চুয়াডাঙ্গা শুক্রবার , ৪ জুন ২০২১
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ভারত থেকে আসছে চুল, ভারতীয় ধরণ ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা!

সমীকরণ প্রতিবেদন
জুন ৪, ২০২১ ১১:০৭ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

মুজিবনগরের সীমান্তের গ্রামগুলোতে চুলের ক্যাপ তৈরির জমজমাট ব্যবসা
প্রতিবেদক, মুজিবনগর:
মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার ভারত সীমান্তবর্তী কয়েকটি গ্রামে পরচুলা (চুলের ক্যাপ) তৈরির কারখানা গড়ে উঠেছে। কম মজুরিতে এসব কারখানায় শিশুসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ কাজ করছেন। এসব কারখানার মালিকরা লাভবান হলেও মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি। এলাকাবাসীর অভিযোগ, চোরাপথে আসা এসব কারখানায় ভারতের করোনা আক্রান্ত রোগীর কেটে ফেলা চুল ব্যবহৃত হচ্ছে। এখনই এর নিয়ন্ত্রণ না করা গেলে এলাকায় করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাবে।
স্থানীয়রা জানান, মুজিবনগর উপজেলার আম্রকানন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সোহরাব হোসেনের ভবরপাড়া, সোনাপুর ও নাজিরাকোনা গ্রামে ৪টি, বাগোয়ান ইউনিয়নের ইউপি সদস্য ভবরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মি. দিলিপ মল্লিকের ভবরপাড়া গ্রামে ৪টিসহ এলাকায় মোট ৬টি, আনন্দবাস গ্রামের মামুনের ভবরপাড়া ও সোনাপুর গ্রামে ২টি, সোনাপুর গ্রামের আলতাব হোসেনের একই গ্রামের পশ্চিমপাড়ায় একটি, মাঝপাড়া গ্রামের তেঁতুলতলায় ওই গ্রামের মিলনের একটি, সোনাপুর গ্রামের কলোনীপাড়ায় ওই গ্রামের রাবেয়া খাতুনের ২টি ও পশ্চিশপাড়ায় সোনাপুর গ্রামের বাশারের একটি পরচুলা (চুলের ক্যাপ) তৈরির কারখানা আছে। এসব কারখানায় দামুড়হুদা উপজেলার বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে আসা চুল ব্যবহার করা হচ্ছে।
স্থানীয় সোনাপুর গ্রামের ইউপি সদস্য সোহরাব হোসেন বলেন, ভারতের করোনা রোগীর কেটে ফেলা এসব চুল চোরাপথে আসা এবং এসব কারখানায় তা ব্যবহার হচ্ছে। এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, কারখানার কারিগররা কোনো প্রকার সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখছে না ও করোনাভাইরাস প্রতিরোধে কোনো প্রকার মাস্ক ব্যবহার করছেন না। ছোট্ট ঘরে একই সাথে অনেকগুলো মানুষ কাজ করছেন। এতে স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না। ওই সব কারখানার কারিগরসহ সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে। এখনই এসব কারখানা বন্ধ করে দেওয়া দরকার।
স্থানীয়রা আরও জানান, মুজিবনগর উপজেলা সংলগ্ন চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলার কুতুবপুর গ্রামের শরিফুল ইসলাম, জাহাজপোতা গ্রামের আব্বাস, মুজিবনগর উপজেলার আনন্দবাস গ্রামের সামাদসহ এলাকার বেশ কিছু অসাধু ব্যবসায়ী মুজিবনগর এলাকায় চুল বিক্রি করে যাচ্ছেন। এসব অপরিস্কার ভারতীয় চুল মুজিবনগর উপজেলার গৌরীনগর খালপাড়ার লিয়াকত, মহিষনগর গ্রামের জালাল মিস্ত্রী, গৌরীনগর গ্রামের কিবরিয়া, ভবেরপাড়া গ্রামের জামান, একই গ্রামের রাজ্জাকের বাড়িসহ এলাকার প্রায় ১৫-২০টি বাড়িতে পরিস্কার ও লম্বা চুল বাছাই করা হচ্ছে। ছোট ছেলে-মেয়ে পরিস্কার করে থাকে। এক্ষেত্রে তাদের স্বাস্থ্যবিধির কোনো বালাই নেই।
মুজিবনগর উপজেলার আম্রকানন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সোহরাব হোসেন বলেন, ‘ঢাকাতে আছে বায়ার। যাদের মাধ্যমে আমরা পরচুলা (চুলের ক্যাপ) তৈরির কাজ পাই। তারা চীন থেকে আমদানী করা পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন জীবাণুমুক্ত চুল বিভিন্ন কুরিয়ার ও পরিবহনের মাধ্যমে আমাদের কারখানায় পৌঁছে দেয়। আমাদের এসব কারখানাগুলোতে বিধবা, স্বামী পরিত্যক্তা মহিলা, বেকার যুবক-যুবতীরা ওই চুল দিয়ে চীনের চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন ধরণের পরচুলা (চুলের ক্যাপ) তৈরি করে। পরে ওইগুলো আমরা ঢাকার বায়ারের কাছে পৌঁছে দেয়।’
এদিকে ইউপি সদস্য ভবরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মি. দিলিপ মল্লিক জানান, ‘আমরা কখনই ভারত থেকে আসা চুল আমাদের কারখানায় ব্যবহার করি না। হতে পারে আমাদের কারখানায় ব্যবহৃত চুল বাংলাদেশ, ভারত কিংবা চীনের, যা আমরা আমরা বায়ারের মাধ্যমে পাই। আমাদের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শ্রমিকরা বায়ারদের অর্ডার মোতাবেক কাজ করে তাদের হাতে পৌঁছে দেয়।’
বাগোয়ান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আইয়ূব হোসেন বলেন, ‘আমরা চাইনা করোনাভাইরাস মহামারি আকার ধারণ করুক। আমি অতিসত্ত্বর মাইকিং করে এ ব্যবসা বন্ধের আদেশ দেব এবং এ ব্যাপারে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করব।’
এদিকে মুজিবনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুজন সরকার বলেন, ‘আমরা মুজিবনগর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে করোনা রোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য কাজ করে যাচ্ছি। আমরা নিয়মিত প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছি, মাস্ক বিতরণ করছি, ভ্রাম্যমাণ আদালত বসাচ্ছি। আমরা প্রয়োজনে অভিযান চালিয়ে চুলের এ ব্যবসা বন্ধ করে দেব।’

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।