চুয়াডাঙ্গা বৃহস্পতিবার , ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ভারত থেকে শূন্য হাতে ফিরিনি : সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী

সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২২ ৯:০৪ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

Girl in a jacket

সমীকরণ প্রতিবেদন:
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ভারত সফর শেষে তিনি একেবারে শূন্য হাতে ফিরেননি। ভারতের সঙ্গে সই হওয়া সমঝোতা স্মারকের বিষয় তুলে ধরে তিনি বলেন, মনে হয় না একেবারে শূন্য হাতে ফিরেছি। ভারত সফর উপলক্ষে গতকাল বুধবার আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী এই কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নের জবাবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক নানা বিষয় নিয়েও কথা বলেন তিনি। ইউএনবি সম্পাদক ফরিদ হোসেন প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানতে চেয়েছিলেন, এই সফরে বাংলাদেশ কী পেলো? উত্তরে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের যে ভৌগোলিক অবস্থা, চারিদিকে ভারত, একটুখানি মিয়ানমার, তারপর বে অব বেঙ্গল। বন্ধুপ্রতীম দেশ থেকে ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষি, যোগাযোগ সব বিষয়ে সহযোগিতাটা আমরা পাই। নুমালিগড় থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল নিয়ে আসছি। সেই লাইনটা কিন্তু ভারত নির্মাণ করে দিচ্ছে। দিনাজপুরের পার্বতীপুর ডিপোতে এই তেলটা থাকবে। উত্তরবঙ্গে আর সুদূর চট্টগ্রাম থেকে বাঘাবাড়ি হয়ে তেল যেতে হবে না। রিফাইন করা তেল ওখান থেকেই আসবে। অর্থনৈতিক কর্মচাঞ্চল্য আরও বাড়বে। পাশাপাশি ভারত থেকে এলএনজি আমদানির ব্যাপারেও আলোচনা হয়েছে। ভারত যে এলএনজি নিয়ে আসছে সেখান থেকে খুলনা অঞ্চলের জন্য যেন এলএনজি পেতে পারি সেই আলোচনা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মনে হয় না যে একেবারে শূন্য হাতে ফিরে এসেছি। সাংবাদিক মনজুরুল আহসান বুলবুল প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন করেন, আপনি সফরে যাওয়ার আগে একটি কথা বলেছিলেন যে, আপনি প্রত্যাশা করেন ভারত আরও নানা বিষয়ে উদার হবে। এই সফরে আপনার প্রত্যাশিত উদারতা নিয়ে আপনার মন্তব্য কী? তাদের আচরণ বা কথায় সেই উদারতা পেয়েছেন কিনা? জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যথেষ্ট আন্তরিকতা আমি পেয়েছি। ভারতের প্রধানমন্ত্রী, প্রেসিডেন্ট বা অন্য যার যার সঙ্গে কথা হয়েছে, তাদের আন্তরিকতা সবসময় ছিল, আছে। আপনারা জানেন একটা বিষয়, বাংলাদেশের বিষয়ে ভারতের সব দল-মত এক থাকে। এটা হলো বড় কথা। অতীতের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে ভারতের সব দল-মত, জনগণ এক হয়ে আমাদের সমর্থন দিয়েছিল। আবার আমরা যখন স্থল সীমানা চুক্তি বাস্তবায়ন করি, যখন ছিটমহল বিনিময় করি, তখন দেখেছেন, ভারতের পার্লামেন্টে যখন আইনটা পাস হয়, তখন কিন্তু সব দল এক হয়ে স্থল সীমানা চুক্তি আইন তারা পাস করেছিল। বন্ধুপ্রতীম দেশ তাদের সঙ্গে অবশ্যই সুসম্পর্ক থাকবে। তবে তিস্তা চুক্তির মতো কিছু বিষয় যে আটকে আছে, সে দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, এটা বাস্তব যে, পাশাপাশি একটি দেশের সঙ্গে নানা সমস্যা থাকতে পারে। আমি সবসময় মনে করি যে, সমস্যাগুলো আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা যায়। সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মঞ্চে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া সংবাদ সম্মেলনে সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্য, আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত চলেন। আওয়ামী লীগের দরজা খোলা: আগামী নির্বাচন আওয়ামী লীগ ১৪ দল নাকি মহাজোটগত ভাবে করবে এমন প্রশ্নের জবাবে দলটির সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, এ বিষয়টা তো সময় আসলে বলতে পারবো। আমরা ১৪ দল করেছি। আমরা জোটবদ্ধভাবে নির্বাচন করেছি। জাতীয় পার্টি আমাদের সঙ্গে ছিল, কিন্তু তারা আলাদা নির্বাচন করেছে। আমাদের সঙ্গে একটা সমঝোতা ছিল। আর আগামী নির্বাচনে কে কোথায় থাকবে, সেটা তো সময়ই বলে দেবে। আর আওয়ামী লীগ উদারভাবে কাজ করে, আওয়ামী লীগের দরজা খোলা। তিনি বলেন, আমরা সরকারে আসার পর সারা দেশের ব্যাপক উন্নয়ন করেছি। যোগাযোগ ব্যবস্থা, নিজেদের অর্থায়নে পদ্মা সেতু, গৃহহীনদের গৃহ তৈরি করে দেয়া, দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করা, গবেষণার সুযোগ তৈরি করা; এভাবে সার্বিক দিক থেকে অর্থনীতি থেকে শুরু করে ব্যবসা-বাণিজ্য, কর্মসংস্থান করেছি। আমাদের উন্নয়নের সবচেয়ে বড় কথা একেবারে তৃণমূল পর্যায় থেকে আমরা উন্নয়নটা করে যাচ্ছি। বিনা পয়সার করোনার টিকা দিয়েছি। এত কাজ করার পরে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি- অবশ্যই জনগণ আওয়ামী লীগকেই ভোট দেবে। যদি এই চলমান উন্নয়নের ধারাটা অব্যাহত রাখতে চান। না চাইলে তো কিছু করার নেই। সেটা জনগণের বিষয়। নির্বাচনে সব সময় যারা আমাদের সঙ্গে তারা আমাদের সঙ্গে থাকবে। এতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের সঙ্গে কে থাকবে না থাকবে, নতুন জোট হবে, হোক। অসুবিধা নাই তো। সবাই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুক সেটাই আমরা চাই। আর যদি কেউ না করে, এটা যার যার দলের সিদ্ধান্ত। সেজন্য তো আমরা আমাদের সংবিধান বন্ধ করে রাখতে পারি না। সংবিধানের ধারা অনুযায়ী গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত থাকবে। আমরা চাই- গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত থাকুক। আগাম বার্তা দেবে ভারত: সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী জানান, চিনি, পিয়াজ, আদা, রসুনের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য রপ্তানি বন্ধের আগে বাংলাদেশকে আগাম বার্তা দেবে ভারত। সে অনুযায়ী সরকার পদক্ষেপ নেবে। তিনি বলেন, সফরকালে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিষয়ে সহযোগিতা, ভারতের মধ্য দিয়ে নেপাল ও ভুটান থেকে বিদ্যুৎ আমদানির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। বৈঠক শেষে দুই দেশের মধ্যে ৭টি এমওইউ বা সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। তিনি আরও বলেন, এবারের সফরে গঙ্গার পর প্রথমবারের মতো অভিন্ন নদী কুশিয়ারা থেকে সুরমা-কুশিয়ারা প্রকল্পের আওতায় ১৫৩ কিউসেক পানিবণ্টনে আমরা একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছি।

