ব্যবসায়ী ও ইজিবাইক চালকদের লুকোচুরিতে বিরক্ত প্রশাসন!

35

দ্বিতীয় দিনেই ভেঙে পড়েছে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা ও পার্শ্ববর্তী আলুকদিয়া ইউনিয়নের ‘লকডাউন’
স্বাস্থ্যবিধি ও সরকারি নির্দেশনা মানাতে আরও কঠোর হবে প্রশাসন- ডিসি নজরুল ইসলাম
নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা ও পার্শ্ববর্তী আলুকদিয়া ইউনিয়নে চলমান লকডাউন দ্বিতীয় দিনেই ভেঙে পড়েছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রচন্ডভাবে দেখা দিয়েছে লকডাউন না মানার প্রবণতা। বিশেষ করে সকালে এবং বিকেলে শহরে প্রচুর পরিমাণে ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর অবস্থান থাকলেও তা মানতে নারাজ অনেকেই। জরিমানা করাসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া সত্ত্বেও প্রশাসন এবং কিছু কিছু ব্যবসায়ী ও ইজিবাইক চালকের মধ্যে দেখা গেছে লুকোচুরির খেলা। মাস্ক পরিধান না করাসহ স্বাস্থ্যবিধি মানতে একেবারেই অনিহা দেখা গেছে মানুষের মধ্যে। বিশেষ করে স্বাস্থ্যবিধি না মেনে কাঁচা বাজার এবং মুদিখানার দোকানে ক্রেতা-বিক্রেতার কেনাবেচা করতে দেখা গেছে।
গত শনিবার চুয়াডাঙ্গা করোনাভাইরাস প্রতিরোধ সম্পর্কিত জেলা কমিটির জরুরি সভায় সিদ্ধান্ত হয় ৭দিনের জন্য লকডাউন করা হবে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা ও পার্শ্ববর্তী আলুকদিয়া ইউনিয়নকে। চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নজরুল ইসলাম সরকার সে অনুযায়ী একটি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেন।
গণবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সকল ধরনের গণপরিবহন (অটো রিক্সা, সিএনজি, ইজিবাইক ইত্যাদি) ও জনচলাচল (মোটরসাইকেল, সাইকেল, রিক্সা, ভ্যান ইত্যাদি) বন্ধ থাকবে। তবে জরুরি পরিষেবা, ঔষধ ও চিকিৎসা সেবা, কৃষিপণ্য, নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য সরঞ্জাম সংগ্রহ ও পরিবহন এবং সীমিত পরিসরে ব্যাংকিং সেবা এর আওতাবহির্ভুত থাকবে। চুয়াডাঙ্গা জেলার সকল গরুর হাট এবং পানহাট বন্ধ থাকবে। কাঁচাবাজার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্রয়-বিক্রয় করা যাবে। খাবারের দোকান ও হোটেল-রেস্তোরাঁয় সন্ধ্যা ৭.৩০ পর্যন্ত কেবল খাদ্য বিক্রয়/সরবরাহ (Takeaway/Online) করা যাবে। কোনো অবস্থাতেই হোটেল-রেস্তোরাঁয় বসে খাবার গ্রহণ করা যাবে না)। শপিংমলসহ অনান্য দোকানসমূহ (ছোট ছোট চায়ের দোকানসহ) বন্ধ থাকবে। দূরপাল্লার সকল বাস আবশ্যিকভাবে চুয়াডাঙ্গা টার্মিনাল থেকে ছেড়ে যাবে এবং শুধু চুয়াডাঙ্গা টার্মিনালে এসে যাত্রী নামাবে। সকল পর্যটন কেন্দ্র, রিসোর্ট, কমিউনিটি সেন্টার ও বিনোদন কেন্দ্র বন্ধ থাকবে। জনসমাবেশ হয় এ ধরণের সামাজিক (বিবাহোত্তর অনুষ্ঠান (ওয়ালিমা), জন্মদিন, পিকনিক, পার্টি ইত্যাদি), রাজনৈতিক ও ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান বন্ধ থাকবে।
