চুয়াডাঙ্গা শুক্রবার , ২৯ এপ্রিল ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ভাড়ার নৈরাজ্য এবারো

সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
এপ্রিল ২৯, ২০২২ ৪:০২ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

ঈদযাত্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত লুটবে মালিক ও চাঁদাবাজরা
সমীকরণ প্রতিবেদন:
ঈদযাত্রায় মানুষের ঢল নেমেছে। তবে আবারও ঈদের আগের সেই চিরচেনা রূপ। বাড়ি ফিরতে যেন রীতিমতো যুদ্ধে নেমেছে সবাই। বাস লঞ্চ ট্রেনে শিকড়ের টানে ছুটছে মানুষ। রাজধানী থেকে বাসে করে ঘরমুখো যাত্রীর ঢল মূলত শুরু হয় গতকাল থেকেই। ট্রেনে অগ্রিম টিকিট কাটা যাত্রীদের নিয়ে ইতোমধ্যে দু’দিনের যাত্রা সম্পন্ন হয়েছে। শিডিউলের সমস্যায় ভোগান্তিতে পড়লে বেশির ভাগ ট্রেনে কিছুটা স্বস্তি পায় যাত্রীরা। তবে নৌ-রুট নিয়ে আশঙ্কা এখনো রয়েই গেছে। এর মধ্যে গলার কাঁটা হিসেবে দেখা দিয়েছে যানবাহনের ভাড়ার নৈরাজ্য। বাস ও লঞ্চে কোনো নির্দিষ্ট ভাড়া অনুসরণ করছেন না পরিবহন সংশ্লিষ্টরা। এর মধ্যে আকাশপথেও শান্তি নেই। অনেক আগেই অভ্যন্তরীণ সবগুলো রুটে টিকিট বিক্রি হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েন অনেকে।
গতকাল দেখা গেছে, ছোট বড় যানবাহন আর মানুষের চাপে তিলধারণের ঠাঁই ছিল না একটি ফেরিতেও। ফেরিঘাটে ভিড়তে না ভিড়তেই হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন সবাই। বেলা বাড়ার সাথে সাথে ফেরিঘাটে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন আরো দীর্ঘ হচ্ছে। সেই সাথে বাড়ছে ঈদযাত্রীর বিড়ম্বনা। তবে, সব কষ্ট ছাপিয়ে প্রিয়জনের সান্নিধ্য পাওয়ার আশায় খুশিতে সবাই। কাউন্টারগুলোতে পর্যাপ্ত টিকিট না থাকলেও কালোবাজারে টিকিট পাওয়া যাচ্ছে অধিক মূল্যে। ঈদ উপলক্ষে স্পেশাল সার্ভিসের লঞ্চগুলোতে রাখা হয়নি নির্দিষ্ট শিডিউল। নেয়া হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া। সব মিলিয়ে ভোগান্তিতে যাত্রীরা। এদিকে এ বছর ঈদযাত্রায় আট হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত ভাড়া পরিবহন মালিক-শ্রমিক ও চাঁদাবাজরা লুটে নিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। জরুরি ভিত্তিতে ভাড়া নৈরাজ্য ও পথে পথে যাত্রী হয়রানি বন্ধের দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি।
সদরঘাটে একাধিক যাত্রীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, লঞ্চের কাউন্টারে টিকিট পাওয়া যায় না। তবে বেশি দামে কালোবাজারে টিকিট পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া টিকিট বিক্রিতে জাতীয় পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক বলা হলেও এনআইডি ছাড়াই মিলছে লঞ্চের টিকিট।
