ব্যবসায়ীদের তোপের মুখে বিএসটিআই কর্মকর্তা!

147

চুয়াডাঙ্গায় ডিজিটাল মাপযন্ত্রের প্রত্যয়ন বাবদ অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক:
ডিজিটাল মাপযন্ত্রের প্রত্যয়ন দিয়ে সরকার নির্ধারিত ফির চেয়েও অতিরিক্ত ৫০ টাকা নেওয়ার অভিযোগে বাজারের সাধারণ ব্যবসায়ীদের তোপের মুখে পড়েন খুলনা বিএসটিআইয়ের এক সহকারী পরিদর্শক। গতকাল সোমবার দুপুর ১২টার পর বড় বাজার ফেরিঘাট রোডে ফারিয়া ট্রেডার্সে ডিজিটাল মাপযন্ত্রের প্রত্যয়ন দেওয়ার সময় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় বিএসটিআইয়ের ওই পরিদর্শকসহ দোকান মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ সাধারণ ব্যবসায়ীদের তোপের মুখে পড়েন। পরে সাধারণ ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত টাকা ফেরত দিতে চাইলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। তবে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ঘটনার পর পরই বিএসটিআইয়ের অভিযুক্ত ওই কর্মকর্তা সব অভিযোগ অস্বীকার করে পুরো দোষ চাপান দোকান মালিক সমিতির নেতাদের ঘাড়ে। এনিয়ে দোকান মালিক সমিতির নেতারা তাৎক্ষণিক মন্তব্যে বলেন, খুলনা থেকে একজন অফিসার আসায় তাঁর থাকা-খাওয়াসহ যাতায়াত ভাড়া বাবদ কিছু অতিরিক্ত টাকা তোলা হচ্ছিল। এ ঘটনার পরে গতকাল দুপুরের পর থেকে আবারও প্রত্যয়ন দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয় এবং অতিরিক্ত টাকা না নিয়ে সরকার নির্ধারিত ফিতেই সাধারণ ব্যবসায়ীদের ডিজিটাল মাপযন্ত্রের এই প্রত্যয়ন দেওয়া হয়।
জানা যায়, ডিজিটাল মাপযন্ত্রের বিএসটিআই প্রত্যয়ন না থাকলে প্রশাসনের বাজার তদারকি অভিযানে হয়রানির শিকার হতে হয় সাধারণ ব্যবসায়ীদের। যার ফলে ডিজিটাল মাপযন্ত্রের বিএসটিআই প্রত্যয়ন নিতে হয় সব ব্যবসায়ীকে। কিন্তু বিএসটিআই কর্মকর্তারা চুয়াডাঙ্গা জেলার বাজারগুলোতে কম আসার কারণে অনেক ব্যবসায়ী ডিজিটাল মাপযন্ত্রের প্রত্যয়ন ঠিকমতো নিতে পারেন না। ওই প্রত্যয়ন নিতে সরকার নির্ধারিত ফি হলো ১ থেকে ৫০ কেজির জন্য ২৩০ টাকা, ৫০ থেকে ৫০০ কেজি পর্যন্ত ৩৪৫ টাকা এবং ৫০০ কেজির ওপর গেলে ৫৭৫ টাকা। অথচ গতকাল বাজারের ফেরিঘাট রোডে ফারিয়া ট্রেডার্সে টেবিল-চেয়ার ভিড়িয়ে বসেন ওই কর্মকর্তাসহ দোকান মালিক সমিতির সদস্য ইলিয়াস হোসেন। এ সময় বাজারের সব ব্যবসায়ীর কাছ থেকে নির্ধারিত ফির চেয়েও ৫০ টাকা করে বেশি নেওয়া শুরু করেন তাঁরা।
সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সামনেই দোকান মালিক সমিতির সদস্য ইলিয়াস হোসেন ওই কর্মকর্তার উপস্থিতিতে ফিসহ ওই অতিরিক্ত টাকা গ্রহণ করেন। এক থেকে দেড় ঘণ্টার মধ্যেই প্রায় শতাধিক প্রত্যয়নও দেন ওই কর্মকর্তা। এতে করে ৫ হাজার অতিরিক্ত টাকাও আদায় হয়। কিন্তু বিএসটিআইয়ের ওই কর্মকর্তা রসিদে সরকার নির্ধারিত টাকার পরিমাণই উল্লেখ করেন। অতিরিক্ত নেওয়া টাকার হিসাব রাখছিলেন সমিতির সদস্য ইলিয়াস হোসেন। তবে বাজারের সাধারণ ব্যবসায়ীরা