তবে, ওই গণবিজ্ঞপ্তির বেশ কয়েকটি নির্দেশনা বাস্তবায়নে হিমশিম খাচ্ছে প্রশাসন। কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া সত্ত্বেও শহরে ঠেকানো যাচ্ছে না ইজিবাইক, সিএনজি, রিক্সা ও ভ্যান চলাচল। শহরে প্রতিদিনের তুলনায় ইজিবাইকের সংখ্যা কম থাকলেও একেকটি ইজিবাইকে চালকসহ যাত্রী ওঠানো হচ্ছে ৯জন করে। সিএনজিগুলো শহরের বড়বাজার থেকে দর্শনা অভিমুখে সরাসরি যাত্রা করছে গাদাগাদি করে যাত্রী নিয়ে।
সকালে চুয়াডাঙ্গা শহরের বড়বাজারের কাঁচা বাজার এবং মুদিখানার দোকানগুলোর অবস্থাও থাকছে ভয়াবহ। প্রচুর মানুষ একসাথে গাদাগাদি করে বাজার করছে। কেউই মানছেন না মাস্ক পরাসহ স্বাস্থ্যবিধি।
তবে বড় বড় শপিং মল, মার্কেট, বিপনী বিতানসহ সবধরনের দোকানপাট বন্ধ ছিল। খোলা ছিলো রাস্তার ধারের ফুটপাতের দোকানগুলো। তবে ফুটপাতের ওই দোকানগুলোতে প্রচুর ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
পার্শ্ববর্তী আলুকদিয়া ইউনিয়নজুড়ে লকডাউন থাকায় ওই ইউনিয়নের মোড়ে মোড়ে বাঁশ দিয়ে সড়ক আটকানো দেখা গেছে। দৌলাতদিয়াড় ও হাতিকাটা মোড়ের দোকানপাট বন্ধ পাওয়া গেছে। তবে ভালাইপুর থেকে মেহেরপুর ও বড় বলদিয়াামী বাস ছাড়তে দেখা গেছে। কিছু কিছু ইজিবাইক শহরে ঢোকার চেষ্টা করলে মাথাভাঙ্গা ব্রিজের ওপারে দৌলাতদিয়াড়ে তা আটকিয়েছে পুলিশ। ফেরত পাঠানো হয়েছে পুনরায়।
এদিকে, বড়বাজারে দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা দুপুরের পর থেকে প্রায় ৫০টি ইজিবাইক শহীদ হাসান চত্বরে আটকে রাখে ঘণ্টাখানেক। লকডাউনে চলাচল না করার শর্তে বিকেলের দিকে সেগুলো ছেড়ে দেওয়া হয়।
অপরদিকে, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা মাঠে ছিলেন। স্বাস্থ্যবিধি যানবাহন ও জনচলাচল নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন তারা। স্বাস্থ্যবিধিসহ নির্দেশনা মানার অপরাধে বিভিন্ন স্থানে জরিমানা করা হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার বলেন, মঙ্গলবার থেকে আরও কঠোর অবস্থানে যাবে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন। মাত্র ৭দিনের লকডাউনে যদি আমরা না মানি, তাহলে লকডাউনের সুফল পাওয়া যাবে না। আমরা চাই ৭দিনের মাথায় লকডাউন উঠে যাক, তবে যদি এমন পরিস্থিতি থাকে, তাহলে লকডাউন বাড়াতেও হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, মাঠপর্যায়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ, আনসার বাহিনী কাজ করছে। আমরা চাই, কঠোরভাবে ৭দিনের লকডাউন বাস্তবায়ন করা হোক। প্রশাসন থেকে অসহায় ও কাজহীনদের বাড়ি বাড়ি খাবার পৌছে দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ১০ কেজি চাল, ডাল, তেল, আলুসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ পৌছে দেওয়া হবে। শর্ত একটাই লকডাউন মানতে হবে।