চুয়াডাঙ্গা বৃহস্পতিবার , ১৮ নভেম্বর ২০২১
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ব্যাংকের লোকসান সমন্বয়ে প্রস্তাব চেয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
নভেম্বর ১৮, ২০২১ ৯:১০ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

সরকারের কম সুদে ঋণ দিয়ে লোকসান গুনছে ব্যাংকগুলো। এ লোকসান কিভাবে সমন্বয় করা যায় সে জন্য ব্যাংকগুলোর কাছে লিখিত প্রস্তাব চেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রস্তাব পেলে তা পর্যালোচনা করা হবে বলে জানানো হয়েছে। সরকারের বাধ্যতামূলক ঋণে জোগান দেয় এমন ব্যাংকগুলোর (পিডি) প্রতিনিধিদের সাথে এক বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এমন আশ্বাস দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট এক সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে। ব্যাংকাররা জানিয়েছেন, কম সুদে সরকারের বিভিন্ন মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগ করে সুদ ঝুঁকিতে পড়েছে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো। বিনিয়োগচাহিদা কমের কারণে বছরের শুরুতে ব্যাংকের ঋণের সুদহার নিম্নমুখী ছিল। এতে সরকারের ট্রেজারি বিল বন্ডের সুদহারও কমে যায়। কিন্তু বর্তমানে বিনিয়োগচাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সুদহার বেড়ে গেছে। একই সাথে বেড়েছে সরকারি ট্রেজারি বিল বন্ডের সুদহার। সুদহার বেড়ে যাওয়ায় আগে যারা বিনিয়োগ করেছিলেন তারা সম্পদের পুনর্মূল্যায়নজনিত সমন্বয়ের কারণে লোকসানের মুখে পড়ে যাচ্ছে। এতে ব্যাংকগুলোর সামগ্রিক লোকসান বাড়ছে। এ লোকসান কমাতে গতকাল কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাথে বৈঠকে বসে ব্যাংকগুলো।

জানা গেছে, সরকারের বাধ্যতামূলক ঋণের জোগান দেয়ার জন্য কিছু ব্যাংক তালিকাভুক্ত হয়েছে। যাদেরকে প্রাইমারি ডিলার বা পিডি ব্যাংক বলে। প্রতি সপ্তাহে পূর্বনির্ধারিত ঋণকর্মসূচি অনুযায়ী সরকার বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে ঋণ নিয়ে থাকে। সরকারের ঋণের জোগান দেয়ার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন সরকারি ট্রেজারি বিল ও বন্ডের নিলামের আয়োজন করে থাকে। ওই নিলামে কোনো ব্যাংক সরকারের ঋণের জোগান দিতে এগিয়ে না এলে বাধ্যতামূলকভাবে পিডি ব্যাংকগুলোর জোগান দিতে হয়। সাধারণত ২৮ দিন, ৯১ দিন, ১৮২ দিন, ৩৬৪ দিন মেয়াদি ট্রেজারি বিলের মাধ্যমে স্বল্প মেয়াদে সরকার ঋণ নিয়ে থাকে ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে। আর দীর্ঘ মেয়াদের জন্য দুই বছর, পাঁচ বছর, ১০ বছর, ১৫ বছর ও ২০ বছর মেয়াদি বন্ডের মাধ্যমে ঋণ নিয়ে থাকে। বাজারে টাকার চাহিদা অনুযায়ী এসব বিল ও বন্ডের সুদহার ওঠানামা করে। গত বছর সেপ্টেম্বর থেকে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শুধু বন্ডের মাধ্যমে ব্যাংকগুলো ৭৮ হাজার ৪৬০ কোটি টাকার ঋণের জোগান দিয়েছে। সর্বনিম্ন ২ দশমিক ৩৩ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ সুদে এ ঋণ দেয়া হয়। কিন্তু এখন টাকার চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সরকারি ঋণের সুদহার বেড়ে গেছে। ব্যাংকাররা জানিয়েছেন, প্রতি সপ্তাহেই ব্যাংকগুলোর এসব বিল ও বন্ড পুনর্মূল্যায়ন হয়। সুদহার বেড়ে যাওয়ায় পুনর্মূল্যায়নজনিত কারণে বেশির ভাগ ব্যাংক লোকসানের মুখে পড়ে যাচ্ছে। এ লোকসানের পরিমাণ কমাতে এইচটিএম এসএলআরের ১২৫ শতাংশের পরিবর্তে ১৭৫ শতাংশ পুনর্র্নিধারণ করতে পিডি ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে আবেদন করেছে। গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকের সাথে বৈঠকে এ বিষয়ে পর্যালোচনা করা হয়েছে। বৈঠক সূত্র জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে ব্যাংকগুলোর কাছে তাদের দাবি লিখিতভাবে জানাতে বলা হয়েছে। ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে লিখিত প্রস্তাব পাওয়ার পর তা পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে ওই সূত্র জানিয়েছে।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।