সরকার নির্ধারিত ফি-এর চেয়ে নেওয়া অতিরিক্ত টাকার রসিদ না পেয়ে ধূর্ত কর্মকর্তার ফন্দিটা ধরে ফেলেন এবং সাংবাদিকদেরকে বিষয়টি জানান। পরে সাধারণ ব্যবসায়ীদের অভিযোগের ভিত্তিতে একজন সাংবাদিক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। এসময় অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার বিষয়ে সাধারণ ব্যবসায়ীরা বিএসটিআইয়ের ওই কর্মকতার ওপর উত্তেজিত হয়ে পড়েন এবং তাঁরা তাঁদের কাছ থেকে নেওয়া অতিরিক্ত টাকা ফেরত দিতে বলেন। এ সময় ব্যবসায়ীরা আরও অভিযোগ করেন, ‘প্রত্যেক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নিলে দেড় থেকে দুই লাখ টাকা অতিরিক্ত উঠবে। এই দেড়-দুই লাখ টাকা কি ওই কর্মকর্তার আসা-যাওয়া আর খাওয়া খরচ? সরকার কি তাঁকে বেতন দেয় না? তিনি তো এখানে আসা-যাওয়া, খাওয়া খরচসহ সব খরচই বিল করে তুলে নেবেন। তাহলে সাধারণ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কেন অতিরিক্ত টাকা নিচ্ছেন।’ এ সময় দোকান মালিক সমিতির নেতারা সাধারণ ব্যবসায়ীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে অতিরিক্ত টাকা ফেরত দেওয়ার ঘোষণা দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
এ বিষয়ে সাধারণ ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, দোকান মালিক সমিতির নেতাদের যোগসাজোশে এই অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছিল। এ বিষয়ে তাঁরা আরও বলেন, সাধারণ ব্যবসায়ীদের বোকা বানিয়ে এভাবে অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নেওয়ার বিষয়ে যদি ব্যবসায়িক কোনো নেতা জড়িত থাকেন, তবে তাঁর বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেবে কর্তৃপক্ষ। অন্যথায় ব্যবসায়ী নেতাদের ওপর সাধারণ ব্যবসায়ীরা আস্থা হারাবেন।
এ বিষয়ে দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সস্পাদক ইবরুল হাসান জোয়ার্দ্দার ইবু বলেন, গত রোববার চুয়াডাঙ্গা দোকান মালিক সমিতির পক্ষ থেকে প্রচার করা হয় সোমবার বিএসটিআই-এর এক কর্মকর্তা আসবেন ডিজিটাল মাপযন্ত্রের প্রত্যয়ন দিতে। ওই ঘোষণা মোতাবেক খুলনা বিএসটিআই-এর পরিদর্শক (মেট্রোলজি) মো. মঈন উদ্দিন নামের একজন কর্মকর্তা চুয়াডাঙ্গাতে আসেন। অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার বিষয়টি তিনি স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, সব ব্যবসায়ী থেকে নেওয়া অতিরিক্ত টাকা ফেরত দেওয়া হবে।
এদিকে, অভিযুক্ত বিএসটিআইয়ের ওই কর্মকর্তার কাছে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তিনি সরকার নির্ধারিত ফির চেয়ে একটি টাকাও বেশি নিচ্ছেন না।
অতিরিক্ত ফি নেওয়ার বিষয়ে জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার বলেন, সরকার নির্ধারিত ফির চেয়ে একটি টাকাও বেশি নেওয়ার সুযোগ নেই কারও। জেলা প্রশাসক আরও জানান, এ বিষয়ে তিনি এখনো কোনো কিছু জানতে পারেননি। অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।