জুরাইন থেকে আসা আরাফাত বলেন, বরিশালে যাওয়ার জন্য ২৮ তারিখের টিকিট পেতে গত ২৩ তারিখ এসেছিলাম। কোনো কাউন্টারেই টিকিট পাইনি। তারা নির্দিষ্ট করেও কিছু বলে না। কেউ কেউ বলেছে দিনের টিকিট দিনে পাওয়া যাবে। কিন্তু বাইরে এসে দেখি বাড়তি দামে টিকিট বিক্রি হচ্ছে।
জানা গেছে, সদরঘাট থেকে পটুয়াখালী ও সদরঘাট থেকে বরিশালগামী কুয়াকাটা-১ ও ২ লঞ্চ দুটিতেই ঈদের আগের কয়েক দিনের কোনো টিকিট নেই। দূরপাল্লার অন্য লঞ্চগুলোতেও একই অবস্থা। কুয়াকাটা-২ লঞ্চের করনিকের দাবি, তারা ঈদের টিকিট আগেই বিক্রি শুরু করেছেন, তাই ২৮ থেকে ৩০ তারিখ পর্যন্ত কোনো টিকিট নেই তাদের। লঞ্চ কর্মকর্তাদের দাবি, অনলাইনে টিকিট বিক্রির কারণে কাউন্টারে টিকিটের ঘাটতি আছে। তবে যাত্রীরা বলছেন অনলাইন শুধু কেবিনের টিকিট বিক্রি করা হয়েছে।
অনেক লঞ্চের বিরুদ্ধে বাড়তি ভাড়া নেয়ারও অভিযোগ যাত্রীদের। ঢাকা থেকে বরিশালগামী এমভি সুরভী তিনটি লঞ্চেই সিঙ্গেল কেবিনে ১০০ টাকা ভাড়া বাড়িয়ে দেড় হাজার টাকা, ডাবল কেবিনে ২০০ টাকা বাড়িয়ে ২৬০০ টাকা, ডেকে ৫০ টাকা বাড়িয়ে ৪০০ টাকা ও ভিআইপি কেবিনে হাজার টাকা বাড়িয়ে ৮ হাজার টাকা করা হয়েছে দাবি যাত্রীদের। তবে বাড়তি ভাড়া নেয়ার বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি সুরভী লঞ্চের মালিক, স্টাফ বা কোনো কর্মকর্তা। এছাড়াও বিভিন্ন লঞ্চে সোফা সিট ৭০০ থেকে বাড়িয়ে ৮০০ টাকা, সিঙ্গেল কেবিন সিট ১৪০০ থেকে ১৫০০, ডাবল কেবিন সিট ২৪০০ থেকে ২৬০০, ফ্যামিলি কেবিন ৩০০০ থেকে ৩৫০০, ভিআইপি কেবিন ৮ হাজার থেকে ৯ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ যাত্রীদের।
এদিকে বাড়ি ফিরতে ঘরমুখো যাত্রীরা গাবতলী বাস টার্মিনালে ভিড় জমালেও, বিভিন্ন গন্তব্যে টিকিট প্রতি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা বেশি গুনতে হচ্ছে। গতকাল বিকেলে গাবতলী বাস টার্মিনালে সরেজমিন দেখা যায়, যাত্রীরা ভিড় করছেন বিভিন্ন পরিবহনের কাউন্টারে। তবে তাদের অভিযোগ, ভাড়া আদায় হচ্ছে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা বেশি।
নাটোরের বনপাড়ার উদ্দেশে রওনা দেয়া ঢাকার বাসিন্দা শিহাব সাংবাদিকদের বলেন, অন্য সময়ে যেখানে বনপাড়া যেতে টিকিটের দাম নেয়া হতো ৫০০ টাকা, সেখানে আজ রাখা হচ্ছে ৯০০ টাকা। রংপুরের যাত্রী ইমরান জানান, অন্যান্য সময় সে ভাড়া রাখা হতো ৭০০ টাকা, ঈদ উপলক্ষে আজ রাখা হচ্ছে এক হাজার ১০০ টাকা।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের গাবতলী বাস টার্মিনালের কন্ট্রোল রুমের দায়িত্বে থাকা ফারুক হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, বাসগুলো ঢাকা থেকে যাত্রী নিয়ে ছেড়ে গেলেও, আসতে হচ্ছে খালি। এ কারণে আমাদের পথের খরচ পোষাতে কিছুটা বেশি ভাড়া নিতে হচ্ছে। এ অবস্থায় ভাড়া ও সময় বাঁচাতে যাত্রীদের অনেকে ভেঙে ভেঙে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দিতে দেখা গেছে।
যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, গণপরিবহন সঙ্কটকে কাজে লাগিয়ে একশ্রেণীর অতিলোভী কিছু অসাধু মালিক ও পরিবহন চাঁদাবাজদের নেতৃত্বে এবারের ঈদে ভাড়া নৈরাজ্যের এক শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। কিছু অসাধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের পৃষ্ঠপোষকতার কারণে সরকার নানাভাবে চেষ্টা করেও নৈরাজ্য বন্ধ করতে পারছে না।
যাত্রী কল্যাণ সমিতির পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ২৫ এপ্রিলের পর থেকে শহরাঞ্চলে রিকশা ভাড়া ২০ ভাগ বেড়ে গেছে। আগামীকাল থেকে এই ভাড়া ১০০ শতাংশ বেড়ে যেতে পারে। একই সাথে অটোরিকশা, ইজিবাইক ভাড়াও দ্বিগুণ তিনগুণ বাড়তি আদায় হচ্ছে। সব রুটে লেগুনা ভাড়া দ্বিগুণ আদায় করা হচ্ছে। সরকার ভাড়া নির্ধারণের ক্ষেত্রে চালক-সহকারীর বেতন ও দুই ঈদের ঈদ বোনাস যাত্রীসাধারণের কাছে থেকে আদায় করে নিলেও চালক সহকারীর বেতন বোনাস না দেয়ায় রাজধানীর বাস-মিনিবাসে ঈদের তিন দিন আগে থেকে ঈদের তিন দিন পর পর্যন্ত ওঠানামা সর্বনিম্ন ভাড়া ৫০ টাকা হারে আদায় করা হয়। এবারো এ হারে ভাড়া আদায়ের লক্ষ্যে চালক-শ্রমিক ও পরিবহন চাঁদাবাজরা মরিয়া হয়ে উঠেছে। অন্য দিকে রাজধানী ঢাকা থেকে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের মহোৎসব চলছে। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর, বিআরটিএ, জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত নানাভাবে তৎপরতা চালিয়ে, কাউন্টারে কাউন্টারে জরিমানা আরোপ করেও এই ভাড়া নৈরাজ্য ঠেকানো যাচ্ছে না। উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে যাত্রাপথে বিভিন্ন বাসে যাত্রীপ্রতি ১০০ থেকে ১২০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। নৌপথেও ভাড়া নৈরাজ্য চরমে ঠেকেছে। রেলে টিকিট কালোবাজারি, অনলাইনে টিকিট পেতে বিড়ম্বনা অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় এবার চরমে পৌঁছেছে। আকাশপথেও এহেন ভাড়া নৈরাজ্যের কারণে যাত্রীসাধারণ এখন দিশেহারা।
বরাবরের মতো এবারো আকাশপথে ভাড়া নৈরাজ্য চরমে পৌঁছেছে। ঢাকা-বরিশাল ৬১ অ্যারোনটিক্যাল মাইলের উড়োজাহাজের ভাড়া ১৫০০ কিলোমিটার দূরত্বের ঢাকা-ব্যাংককের ভাড়ার প্রায় দেড়গুণ বাড়তি আদায় করা হচ্ছে। এই রুটে ইউএস বাংলায় ৪০০০ টাকার ভাড়া এখন ১০৮০০ টাকা। নভোএয়ারের ৪৮০০ টাকার ভাড়া এখন ৮৪০০ টাকা। বাংলাদেশ বিমানে ৩০০০ টাকার ভাড়া ৭৪০০ টাকা। ঢাকা-সৈয়দপুর, ঢাকা-কক্সবাজার রুটে ৪৫০০ টাকার নিয়মিত ভাড়া ১০ থেকে ১২ হাজার টাকায় ঠেকেছে।
