চুয়াডাঙ্গা বুধবার , ২৬ অক্টোবর ২০১৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ভুটিয়ারগাতীর শহীদ নজির উদ্দীন সড়কে মোটরসাইকেলের গতিরোধ : পুলিশকে লক্ষ করে গুলি পুলিশের পাল্টাগুলিতে ঝিনাইদহ জামায়েতের আমিরসহ শিবির নেতা নিহত

সমীকরণ প্রতিবেদন
অক্টোবর ২৬, ২০১৬ ২:০৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

Sajib_Jahurul Jhenidah-police-gunfightঝিনাইদহ প্রতিনিধি: ঝিনাইদহ শহরের বাইপাস সড়কে পুলিশের সাথে কথিত বন্দুকযুদ্ধে শহর জামায়াতের আমীর জহুরুল ইসলাম টিটোন (৩৫) ও ঢাকা দক্ষিন শিবিরের উপদেষ্টা কমিটির সদস্য তারিক হাসান সজিব (৩০) নামের দুই জামায়াত ও শিবির নেতা নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশের ৩ কনস্টেবল নাসিম, আলমগীর ও বুলবুল আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়। নিহত তারিক হাসান আরাপপুরের মৃত আব্দুল লতিফ এর ছেলে। অন্যদিকে কালীগঞ্জের আগমুন্দিয়া কলেজের প্রভাষক ও ঝিনাইদহ শহর জামায়াতের আমির জহুরুল ইসলাম টিটোন ঝিনাইদহ পানি উন্নয়ন বোর্ড কলোনির বাসিন্দা সমসের আলী মোল্লার ছেলে। তার বাবা পানি উন্নয়ন বোর্ডের অবসরপ্রাপ্ত শাখা কর্মকর্তা। এদিকে নিহতের স্বজনদের দাবি জহুরুল ইসলামকে গত ৭ সেপ্টেম্বর ও তারিক হাসানকে গত ঈদের দিন  ১৩ সেপ্টেম্বর পুলিশ পরিচয় দিয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেই থেকে তারা নিখোঁজ ছিলেন। ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজবাহার অলী শেখ জানান শহরের বাস টার্মিনাল মুখি বাইপাস সড়কের হামদহ প্রান্ত হতে ৩টি মোটরসাইকেলে কয়েকজন সন্ত্রাসী বাস টার্মিনালের দিকে আসছিলো। এ সময়  বাইপাস সংলগ্ন ভুটিয়ারগাতীর শহীদ নজির উদ্দীন সড়কের মাথায় মোটরসাইকেল ৩টি পুলিশের টহলদল থামানোর সংকেত দিলে তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে হাত বোমা নিক্ষেপ ও গুলি বর্ষণ করে। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির এক পর্যায়ে ২টি মোটরসাইকেলে তাদের কয়েকজন পালিয়ে যায়। পুলিশ সেখান থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ২ জনকে উদ্ধার করে মঙ্গলবার ভোরে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নিয়ে আসলে চিকিৎসকরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ একটি মোটরসাইকেল ২টি ওয়ান শুটার গান, ২ রাউন্ড গুলি, ৫টি হাতবোমা ও ২টি চাপাতি উদ্ধার করেছে। ঝিনাইদহ হাসপাতাল মর্গে  নিহত সজিবের শ্যালক মুসা দাবি করেন তার ভগ্নিপতি কোন দলের সাথে জড়িত ছিলেন না। তিনি হারবাল চিকিৎসার উপর লেখাপড়া শেষ করে কিছুদিন ঝিনাইদহ ইসলামী ব্যাংক কমিউিনিটি হাসপাতালে রোগী দেখতেন। এরপর তিনি সিরাজগঞ্জে নিজস্ব ব্যবসা শুরু করেন। মুসা অভিযোগ করেন গত ঈদুল আযহার দিন সন্ধ্যায় পুলিশ পরিচয়ে তাকে উঠিয়ে নিয়ে যাওয় হয়। এঘটনায় ঝিনাইদহ সদর থানায় তারা একটি জিডিও করেছেন। সজিবের বিরুদ্ধে কোন মামলা বা সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের অভিযোগ নেই বলেও তিনি দাবি করেন। তবে পুলিশ জানায় সজিব ঢাকা দক্ষিন শিবিরের উপদেষ্টা কমিটির সদস্য ছিল। এদিকে জহুরুল ইসলাম এর বাবা সমসের আলী মোল্লা জানান, তার ছেলে গত ৭ সেপ্টম্বর ইসলামী ব্যাংক থেকে টাকা উঠিয়ে ফেরার পথে পুলিশ পরিচয়ে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেই থেকেই জহুরুল ইসলাম নিখোঁজ ছিলেন। জহুরুল ইসলাম ছাত্র জীবনে শিবিরের ঝিনাইদহ জেলা সভাপতি ও পরবর্তীতে  জামায়াতের ঝিনাইদহ শহর শাখার আমিরের দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি কোন সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের সাথে জড়িত ছিলেন না বলে তার পরিবারের দাবি।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।