চুয়াডাঙ্গা শনিবার , ২৩ ডিসেম্বর ২০১৭
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ভম্বেল টিলা

সমীকরণ প্রতিবেদন
ডিসেম্বর ২৩, ২০১৭ ১১:৩১ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

– শরীফ সাথী

ভম্বেল টিলা নামেও যেমন গতরেও তেমন। মাত্রাতিরিক্ত ওজন হওয়ায় সকল জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটাতে অবশেষে ডাক্তারের শরনাপন্ন হলেন। ডাক্তার সাহেব চিকিৎসা দেওয়ার আগে অপলক চোখে এমনভাবে যেন তাকিয়ে থাকলো, মনে হল ২৪ সেকেন্ডের জায়গায় ২৪ঘন্টা। ভম্বেল টিলা ডাক্তার সাহেবকে বলল, কী ডাক্তার সাহেব দেখা হলো?
ডাক্তার সাহেব বললেন, হু… হলো।
ভম্বেল টিলা বলল, ডাক্তার সাহেব কেমন দেখলেন শুনি?
ডাক্তার বললেন, হু তেমন কোন সমস্যা নেই। চিকিৎসা দিলেই আপনার শরীর ছলিট, স্মাট হয়ে যাবে।
ভম্বেল টিলা বলল, ডাক্তার সাহেব তাহলে দেন আপনার প্রেসক্রিপশন।
ডাক্তার বললেন, –লাগবে না? শুধু শুনলেই হবে। ভম্বেল টিলা অবাক হয়ে বলল, –তাহলে তো ভালোই হলো (পকেটে হাত দিয়ে ভম্বেল টিলা বলল) টাকাগুলো বাঁচবে? (কান খাড়া করে ডাক্তার সাহেবের মুখের দিকে এগিয়ে দিলেন গোঁফে মিছে মিছে হাসতে হাসতে) ডাক্তার সাহেব বললেন, সকালে খাবেন দুই রুটি, দুপুরে খাবেন দুই রুটি এবং রাত্রে খাবেন একটি রুটি এভাবে চলবে—————। ভম্বেল টিলা সমস্ত কথা শুনে, মুখস্ত করতে করতে বাড়ির পথে রওয়ানা হলো। আনন্দে মন আটখানা। শরীর স্মাট হবে। ফিগার হবে দুর্দান্ত টলটলে, বলিউড নায়ককে হার মানানো হিনো বডি হবে, লাগবে সুপার ডুপার টপ হিরোর মত। কত কী ভাবনা তার মনে! রুপসী মেয়েরা, বান্ধবীরা এবার তাকে দেখলে অট্টহাসির বদলে দু’ঠোঁট ভরে মুচকি মুচকি দুষ্টু হাসি দেবে। চোখের অপলক চাওয়া পাওয়ার ভালোলাগা, ভালবাসাবাসির মিষ্টি মধুর চাহনী দেবে। ভম্বেল টিলার এমন গর্বে বুকখানার ভিতর হৃদয়টা, প্রাণটা একেবারে শিউরে শিউরে ওঠে। –আহ! কী মজা না হবে? বাড়িতে ঢোকার আগ মুহুর্তে হঠাৎ ভম্বেল টিলার মনে পড়লো, -রুটি খাবো তো কিভাবে খাব? ভালো করে জানা হয়নি তো? বোকা মন কি যে করে? আবার যায়– জেনে আসি? দিলো ভোদৌঁড়। হুট করে ডাক্তার সাহেবের চেম্বারে ঢুকেই হাঁপাতে হাঁপাতে ভম্বেল টিলা বলল,–ডাক্তার সাপ ডাক্তার সাপ? ডাক্তার সাহেব লাফ মেরে উঠে বলল, কই সাপ? কই সাপ? ভম্বেল টিলা ডাক্তার সাহেবের লাফ মারা দেখে ভয় পেয়ে গেল। নরম সুরে বলল, সাপ নাই আমি ডাক্তার সাহেব। ডাক্তার সাহেব টানা নিঃশ্বাস নিয়ে বুকে ফুঁ দিয়ে চেয়ারে গা এলিয়ে বসে দুলতে লাগলো। ভম্বেল টিলা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দোলা দেখতে দেখতে—–অবশেষে অনেক দৌঁড়াদৌঁড়ি হাঁটাহাঁটির কারনে শরীরে আলস্য এসে ভম্বেল টিলার স্বপ্নচোখে ঘুমেঘুমে টলতে থাকে। ডাক্তার সাহেব রাগান্বিত সরে বলল, এই যে সাহেব ওভাবে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ঘুমাচ্ছো ক্যান ?
–অনেক পরিশ্রম, ডাক্তার সাহেব অনেক পরিশ্রম হয়েছে তো? এত হাঁটাহাঁটি দৌঁড়াদৌঁড়ি কখনো করিনি তো তাই?
— তাহলে আবার কী মতলবে আসা হলো ডাক্তার খানায় ?
— ভালো করে বুঝতে পারিনী ডাক্তার সাহেব ।
–কী বুঝতে পারোনি? (ডাক্তার সাহেব রাগান্বিত স্বরে) ফ্রি চিকিৎসা পাচ্ছোতো তাই বুঝি বারবার আসা হচ্ছে?
–না তা না, মানে আমি রুটি খাবো তো, কিভাবে খাবো? বুঝতে পারিনি ডাক্তার সাহেব?
— এত সহজ ভাবে, সহজ ভাষায় বললাম, ইংরেজি বাদ দিয়ে তাও আবার বাংলায়? তাও বোঝনি?
–ডাক্তার সাহেব, আপনি বুঝি ইংরেজিতে পাকা?
ভম্বুর জ্বালায় পড়ি না মরি! এতো ভালো করে বুঝালাম, ভম্বু– আমি এতো ভালো করে বললাম, প্রতিদিন সকালে দুই রুটি খাবে, দুপুরে দুই রুটি খাবে,আর রাত্রে খাবে মাত্র এক খানা রুটি। এভাবে চলবে—–
ভম্বেল টিলা এবার রেগে ডাক্তার সাহেবকে বলছেন, কি বারবার বলছেন ডাক্তার সাহেব? সকাল- দুপুর -রাতে রুটি খাবো, কিন্তু রুটিগুলো খাওয়ার আগে না পরে খাবো এটাতো বলছেন না? ডাক্তার সাহেবের চোখ বড় হয়ে গেলো এবং হাসতে গিয়ে মুখের হা–ও বড় হয়ে গেল। হা:হা: হা: হা আর বুঝলো না তাই বলতেও পারলো না আর কোন কথা—— #

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।