চুয়াডাঙ্গা বুধবার , ৪ জানুয়ারি ২০১৭
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বয়সের ভারে নুয়ে পড়েছেন সরোজগঞ্জ চ-িপুরের ফকির লাল মুহাম্মদ ১১০ বছরেও কপালে জোটেনি বয়স্ক ভাতার কার্ড

সমীকরণ প্রতিবেদন
জানুয়ারি ৪, ২০১৭ ১১:০৯ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

IMG_20161222_163548সরোজগঞ্জ প্রতিনিধি: বয়সের ভারে নুয়ে পড়েছেন ফকির লাল মুহাম্মদ।  কিন্তু তার কপালে আজও পর্যন্ত হয়নি বয়স্ক ভাতার কার্ড। অভাবী বৃদ্ধ ফকির লাল মুহাম্মদের দিনওপাত চলে খেয়ে না খেয়ে। কাজ করার শক্তি হারিয়ে ফেলেছেন অনেক আগেই। এই বয়সে একটি বয়স্ক ভাতার কার্ড পেলে মনে হয় তার জীবন চলে যায়। কিন্তু কে দেবে তার একটি বয়স্ক ভাতার কার্ড করে,  কারও জন্য কেউ কি কাঁন্দে, কতজনের কাছে তিনি গিয়েছেন। কোন ভাবেই কাজ হয়নি তার ভাতার কার্ডের জন্য। এই নিয়ে তার বড় আশা। আরও কত বয়স হলে মানুষের বয়স্ক ভাতার কার্ড পাবে। চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার পদ্মবিলা ইউনিয়ানের চন্ডিপুর গ্রামে পশ্চিমপাড়ার মৃত আব্দুল গফুর মন্ডলের ছেলে ফকির লাল মুহাম্মদের বয়স বর্তমানে ১১০ বছর। বয়সের ভারে ঠিকমতো চলা ফেরা করতে পারে না। তার চোখের জ্যোতিও নিভু নিভুভাব, কানেও সে ভালোভাবে শুনতে পারে না। পেটে ক্ষুধা থাকলেও তার উপার্জনের ক্ষমতা নেই। আয় রোজগার করে দেওয়ার মতও তেমন কেউ নেই তার।  ফকির লাল মুহাম্মদের ৩ ছেলে ২ মেয়ের জন্মদাতা পিতা। তবে লাল মুহাম্মদেরর ২ ছেলে মারাগেছে। একমাত্র পুত্র আলী হোসেন হতদরিদ্র, অভাবের সংসার তার। অন্যের জমিতে পরিশ্রম না করলে, তার সংসার চলেনা। বয়স্ক ভাতার কার্ডের জন্য জিজ্ঞেসা করলে, ফকির লাল মুহাম্মদ কাঁন্দে কাঁন্দে চোখের জল ঝরে পড়ে। তিনি বলে যে বাবা তোমরা যে আমার ভালো মন্দ জিজ্ঞেস করলে এতেই আমি খুশি হলাম। তিনি অভিযোগ করে বলে যে ভোটের আগে সবাই এসে ভালো মন্দের খোঁজ খবর নেয়,  বলে দোয়া করেন ভোটে পাশ করলে দাদু তোমার জন্য একটি ভাতার কার্ড করে দেব,  ভোটে পাশ করলে কেউ আমার সাথে দেখা করে না। তার জীবন চলে বেঁচেথাকার জন্য দুবেলা  দুমুঠো ভাত খেঁতে দেয় নাতি ছেলেরা,  আর আমার জীবন সঙ্গীতো অনেক আগেই দুনিয়া ছেড়ে চলেগেছেন। আমার জীবনে সমস্যার কোন শেষ নেই, বেঁচেথেকে আমি মরা। আমি কার পানে আর কতবছর এভাবেই তাকিয়ে থাকবো। একটি ভাতার কার্ডের জন্য, তিনি এ বিষয়ে পদ্মবিলা ইউনিয়ানের চেয়ারম্যান আবু তাহের বিশ্বাসের কাছে সুদৃষ্টি কামনা করেন।  তিনি আরও বলেন যে ভাতার কার্ডটি করে দিলে যে কয়েকদিন বাঁচে আছি সেই হৃদয়বান ব্যক্তির জন্য আমি দোয়া করে যেতাম।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।