চুয়াডাঙ্গা শনিবার , ২৬ ডিসেম্বর ২০২০
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ভরা মৌসুমেও চালের দাম বাড়তি

সমীকরণ প্রতিবেদন
ডিসেম্বর ২৬, ২০২০ ১০:২৩ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

সাধারণ মানুষ দিশেহারা
দেশে প্রধান খাদ্যশস্য চাল; কিন্তু বেশ কিছু দিন ধরে এর দাম বাড়তি। পাইকারি বাজারে যে চালের কেজি পাঁচ টাকা বাড়ছে, খুচরা বাজারে তা বাড়ছে সাত টাকা। অত্যাবশ্যকীয় এই পণ্যের দাম যে হারে বাড়ছে; তাতে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। এক হিসাব মতে, দেশে বছরে সাড়ে তিন কোটি টনের বেশি চাল উৎপাদন হয়ে থাকে, যার মধ্যে এক কোটি ৪০ লাখ টনের মতো আসে আমনে। সবার আশা ছিল, চালের দ্বিতীয় প্রধান মৌসুম আমন ধান উঠলে দামে লাগাম পড়বে। কিন্তু দেখা গেল, দাম তো কমেইনি, উল্টো বাড়ছে। হঠাৎ করে কেজিতে পাঁচ-সাত টাকা দাম বেড়ে যাওয়ায় অনেক পরিবারের হিসাবই এলামেলো হয়ে যাচ্ছে। এমনিতেই পেঁয়াজ-আলুসহ নিত্যপণ্যের দাম আগে থেকেই বেশি। এখন চালের দামও লাগামহীন হয়ে ওঠায় নিম্ন আয়ের মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। তবে চালের দাম বৃদ্ধির ভিন্ন ভিন্ন কারণ উল্লেখ করছেন চাল ব্যবসায়ীরা। পাইকারদের অভিযোগ, মিল-মালিকরা কারসাজি করে চালের দাম বাড়াচ্ছেন। আর মিল-মালিকরা বলছেন, বাজারে ধানের দাম কমছে না, বরং বাড়ছে। বন্যা ও বৃষ্টিতে বিনষ্ট হওয়ায় ধানের দাম বেড়ে গেছে। যে কারণে চালের দামও বাড়ছে। প্রাপ্ত তথ্যমতে, ঢাকার খুচরা বাজারে এখন মোটা গুটি ও স্বর্ণা চালের দাম ৪৮ থেকে ৫০ টাকা কেজি। মাঝারি পাইজাম, বিআর-২৮সহ বিভিন্ন চাল বিক্রি হচ্ছে ৫৩ থেকে ৫৮ টাকা কেজি। আর সরু মিনিকেট ও নাজিরশাইল চাল ৬০ থেকে ৬৬ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন বিক্রেতারা। সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) বাজারদরের তালিকা অনুযায়ী, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এখন মোটা চালের দাম প্রায় ৪৮ শতাংশ, মাঝারি ২৩ ও সরু চালের দাম ১৭ শতাংশ বেশি। বাজারে দাম বাড়তে থাকলেও কৃষি মন্ত্রণালয় বলছে, চালের কোনো ঘাটতি নেই। মন্ত্রণালয়ের অধীন সংস্থা বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের হিসাবে, এবার আমনে লক্ষ্যের চেয়ে ১৫ লাখ টন চাল কম উৎপাদিত হয়েছে। তার পরও আগামী জুন পর্যন্ত দেশে চাহিদার চেয়ে ৩০ লাখ টন চাল উদ্বৃত্ত থাকবে।
এ বছর চালের দাম ২০১৭ সালের পর সবচেয়ে বেশি থাকলেও বাজারে খুব বেশি হস্তক্ষেপ করেনি সরকার। সাধারণত দেখা যায়, সরকারি গুদামে চালের মজুদ কমলেই বাজারে দাম বাড়তে থাকে। খাদ্য অধিদফতরের গুদামে চালের মজুদ গত বছরের তুলনায় প্রায় অর্ধেকে নেমেছে। পরিমাণের দিক দিয়ে যা সাড়ে পাঁচ লাখ টন। এমন পরিস্থিতিতে চাল আমদানিতে বাড়তি জোর দিচ্ছে সরকার। ইতোমধ্যে ভারতের সাথে দেড় লাখ টন চাল আমদানির চুক্তি হয়েছে। ভারতীয় চালের দাম পড়ছে প্রতি কেজি ৩৩ থেকে ৩৫ টাকা। আরো দেড় লাখ টন আমদানির বিষয়টি আগে থেকেই প্রক্রিয়াধীন ছিল, যার বড় অংশও ভারত থেকে আসছে। সরকার আমদানি করেই মজুদ বাড়াবে। তবে সব মিলিয়ে পাঁচ থেকে ছয় লাখ টনের বেশি আমদানি হবে না। সরকারের ভাষ্যমতে, সরকারিভাবে চাল আমদানিতে বাড়তি জোর দেয়ার কারণ, চালকল মালিকরা ৩৭ টাকা থেকে বাড়িয়ে দাম প্রতি কেজি ৪১ টাকা না করলে নতুন আমন মৌসুমের চাল সরকারকে দিতে রাজি নন। ফলে আমদানি ছাড়া বিকল্পও নেই। চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে বেসরকারি পর্যায়ে এই প্রধান খাদ্যশস্য আমদানিতে শুল্ক কমানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে সরকার। কিন্তু অতীতে দেখা গেছে, শুল্ক কমিয়ে দিলে বিপুল চাল চলে আসে, যা ধানের দাম কমিয়ে কৃষককে বিপাকে ফেলে। যেমন ২০১৭ ও ২০১৮ সালে ছয় লাখ টনের ঘাটতির কথা বলে দেশে প্রায় ৪০ লাখ টন চাল আমদানি হয়েছিল। প্রয়োজনের অতিরিক্ত চালের কারণে টানা তিন বছর কৃষক ধানের ভালো দাম পাননি। তাই আমদানির নামে যাতে বিপুল পরিমাণ চাল চলে না আসে ধানচাষিদের স্বার্থে সে দিকেও সরকারকে খেয়াল রাখতে হবে। কারণ কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। তবে এর পরও বলতে হয়, সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে যদি আগামী ইরি মৌসুম পর্যন্ত দেশে চাল কিংবা ধান আমদানি করা না হয়; তাহলে চালের দাম আরো বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।