনস্টেবলের বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোতোয়ালি থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান। যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের সংশ্লিষ্ট সব ইউনিটকে চিঠি দেয়া হয়েছে। চিঠির ভিত্তিতে দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পলাতক বাকি ১২ আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।
জানা যায়, যশোর থেকে ২০১৩ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে কয়েক দফায় কনস্টেবল পদে লোক নিয়োগ দেয়া হয়। ওই সময় ১৪ জন কনস্টেবল মুক্তিযোদ্ধার সন্তান উল্লেখ করে কাগজপত্র দাখিল করেন। পরে পুলিশের হেডকোয়ার্টারের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দেয়া প্রতিবেদনে বলা হয়, তাদের দাখিলকৃত কাগজপত্র ভুয়া।
এরপর ২০১৯ সালের ৩০ ডিসেম্বর যশোর পুলিশ লাইন্সের রিজার্ভ ইন্সপেক্টর (আরওআই) এম মশিউর রহমান কোতোয়ালি থানায় ১৪ কনস্টেবলের নামে চারটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় ১৬ জানুয়ারি যশোরের অভয়নগর উপজেলার নাউলি গ্রামের আবদুর রাজ্জাক ফকিরের ছেলে সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের কনস্টেবল মিনাজ হোসেন (নম্বর ৮৭৩) ও যশোর সদরের বলরামপুর-মাথাভাঙ্গা গ্রামের নূর মোহাম্মদের ছেলে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের কনস্টেবল নাসির উদ্দিনকে (নম্বর ৬০৫৯) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।
পলাতক আসামিরা হলেন- যশোর সদরের আন্দোলপোতা গ্রামের আফজাল মোল্লার ছেলে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কনস্টেবল সালাউদ্দিন (নম্বর ১১৬৫), যশোর সদরের নরসিংহকাঠি গ্রামের সাধন বিশ্বাসের ছেলে ঢাকার এসপিবিএনের কনস্টেবল দেবাশীষ কুমার বিশ্বাস (নম্বর ১৩৪৯২), যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার নরসিংহপুর গ্রামের দিপন বিশ্বাসের ছেলে খুলনা আরআরএফ পুলিশ কনস্টেবল নব কুমার বিশ্বাস (নম্বর ১৬৩), যশোর সদরের এনায়েতপুর গ্রামের কওছার আলীর মেয়ে নড়াইলের কনস্টেবল সোনিয়া খাতুন (নম্বর ৫০৫)।
যশোর সদরের ঘোপ ছাতিয়ানতলার সাইফুর রহমানের ছেলে ঢাকার এন্টিটেরোরিজম ইউনিটের কনস্টেবল রানা হাসান (নম্বর ৮২১), যশোরের চৌগাছা উপজেলার জগন্নাথপুর গ্রামের মোজাম্মেল হকের ছেলে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের কনস্টেবল মনিরুজ্জামান (নম্বর ৬১৬৮), যশোর সদরের সুড়া গ্রামের সাধন সিংহের ছেলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কনস্টেবল বিপদো সিংহ (নম্বর ৩৬০৬৭), যশোর সদরের নরসিংহকাঠি গ্রামের অজিত বিশ্বাসের ছেলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কনস্টেবল অমিত কুমার বিশ্বাস (নম্বর ৩৬১৬০)।
যশোর সদরের আন্দোলপোতা গ্রামের বাশারত হোসেনের ছেলে নড়াইলের কনস্টেবল আশিকুর রহমান (নম্বর ৬১৭), যশোর সদরের সুড়া গ্রামের কুমারেশ সিংহের ছেলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কনস্টেবল সুজল সিংহ (নম্বর ৩৭২৪৭), যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার সাইটখালি গ্রামের আহাদ আলীর ছেলে ঝিনাইদহের কনস্টেবল বাপ্পি মাহমুদ (নম্বর ১৪৬৫), যশোরের চৌগাছার কোটালিপুর গ্রামের আবদুস সাত্তার বিশ্বাসের ছেলে ঝিনাইদহের কনস্টেবল আলিম উদ্দিন (নম্বর ১২২৪)।
সনদ জালিয়াতির মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরিতে যোগদানে জড়িতদের শাস্তি দাবি করেছেন মুক্তিযোদ্ধারা। যশোর সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার আফজাল হোসেন দোদুল বলেন, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় কিছু ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার মাধ্যমে সনদ জালিয়াতি চক্র গড়ে উঠেছে।
তাদের মাধ্যমে ভুয়া সনদ তৈরি করা হয়ে থাকে। ওইসব ব্যক্তির নাম গেজেটে নেই। মুক্তিযোদ্ধার ভুয়া সনদ তৈরি চক্রের সদস্যদের স্পেশাল ট্রাইব্যুনালে বিচার করতে হবে। তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধার ভুয়া সনদের কারণে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা বঞ্চিত হচ্ছে। একই সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে।