চুয়াডাঙ্গা শনিবার , ৫ জুন ২০২১
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত দুজন চুয়াডাঙ্গায়

সমীকরণ প্রতিবেদন
জুন ৫, ২০২১ ৯:০৯ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

উপসর্গে মৃত্যু হওয়া দুজনের নমুনায় করোনা শনাক্ত, নতুন আক্রান্ত ৭
নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গায় উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হওয়া আরও দুজনের নমুনায় করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। গত বুধবার পৃথক সময়ে সদর হাসপাতালের ইয়োলো জোনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই দুজনের মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পর নিহতদের শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য প্রেরণ করা হয়। এবং করোনা প্রটোকলে তাঁদের লাশ পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়। নিহতরা হলেন- দামুড়হুদা উপজেলার বদনপুর গ্রামের শাহ জাহানের স্ত্রী আনজিরা খাতুন (৭২) ও একই উপজেলার কুতুবপুর গ্রামের মৃত নহর মণ্ডলের ছেলে আমজাদ হোসেন (৭০)। এদিকে, চুয়াডাঙ্গা ও খুলনায় ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত বিভিন্ন জেলার তিনজন চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) এ তথ্য প্রকাশ করেছে।
জানা যায়, রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) এবং ইনস্টিটিউট ফর ডেভেলপিং সায়েন্স অ্যান্ড হেলথ ইনিশিয়েটিভস (আইডিএসএইচআই) করোনাভাইরাসের ৫০টি নমুনার জিনোম সিকোয়েন্স করেছে। জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ে এসব তথ্য জানা গেছে। দেশে সংক্রমণের ৮০ শতাংশই ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট (ইন্ডিয়া ভ্যারিয়েন্ট) বলে গবেষণায় পাওয়া গেছে। আইইডিসিআর এর তথ্য মতে দেশে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টের কমিউনিটি ট্রান্সমিশন বা সামাজিক সংক্রমণ হয়েছে। সেই সঙ্গে দেশে আরেকটি অজানা ভ্যারিয়েন্টও শনাক্ত হয়েছে। জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের ফলাফলে দেখা গেছে, ৫০টি নমুনার মধ্যে ৪০টি ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট অর্থাৎ ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট, যেটা বি.১.৬১৭.২ নামে পরিচিত।
গত বুধবার বেলা ১১টার দিকে সর্দি, কাশিসহ নানা রোগে আক্রান্ত আনজিরা খাতুনকে সদর হাসপাতলের জরুরি বিভাগে নেয় পরিবারের সদস্যরা। শরীরের করোনা উপসর্গ থাকায় কর্তব্যরত চিকিৎসক আনজিরা খাতুনকে হাসপাতালের ইয়োলো জোনে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওইদিনই দুপুর ১২টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়। একইদিকে সদর হাসপাতালের ইয়োলো জোনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় করোনা উপসর্গ নিয়ে আমজাদ হোসেন (৭০) নামের অন্য এক বৃদ্ধর মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পর দুজনের শরীর থেকেই নমুনা সংগ্রহ করে করেনা পরীক্ষার প্রেরণ করে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। গতকাল তাঁদের নমুনার ফলাফল পজিটিভ আসে।