এই সমঝোতা স্মারকের ফলে রহিমপুর সংযোগ খালের মাধ্যমে ৫ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা পাওয়া যাবে। এছাড়া পরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তন, সাইবার নিরাপত্তা, মহাকাশ প্রযুক্তি, গ্রীন ইকোনমি, সুনীল অর্থনীতি, সাংস্কৃতিক ও জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ বৃদ্ধিসহ প্রভৃতি ক্ষেত্রে সহযোগিতার বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। অনেক স্বনামধন্যের তথ্য আমার কাছে আছে: দেশ থেকে অর্থপাচার নিয়ে অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অর্থপাচারকারী এমন অনেকের তথ্য আছে সেটা আপনারা (সাংবাদিক) লিখবেন কিনা সন্দেহ। আমি সোজা কথা বলি, অনেক স্বনামধন্যের তথ্য আমার কাছে আছে। দুর্নীতি দমন কমিশন আর বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। সামনে তাদের নাম আসবে, তবে আপনারা ছাপাবেন কিনা আমি সেটা দেখবো। সিআইডি’র মাধ্যমে আমরাই তো অর্থপাচারের ঘটনা বের করেছি, সাংবাদিকরা তো উদ্ঘাটন করতে পারেননি। তিনি বলেন, দ্বিতীয় কথা হচ্ছে অর্থপাচারকারীর তথ্য নেয়া হচ্ছে। সুইস ব্যাংকে কিন্তু আমরা বহু আগে ডিমান্ড পাঠিয়েছিলাম। আমরা তালিকা চেয়েছিলাম। কিন্তু তালিকা আসেই নাই। মানিলন্ডারিং বন্ধে যথেষ্ট উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। আর ডলার সংকট বাংলাদেশের একার না, বিশ্বব্যাপী। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর আমেরিকা স্যাংকশন দিলো, তাতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে গেল। আমরা তাদের কখনোই ছেড়ে দেই না: অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সবাই যার যার ধর্ম যেন শান্তিপূর্ণভাবে পালন করতে পারে, সেই পরিবেশ আমরা বাংলাদেশে ভালোভাবে ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছি। কিছু কিছু ঘটনা ঘটে বা ঘটানো হয়, তারপরও যারা অপরাধী আমরা তাদের বিরুদ্ধে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেই। আমরা তাদের কখনোই ছেড়ে দেই না। পাইপ লাইনে জ্বালানি আসবে বাংলাদেশে: সংবাদ সম্মেলনে জ্বালানি সংকটের সমস্যার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারতের শিলিগুড়ি থেকে বাংলাদেশের দিনাজপুরের পার্বতীপুর পর্যন্ত ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল আসবে। ফলে তেল পরিবহনের খরচ অনেকটা কমে যাবে। এ প্রকল্পের আওতায় ১৩১ দশমিক ৫৭ কিলোমিটার পাইপলাইন রয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ অংশে রয়েছে ১২৬ দশমিক ৫৭ এবং ভারত অংশে ৫ কিলোমিটার পাইপলাইন ভারত সরকারের অর্থায়নে নির্মাণ কাজ চলছে। তিনি বলেন, নুমালিগড় থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল নিয়ে আসছি। সেই লাইনটা কিন্তু ভারত নির্মাণ করে দিচ্ছে। দিনাজপুরের পার্বতীপুর ডিপোতে এই তেলটা থাকবে। উত্তরবঙ্গে আর সুদূর চট্টগ্রাম থেকে বাঘাবাড়ী হয়ে তেল যেতে হবে না। রিফাইন করা তেল ওখান থেকেই আসবে। অর্থনৈতিক কর্মচাঞ্চল্য আরও বাড়বে। উত্তর বঙ্গের মঙ্গা আমরা দূর করেছি। পাশাপাশি ভারত থেকে এলএনজি আমদানির ব্যাপারেও আলোচনা হয়েছে। রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভারত ইতিবাচক: রোহিঙ্গা ইস্যুতে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ভারতকে আমরা বলেছি তারা যেন মিয়ানমার ইস্যুতে সহযোগিতা করে। তাদের ইতিবাচক সাড়া পেয়েছি। কিন্তু সমস্যা হয়ে গেছে মিয়ানমারের সরকারকে নিয়ে। যে যতই চাপ দিক এরা কোনো ব্যাপারই নেয় না। এরা নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব-সংঘাতে লিপ্ত আছে। এখানেই বড় সমস্যা।