যাত্রী কল্যাণ সমিতির পর্যবেক্ষণ মতে, এদিকে সড়কপথে ঢাকা-চুয়াডাঙ্গা, বগুড়া, রাজশাহী, নওগাঁ, জয়পুরহাট, দিনাজপুর, পঞ্চগড়, কুড়িগ্রামসহ উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের প্রতিটি রুটে যাত্রীপ্রতি ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা হারে বেশি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। যা আগামীকাল থেকে দ্বিগুণে পৌঁছে যাবে। ঢাকা-রংপুর রুটে হানিফ এন্টারপ্রাইজের ভাড়া আগে ১০০০ টাকা নেয়া হলেও এখন ১৮০০ টাকা নেয়া হচ্ছে। এ রুটে ঈগল পরিবহনের ভাড়া ১২০০ টাকা নেয়া হলেও এখন ১৮০০ টাকা নেয়া হচ্ছে। শাহআলী পরিবহন ৮৫০ টাকার ভাড়া ১৪০০ টাকা নেয়া হচ্ছে। ঢাকা-লালমনিরহাট শুভ বসুন্ধরায় ৮০০ টাকার ভাড়া ১৩০০ টাকা নেয়া হচ্ছে। ঢাকা-পটুয়াখালী সাকুরা পরিবহনের এসি বাসে ১০০০ টাকার ভাড়া ১৪০০ টাকা নেয়া হচ্ছে। চট্টগ্রাম থেকে দেশের উত্তরাঞ্চলের পথে বিভিন্ন বাসে দ্বিগুণ ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। আবার কিছু কিছু রুটে স্বল্প দূরত্বে যেতে চাইলেও টিকিট নেই অজুহাত দিয়ে বেশি দূরত্বের টিকিট নিতে বাধ্য করা হচ্ছে। যেমন ঢাকা চট্টগ্রামের কেরানীহাট বা লোহাগাড়ার যাত্রীদের ১০০ কিলোমিটার বেশি দূরত্বে কক্সবাজারের টিকিট কিনতে হচ্ছে। অনুরূপ কেউ কাপ্তাই যেতে চাইলে তাকে রাঙ্গামাটির টিকিট কিনতে হচ্ছে। কেউ রাজশাহী যেতে চাইলে তাকে নওগাঁর টিকিট কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে।
আজ থেকে ঢল নামবে বাস টার্মিনালে: শেকড়ের টানে গ্রামে ফেরা মানুষের চাপ বাড়ছে রাজধানীর গাবতলী, মহাখালী ও সায়দাবাদ বাস টার্মিনালে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরের পর থেকে শুরু হয়েছে মানুষের চাপ। ধীরে ধীরে তা বাড়তে শুরু করেছে। টার্মিনালের কাউন্টারগুলো থেকে বলা হচ্ছে ‘অগ্রিম টিকিট বিক্রির ধরন অনুযায়ী গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে ঢাকা ছাড়তে শুরু করবে ঘরমুখো মানুষ। রাতে আরো বাড়তে থাকবে। আজ শুক্রবার সকাল থেকে ঘরমুখো মানুষের ঢল নামবে টার্মিনালগুলোতে। বৃহস্পতিবার দুপুরে বিকেলে গাবতলী বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা গেছে, ঢাকার বিভিন্ন স্থান থেকে যাত্রীরা আসছেন। ঈদের আগে শেষ কার্যদিবস হওয়ায় অফিস শেষ করেই ঘরমুখো মানুষ ছুটছেন গাবতলীসহ বিভিন্ন টার্মিনালে।
এ বছর লঞ্চ ও ট্রেনে অগ্রিম টিকিটের জন্য চাপ দেখা দিলেও বাসে তেমন কোন চাপ দেখা যায়নি। এমনকি বাড়ি ফেরার জন্য গতকাল সকালেও টার্মিনালগুলোতে তেমন ভিড় চোখে পড়েনি। বাসের কাউন্টারগুলো থেকে বলা হচ্ছে, আজ শুক্রবার থেকে ঈদের সরকারি ছুটি শুরু হচ্ছে। যার কারণে অনেকেই গতকাল বৃহস্পতিবার কিছু সময় অফিস করেই দুপুর থেকে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। রাত থেকে চাপ আরো বাড়বে বলে জানিয়েছেন তারা। তবে বরাবরের মতো এবারো বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ করছেন যাত্রীরা। এদিকে যাত্রীদের নিরাপত্তায় গাবতলী কাউন্টারে বসানো হয়েছে পুলিশ ও র‌্যাবের অস্থায়ী ক্যাম্প। কাজ করছে বিআরটিএ’র মোবাইল কোর্ট ও ভিজিলেন্স টিম। তবে ঈদকেন্দ্রিক বাসভাড়া বাড়ানোর অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা।