এদিকে, গতকাল চুয়াডাঙ্গায় নতুন করে আরও সাতজনের নমুনায় করোনা শনাক্ত হয়েছে। এনিয়ে জেলায় মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৫৮ জনে। গতকাল শুক্রবার রাত নয়টায় জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ এ তথ্য নিশ্চিত করে। গতকাল কুষ্টিয়া পিসিআর ল্যাব থেকে প্রাপ্ত ৫০টি নমুনার ফলাফল সিভিল সার্জন অফিস প্রকাশ করে। এর মধ্যে সাত জনের নমুনায় করোনা শনাক্ত হয়েছে। বাকী ৪৩টি নমুনার ফলাফল নেগেটিভ আসে। গতকাল নতুন আক্রান্ত ৭ জনের মধ্যে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার দুজন, আলমডাঙ্গার একজন ও দামুড়হুদা চারজন রয়েছে। জেলায় মোট শনাক্তদের মধ্যে সদর উপজেলার ১ হাজার ৫০ জন, আলমডাঙ্গায় ৩৭১ জন, দামুড়হুদায় ৪২৫ জন ও জীবননগরে ২১২ জন। গতকাল জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ করোনা পরীক্ষার জন্য কোন নমুনা সংগ্রহ করেনি। এখন পর্যন্ত জেলায় মোট নমুনা সংগ্রহের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ৩৫৮ জনে। গতকাল জেলা থেকে নতুন কেউ সুস্থ হয়নি। এখন পর্যন্ত জেলায় মোট সুস্থ্য হয়েছে ১ হাজার ৮২০ জন। এর মধ্যে সদর উপজেলার ৯৭৩ জন, আলমডাঙ্গার ৩৪০ জন, দামুড়হুদায় ৩১৫ জন ও দামুড়হুদায় ১৯২ জন সুস্থ হয়েছেন।
চুয়াডাঙ্গায় ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টের বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা সিভিল সার্জন ডা. এএসএম মারুফ হাসান বলেন, ‘সম্প্রতি দর্শনা চেকপোস্ট দিয়ে ভারতে আটকা পড়া বাংলাদেশিরা দেশে প্রবেশ করেছে। তাঁদের মধ্যে বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে দেশে প্রবেশ করা আলমডাঙ্গা উপজেলার করোনা আক্রান্ত কিশোরসহ দর্শনা চেকপোস্ট দিয়ে দেশে প্রবেশ করা করোনা আক্রান্ত ১১ জনের মধ্যে দুইজনের নমুনায় ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট থাকতে পারে সন্দেহে মোট তিনটি নমুনা জিনোম সিকোয়েন্সের জন্য আইইডিসিআর-এ প্রেরণ করা হয়েছে। তবে তাঁদের নুমনার জিনোম সিকোয়েন্সের ফলাফল এখন পর্যন্ত আমদের হাতে এসে পৌঁছাইনি। ধারণা করা হচ্ছে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হওয়া ভারত ফেরত ওই কিশোরের নমুনায় ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হতে পারে।’
চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন অফিসের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী জেলা থেকে এ পর্যন্ত মোট নমুনা সংগ্রহ ১০ হাজার ৩৫৮টি, প্রাপ্ত ফলাফল ১০ হাজার ১৪২টি, পজিটিভ ১ হাজার ৫৮ জন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত চুয়াডায় ১৬৮ জন করোনাক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন। এর মধ্যে সদর উপজেলায় অবস্থানকালে আক্রান্ত হয়েছেন ৪৯ জন, আলমডাঙ্গায় ১১ জন, দামুড়হুদায় ৯৩ জন ও জীবননগরে ১৫ জন। আক্রান্তদের মধ্যে বর্তমানে ১৩৮ জন হোম আইসোলেশনে আছেন। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৪০ জন, আলমডাঙ্গায় ৮ জন, দামুড়হুদায় ৭৬ জন ও জীবননগরে ১৪ জন। প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে আছেন সদর উপজেলার আটজন, আলমডাঙ্গার দুজনজন, দামুড়হুদার ১৫ জন ও জীবননগরের একজন জনসহ মোট ২৬ জন। চুয়াডাঙ্গায় করোনা আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত মোট মৃত্যু হয়েছে ৭০ জনের। এরমধ্যে সদর উপজেলার ২৫ জন, আলমডাঙ্গায় ১৭ জন, দামুড়হুদায় ১৮ জন ও জীবননগরে ৪ জন। চুয়াডাঙ্গায় আক্রান্ত অন্য ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এ জেলার বাইরে। অন্যদিকে, গতকাল করোনা আক্রান্ত সদর উপজেলার একজন ও দামুড়হুদার দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার্ড করা হয়েছে।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।