চুয়াডাঙ্গা মঙ্গলবার , ১০ মে ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ভারতমুখী ঘূর্ণিঝড় অশনি

দমকা-ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টিপাত : কমেছে তাপমাত্রা : বন্দরে ২ নম্বর সঙ্কেত : সাতক্ষীরা-খুলনায়ও ঝাপটা আসতে পারে
সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
মে ১০, ২০২২ ১১:৩০ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

উত্তর-পশ্চিম দিকে ভারতের উপকূল অভিমুখে গতিপথ বজায় রেখে অগ্রসর হচ্ছে প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘অশনি’। এর সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১১৭ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠছে। ২৫ কি.মি. গতিতে ভারতের অন্ধ্র-উড়িষ্যা উপকূলের দিকে ধাবিত হচ্ছে ‘অশনি’। এটি বুধবার অথবা বৃহস্পতিবার ভারতের উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে। ভারতের আবহাওয়া বিভাগ বলছে, ঘূর্ণিঝড় ‘অশনি’ আঘাতের সময়ে কিছুটা পূর্ব দিকে বাঁক নিয়ে উড়িষ্যা হয়ে পশ্চিমবঙ্গের উপকূল অতিক্রম করতে পারে। এ সময়ে বাংলাদেশের সাতক্ষীরা-খুলনা উপকূলে ঝড়ো হাওয়ার ঝাপটা আসতে পারে। উপকূলে আঘাত বা অতিক্রমের সময়ে কিংবা তার আগে সমুদ্রে শক্তিক্ষয় হয়ে ‘অশনি’ দুর্বল হয়েও পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আজ মঙ্গলবার ঘূর্ণিঝড় ‘অশনি’ উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় অন্ধ্র-উড়িষ্যা উপকূলের কাছাকাছি পৌঁছে যেতে পারে। তখন স্পষ্ট হতে পারে ‘অশনি’র মতিগতি।

এদিকে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলসহ অনেক জায়গায় দমকা থেকে ঝড়ো হাওয়াসহ মাঝারি থেকে ভারী, অতি ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। সন্ধ্যায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত চট্টগ্রামে দমকা থেকে ঝড়ো হাওয়ার সাথে থেমে থেমে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি হচ্ছিল। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় শত শত সামুদ্রিক মাছ শিকারি ট্রলার নৌযান পোতাশ্রয়ে অলস বসে আছে। বর্ষণের ফলে সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা হ্রাস পাচ্ছে। সাগর উত্তাল থাকায় সমুদ্র বন্দরসমূহে ২ নম্বর সতর্ক সঙ্কেত দেখাতে বলা হয়েছে। এ ঘূর্ণিঝড়ের শ্রীলঙ্কার দেয়া নাম ‘অশনি’। সিংহলী ভাষায় যার অর্থ ‘ক্রোধ’ বা ‘রোষ’।
আবহাওয়া বিভাগ ভারী বর্ষণের সতর্কবার্তায় জানায়, পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও এর কাছাকাছি এলাকায় অবস্থানরত প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘অশনি’র অগ্রবর্তী অংশের প্রভাবে খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী (২৩ থেকে ৪৩ মিলিমিটার) থেকে অতি ভারী (৮৯ মি.মি. বা তারও বেশি) বর্ষণ হতে পারে। বিশেষ আবহাওয়া বুলেটিনে আবহাওয়াবিদ মো. হাফিজুর রহমান জানান, পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও এর কাছাকাছি এলাকায় অবস্থানরত প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘অশনি’ পশ্চিম, উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে একই এলাকায় অবস্থান করছে। গতকাল দুপুরে ‘অশনি’ চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর থেকে ১১০৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্র বন্দর থেকে ১০৪৫ কি.মি. দক্ষিণ-পশ্চিমে, মংলা সমুদ্র বন্দর থেকে ১০১৫ কি.মি. দক্ষিণ, দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্র বন্দর থেকে এক হাজার কি.মি. দক্ষিণ, দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল। এটি আরও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে। প্রবল ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৬৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৯ কি.মি., যা দমকা থেকে ঝড়ো হাওয়ার আকারে ১১৭ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রবল ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর খুবই বিক্ষুব্ধ রয়েছে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সঙ্কেত দেখাতে বলা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সকল মাছধরার নৌকা ও ট্রলারকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে। এদিকে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম অঞ্চলসমূহের উপর দিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব অথবা পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টিপাত হতে পারে। এসব এলাকার নৌ-বন্দরসমূহকে ২ নম্বর নৌ-হুঁশিয়ারি সঙ্কেত দেখাতে বলা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে জানা গেছে, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং ঢাকা, খুলনা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায়, রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের দুয়েক জায়গায় অস্থায়ী দমকা বা ঝড়ো হাওয়ার সাথে প্রবল বিজলী চমকানোসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। মাদারীপুর, রাঙ্গামাটি, কুমিল্লা, নোয়াখালী, ফেনী, খুলনা ও যশোর জেলাসহ সিলেট বিভাগের উপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। তবে তা প্রশমিত হতে পারে। সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা ২ থেকে ৩ ডিগ্রি সে. হ্রাস এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পেতে পারে। আগামী ৭২ ঘণ্টায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।