হানিফ এন্টারপ্রাইজের কাউন্টার ম্যানেজার হৃদয় বলেন, দুপুর পর্যন্ত যাত্রীর চাপ তেমন একটা ছিল না। তবে রাতে প্রচুর যাত্রী ঢাকা ছাড়বে। সন্ধ্যা থেকে আমাদের আধা ঘণ্টা পরপর গাড়ি ছাড়তে শুরু করবে। তিনি বলেন, এ বছর পর্যাপ্তসংখ্যক বাস প্রস্তুত রাখা হয়েছে। রাস্তায় কোন ঝামেলা না হলে সিডিউল বিপর্যয় হবে না। তবে দক্ষিণ-উত্তরবঙ্গের গাড়িগুলোর বিষয়ে চিন্তিত তারা। কারণ পদ্মা পার হতে ফেরিঘাটে কত সময় লাগবে তা নিশ্চিত করে বলা যাবে না। জমজম প্লাস পরিবহনের কাউন্টার ম্যানেজার রেজাউল করিম বলেন, দুপুরের পর থেকে যাত্রীর চাপ বাড়ছে। তবে পর্যাপ্ত গাড়ি থাকায় যাত্রীদের কোনো সমস্যা হবে না। আগামীকাল শনিবার থেকে সড়কে যানজট শুরু হতে পারে। তখন বাসের শিডিউল বিপর্যয় হতে পারে।
যাত্রী আনিসুর রহমান বলেন, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির পর ঢাকা-যশোর রুটে ভাড়া ধরা হয়েছিল ৫৫০ টাকা। কিন্তু ঈদ উপলক্ষে তা ৭০০ টাকা রাখা হচ্ছে। এদিকে গুলিস্তান সায়দাবাদ হয়ে খুলনা-পিরোজপুর, বাগেরহাট-গোপালগঞ্জগামী বাসগুলো প্রায় সারারাত চলাচল করবে। তারা সকালের ট্রিপ শুরু করেছে ভোর রাত ৩টা থেকে। এরপর প্রতি ঘণ্টা পরপরই গাড়ি ছাড়বে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিআরটিএ’র নির্বাহী ম্যাজিস্ট্র্রেট ফখরুল আহমেদ বলেন, বাড়তি ভাড়া বা অন্য কোনো বিষয়ে এখনো কোনো জরিমানা বা শাস্তি দেয়া হয়নি। তবে অভিযোগ এসেছে। আমরা যাত্রীকে নিয়ে অভিযোগ ক্ষতিয়ে দেখেছি। বাস কাউন্টারগুলো থেকে বলা হচ্ছে, ঢাকা ছাড়ার সময় যাত্রী পূর্ণ থাকলেও ফেরার সময় প্রতিটি বাসই খালি আসে। বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখে কোনো কোনো পরিবহন সামান্য বেশি ভাড়া নিয়ে থাকতে পারে।
ভোগান্তি নিয়েই ঢাকা ছাড়ছেন ট্রেনযাত্রীরা : নিরাপদ বাহন ট্রেনে ভ্রমণ করেও স্বস্তি পাচ্ছেন না ঈদে ঘরমুখো যাত্রীরা। গতকালও ট্রেনের যাত্রীরা ভোগান্তি সাথে নিয়েই রওয়ানা হন। এ সময় কোনো কোনো ট্রেনের যাত্রীরা যাত্রার আগেই কমলাপুর রেলস্টেশনে অপেক্ষা আর ভোগান্তি সহ্য করে তারপর ঢাকা ছেড়েছেন। অবশ্য এই সংখ্যা দু-তিনটি ট্রেনের ক্ষেত্রে ঘটেছে বলে কমলাপুর স্টেশনে আগত যাত্রী ও সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত শিডিউল অনুযায়ী সবগুলো ট্রেন যথাসময়ে (এদিক ওদিক) ছেড়ে গেছে। একমাত্র উত্তরবঙ্গগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি দুই ঘণ্টারও বেশি সময় পর স্টেশন ত্যাগ করে। এতে ওই ট্রেনের যাত্রীদের প্লাটফরমে অপেক্ষায় থাকতে হয়। এ সময় তারা কর্তৃপক্ষের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন। আবার বিপরীত চিত্রও ছিল। যেসব ট্রেন যথাসময়ে ছেড়ে গেছে ওই ট্রেনগুলোর যাত্রীদের ট্রেনের ভেতর উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা যায়।