কিন্তু ভারত মনে করে এটার সমাধান হওয়া উচিত। রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভারতের মনোভাব কী জানতে চাইলে সরকার প্রধান বলেন, ভারত এটা উপলব্ধি করে যে আমাদের এখানে রোহিঙ্গাদের দীর্ঘদিন অবস্থান একটা সংকট সৃষ্টি করছে। ‘হট টক’ করে তাদের প্রশ্ন করতে পারেন না?: যারা সমালোচনা করে তাদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বন্যা নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে আমরা একটি স্মারক সই করলাম। তার মাধ্যমে সিলেট বিভাগের বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন হবে। এসব বিষয় নিয়ে যারা সমালোচনা করে তারা কী এনেছিলেন? তারা তো সবকিছু ভুলে যান। তিনি বলেন, কুশিয়ারার পানি বণ্টনে সমঝোতা নিয়ে অনেকেই সমালোচনা করছেন। কতটুকু পানি এলো সেটা নিয়ে তাদের এই সমালোচনা। আমরা যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করলাম, এর ফলে পুরো সিলেট বিভাগ বিশেষ করে সিলেটের গোলাপগঞ্জ, ফেঞ্চুগঞ্জ, বিয়ানীবাজার, কানাইঘাট, সিলেট সদর, জকিগঞ্জ উপজেলার ৫৩ হাজার ৮২০ হেক্টর এলাকায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন হবে। সেচ প্রদানের জন্য আমরা উদ্যোগ নিয়েছি। এতগুলো জমি চাষের আওতায় এসে ফসল দেবে, সেই ফসল আমাদের দেশের মানুষেরই কাজে লাগবে।

Girl in a jacket

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।