চুয়াডাঙ্গা সোমবার , ১৮ জুলাই ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ভালো আছে সেই নবজাতক

সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
জুলাই ১৮, ২০২২ ২:৫৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

সমীকরণ প্রতিবেদন: মাবাবা কত আপন তা বোঝার মতো বোধশক্তি নেই সেই নবজাতকটির। শনিবার যন্ত্রদানবের নিষ্ঠুর শিকারে বাবামা আর বড় বোনকে হারিয়ে পৃথিবীতে আসে সে। এরপরও কান্নাকাটি নেই, দিব্যি খাচ্ছে, হাসছে। খেলতে খেলতে ঘুমিয়েও পড়ছে। তাকে সুস্থ করে তোলার জন্য চেষ্টার কোনো কমতি রাখছেন না চিকিৎসকরা। বর্তমানে শিশুটি ময়মনসিংহ নগরীর চরপাড়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। কমিউনিটি বেজড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. কামরুজ্জামান জানিয়েছেন, নিয়মিত বুকের দুধ খাচ্ছে। তার ডান হাতের দুই জায়গায় আঘাতপ্রাপ্ত হলেও আশঙ্কামুক্ত আছে। পুরোপুরি সুস্থ হতে সপ্তাহ দুয়েক লাগবে। রবিবার সকালে সরেজমিনে রায়মণি ফকির বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, ঘরের পেছনে একসঙ্গে নতুন তিনটি কবর। যেখানে চিরনিদ্রায় শায়িত হয়েছে দিনমজুর জাহাঙ্গীর আলম, তার স্ত্রী রত্না মেয়ে সানজিদা। একসঙ্গে তিনজনকে হারিয়ে তাদের কবরের পাশে বসে অনবরত বিলাপ করছিলেন মা সুফিয়া আক্তার। দাদির পাশে ছলছল চোখ নিয়ে বাবামাবোনকে হারিয়ে জাহাঙ্গীররত্না দম্পতির ১০ বছর বয়সী মেয়ে জান্নাত সাত বছর বয়সী ছেলে এবাদত নির্বাক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। শনিবার রাত ১০টার দিকে নিহতদের জানাজা শেষে সেখানেই দাফন করা হয়। অথচ নতুন শিশুর আগমনে বাড়িটির গোটা আঙিনায় থাকার কথা ছিল আনন্দউচ্ছ্বাস। একটি দুর্ঘটনা কেড়ে নিয়েছে সবকিছু, আনন্দের সময়টাকে পরিণত করেছে বিষাদে। এমন ঘটনায় শোকে স্তব্ধ শুধু রায়মণি গ্রামই নয় শোকের ছায়া নামে পুরো ত্রিশাল উপজেলায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমন হৃদয়বিদারক ঘটনা নাড়া দিয়েছে গোটা দেশকে। জানা যায়, নিহত জাহাঙ্গীরের বাবা মোস্তাফিজুর রহমান বাবলু মা সুফিয়া আক্তার দুজনই শারীরিক প্রতিবন্ধী। তারা জানান, জায়গা না থাকায় বাড়ির পাশেই বানানো হয়েছে কবরস্থান। থাকার ঘরটিও ভাঙা টিন আর মাটির তৈরি। দরিদ্র পরিবারে মোস্তাফিজই ছিল উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তাকেসহ তিনজনকে একসঙ্গে হারিয়ে আরও অসহায় হয়ে পড়েছেন তারা। এখন নবজাতকসহ তিন সন্তানের ভবিষ্যৎও অনেকটা অনিশ্চয়তার মুখে। শনিবার দুপুরে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে নিয়ে ত্রিশাল উপজেলার রায়মণি গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম তার স্ত্রী রত্না আক্তার এবং সঙ্গে ছয় বছরের মেয়ে সানজিদা আক্তারকে নিয়ে ত্রিশাল পৌর শহরে আসেন। সেখানে ঢাকাময়মনসিংহ মহাসড়ক পার হওয়ার সময় খান ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনে ময়মনসিংহগামী পিঁয়াজ ভর্তি একটি ট্রাক তাদের চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই জাহাঙ্গীর আলম তার স্ত্রী রত্না আক্তার এবং ছয় বছরের মেয়ে সানজিদা আক্তার মারা যায়। তখন রত্না আক্তারের পেট ফেটে নবজাতক মেয়ে ভূমিষ্ঠ হয়। এদিকে শিশুটিকে অনেকেই দত্তক নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করছেন। তবে স্বজনরা অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। নবজাতক ছাড়াও নিহত দম্পতির আরও এক ছেলে এবং মেয়ে রয়েছে। পরিবারটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।