জানা যায়, গতকাল বৃহস্পতিবার ৬টা ৪০ মিনিটে চিলাহাটির উদ্দেশে নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি স্টেশন ত্যাগ করার কথা ছিল। সেই ট্রেনটি নির্ধারিত সময়ের দুই ঘণ্টারও বেশি পর অর্থাৎ ৮টা ৫০ মিনিটে চিলাহাটির উদ্দেশে ছেড়ে যায়। চট্টগ্রামগামী কর্ণফুলী কমিউটার ট্রেন স্টেশন ছাড়ার কথা ছিল সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে। সেটিও নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে ছেড়ে গেছে।
২৭ এপ্রিল ঈদে ট্রেনযাত্রা শুরু হয়। প্রথম দিনের প্রথম ট্রেনই সময় মেনে ছেড়ে যেতে পারেনি। এর পর থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বেশ কয়েকটি ট্রেন সময় মেনে ছেড়ে যেতে পারেনি। এতে ঢাকার যানজটের মধ্যেও যথাসময়ের আগে স্টেশনে উপস্থিত হওয়া যাত্রীদের মধ্যে দেখা দেয় ক্ষোভ।
চিলাহাটিগামী ট্রেনের যাত্রীদের কয়েকজনের সাথে কথা বললে তারা বলেন, প্রতি বছর ট্রেনে আমরা যারা নিয়মিত ঈদে বাড়ি যাই তাদেরকে ট্রেন কর্তৃপক্ষ জন্মের শিক্ষা দিয়ে তারপর ঈদ করতে পাঠায়। নতুবা অগ্রিম টিকিট কিনতে কেন ভোগান্তি পোহাতে হবে, কী কারণে আবার স্টেশনে আসার পর আমাদের পরিবার নিয়ে প্লাটফরমে অপেক্ষা করতে হবে? এগুলো বছরের পর বছর চলতেই থাকবে? এর কি কোনো সহজ সমাধান নেই? রেল কর্তৃপক্ষ এমন সিস্টেম করুক যেটা করলে শুধু ট্রেনের আসনের লোকগুলো সুন্দর এবং স্বাচ্ছন্দ্য বাড়ি যেতে পারে।
মাসুদ পারভেজ নামের একজন যাত্রী বলেন, সড়কের ভোগান্তির কথা ভেবে অনেকটা যুদ্ধ করে ট্রেনের টিকিট কিনেছি। এরপরও স্টেশনে এসে আরেক দফা ভোগান্তি। যখন ট্রেন আসার কথা তখন সেই ট্রেন আসে না। এক দিকে গরম অপর দিকে স্টেশনের ভেতরে টয়লেট ব্যবহারের ব্যবস্থা নেই। তাহলে কিভাবে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ আধুনিক সেবা নিশ্চিত করবে ?
দু-একটি ট্রেনের যাত্রীদের অবর্ণনীয় ভোগান্তি হলেও ঢাকা থেকে বিকেল পর্যন্ত ছেড়ে যাওয়া অধিকাংশ ট্রেনের শিডিউল ঠিক ছিল। এসব ট্রেনের যাত্রীরা ছিলেন উল্লসিত। গতকালও ঢাকা থেকে মোট ৫৩ হাজার যাত্রী গন্তব্যের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন। এরমধ্যে আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রী ২৭ হাজার। অগ্রিম টিকিটের যাত্রীরা আগামী ১ মে পর্যন্ত গন্তব্যর উদ্দেশে ছুটবেন।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।