চুয়াডাঙ্গা শনিবার , ২৩ জুলাই ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ব্যয় সংকোচনে সরকারের যত পদক্ষেপ

সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
জুলাই ২৩, ২০২২ ৭:৩৯ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

সমীকরণ প্রতিবেদন: বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ কমাতে তথা ডলার সাশ্রয়ে নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। সরকারি কর্মকর্তাদের অহেতুক বিদেশ সফরে লাগাম টানার মাধ্যমে এ পদক্ষেপের সূচনা হয়েছিল। গত মে মাসের শুরুর দিকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। একই লক্ষ্যে ধাপে ধাপে বেশকিছু ছোট-বড় সিদ্ধান্ত এসেছে। এরমধ্যে গত সপ্তাহে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা ছিল বেশ আলোচিত। যদিও সমালোচকরা বলছেন, সুশাসন নিশ্চিতকরণ ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি দূর করতে না পারলে এসব পদক্ষেপ বাস্তবে কোনো সুফল বয়ে আনবে না। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে খাদ্যদ্রব্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যে ঊর্ধ্বগতি দেখা দেয়। সেইসঙ্গে  পণ্য পরিবহনকারী জাহাজের ভাড়াও বেড়ে যায়। হঠাৎ আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় চাপ পড়ে রিজার্ভের ওপর। বাংলাদেশে ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমতে থাকে। চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ সংকট তৈরি হওয়ায় ডলারের দাম বৃদ্ধি একের পর এক রেকর্ড ভাঙতে থাকে। সমাধান খুঁজতে ডলার সাশ্রয়ের উদ্যোগের পাশাপাশি ব্যয় সংকোচনে নজর দেয় সরকার।

এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে গত মে মাসে পরিপত্র জারি করা হয়। করোনা পরবর্তী অর্থনীতি পুনরুদ্ধার ও বর্তমান বৈশ্বিক সংকটের প্রেক্ষাপটে পুনরায় আদেশ না দেয়া পর্যন্ত এক্সপোজার ভিজিট, শিক্ষাসফর, এপিএ এবং ইনোভেশনের আওতামুক্ত ভ্রমণ ও ওয়ার্কশপ বা সেমিনারে অংশগ্রহণসহ সব ধরনের বৈদেশিক ভ্রমণ বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এ আদেশ উন্নয়ন বাজেট ও পরিচালন বাজেট উভয় ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে বলে পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়। পরবর্তীতে সরকারি কর্মকর্তা ছাড়াও আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরেও নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়। সরকারের ব্যয় সাশ্রয়ের অংশ হিসেবে জুলাইয়ের শুরুতে তথা নতুন অর্থবছরে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সব ধরনের যানবাহন কেনা বন্ধ রাখার পাশাপাশি সব উন্নয়ন প্রকল্পের সভার সম্মানী ভাতা দেয়া স্থগিত করা হয়েছে। একইসঙ্গে আপ্যায়ন ও ভ্রমণ ব্যয়, কম্পিউটার ও আসবাবপত্রসহ অন্যান্য কেনাকাটায় বরাদ্দ অর্থের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ ব্যয় করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। একইসঙ্গে ব্যয় সংকোচনে নজরদারিও চালাতে থাকে। জ্বালানি খাতে সরকারির ভর্তুকি ও লোকসান কমাতে ঈদুল আজহার আগে দেশব্যাপী সকল প্রকার আলোকসজ্জায় নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়। ঈদ পরবর্তী সময়ে ফের বৈঠকে বসে সরকারের নীতিনির্ধারকরা। এতে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য এলাকাভিত্তিক লোডশেডিং চালু এবং অফিস-আদালত, উপসনালয়ে এসির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের নির্দেশনা আসে। সবশেষ গত বুধবার সরকারের ব্যয় সাশ্রয়ে সরকারি সব দপ্তরে বিদ্যুতের ২৫ শতাংশ ব্যবহার কমানো, জ্বালানি খাতের বাজেট বরাদ্দের ২০ শতাংশ কম ব্যবহারের জন্য পরিপত্র জারি করাসহ ৮ দফা সিদ্ধান্ত নেয়। রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সরকারের ব্যয় সাশ্রয়ে কার্যকর কর্মপন্থা নিরূপণে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউসের সভাপতিত্বে সভায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিবরা উপস্থিত ছিলেন।

সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে রয়েছে- অনিবার্য না হলে শারীরিক উপস্থিতিতে সভা পরিহার করতে হবে। অধিকাংশ সভা অনলাইনে করতে হবে। অত্যাবশ্যক না হলে বিদেশ ভ্রমণ যথাসম্ভব পরিহার করতে হবে। খাদ্যদ্রব্যসহ নিত্যপণ্যের মূল্য সহনীয় রাখতে বাজার মনিটরিং, মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে মজুতদারির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণসহ অন্যান্য পদক্ষেপ জোরদার করতে হবে। এ ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী পরিবহনে ব্যক্তিগত যানবাহনের ব্যবহার যৌক্তিককরণের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে। আর অভ্যন্তরীণ সম্পদ সংগ্রহ বাড়াতে অর্থবছরের শুরু থেকেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে এবং লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)কে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। এ ছাড়া প্রতিটি মন্ত্রণালয় নিজস্ব ক্রয় পরিকল্পনা পুনঃ পর্যালোচনা করে রাজস্ব ব্যয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করবে।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।