চুয়াডাঙ্গা রবিবার , ১৭ অক্টোবর ২০২১
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচকে পিছিয়ে পড়েছে দেশ, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতায় নজর দিন

সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
অক্টোবর ১৭, ২০২১ ১১:৪৯ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

দেশে প্রতি বছর ২৪ লাখ মানুষ বাড়ছে। পাশাপাশি কৃষিজমি কমছে। তবু দেশে খাদ্যশস্য উৎপাদন বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে। গত বছরের তুলনায় এবারো সব ফসলের উৎপাদন বেড়েছে। করোনাকালেও ২০২০-২১ অর্থবছরে রেকর্ড পরিমাণ বোরো উৎপাদন হয়েছে, দুই কোটি টনেরও বেশি। মোট চালের উৎপাদন হয়েছে তিন কোটি ৮৬ লাখ টন, গম ১২ লাখ টন, ভুট্টা প্রায় ৫৭ লাখ টন, আলু এক কোটি ছয় লাখ টন, শাকসবজি এক কোটি ৯৭ লাখ টন, তেল ফসল ১২ লাখ টন ও ডাল ফসল ৯ লাখ টন। পেঁয়াজে এক বছরেই সাত লাখ টন উৎপাদন বেড়েছে। চাল, সবজি ও পেঁয়াজ উৎপাদনে বিশে^ তৃতীয় অবস্থানে উঠেছি আমরা। চাষ করা মাছে দ্বিতীয়, আমে সপ্তম এবং আলু উৎপাদনে অষ্টম অবস্থানে। তবে এ কথাও সত্য যে, প্রায় প্রতিটি খাদ্যপণ্যের উৎপাদন বাড়লেও দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার অস্থিতিশীল। এখনো দেশে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা এবং খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়নি।

সরকারের তরফ থেকে শুধু বলা হচ্ছে, দেশে খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নানাবিধ কাজ এগিয়ে চলছে। ফলে বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচকে এ বছর এক ধাপ পিছিয়েছি আমরা। ১১৬টি দেশের মধ্যে এবার বাংলাদেশের অবস্থান ৭৬ নম্বরে; ২০২০ সালে ১০৭টি দেশের মধ্যে যা ছিল ৭৫। এর অর্থ দেশে, ক্ষুধা বেড়েছে। সূচকের স্কোর অনুযায়ী দেশে ক্ষুধার মাত্রা গুরুতর পর্যায়ে। তবে ভারত, পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে আছি আমরা। জাতিসঙ্ঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) মতে, যেকোনো রাষ্ট্রের নাগরিকদের খাদ্যনিরাপত্তায় সরকারিভাবে কমপক্ষে ৬০ দিনের খাদ্য মজুদ রাখা জরুরি। আমাদের মোট জনগোষ্ঠীর এক দিনের খাদ্যচাহিদা প্রায় ৪৬ হাজার টন। সে হিসাবে ৬০ দিনের জন্য খাদ্য মজুদ রাখার কথা ২৭ লাখ টন। অথচ সরকারের কাছে খাদ্য মজুদ রয়েছে ১৮ লাখ ১৪ হাজার টন।

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের তথ্য মতে, দেশে প্রতি বছর গড়ে ৬৭ লাখ টন চাল নষ্ট হয়। এ ক্ষতি কমিয়ে আনা গেলে বছরে প্রায় ৫০ লাখ টন বাড়তি চাল পাওয়া সম্ভব। অন্য দিকে, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে এ পর্যন্ত বার্ষিক সর্বোচ্চ চাল আমদানির পরিমাণ ছিল প্রায় ৩৯ লাখ টন। চলতি বছরও প্রায় ৩০ লাখ টন চাল আমদানি করা হচ্ছে। এর মধ্যে আগে এসেছে ১৩ লাখ টন। ১৭ লাখ টন চাল আমদানি প্রক্রিয়াধীন। সে অনুযায়ী, উৎপাদিত ধান-চাল নষ্ট হওয়ার মাত্রা কমিয়ে আনা সম্ভব হলে প্রকৃতপক্ষেই চালে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করত দেশ।

একই সাথে দৈনিক আমরা যে জনপ্রতি ৩৮০ গ্রাম চাল খাই তা কমিয়ে অন্য খাবার গ্রহণ করলে চালের ওপর চাপ কমে আসত। সবার মতো আমরাও মনে করি, ছোট ভূখণ্ডের বিপুল জনসংখ্যার এই দেশে খাদ্যচাহিদা মেটাতে কৃষিজমির ওপর চাপ প্রতিনিয়ত বাড়ছে। আধুনিক বিজ্ঞানের কল্যাণে খাদ্য উৎপাদন জনসংখ্যার সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়লেও উৎপাদন-পরবর্তী সংগ্রহ ও পরিবহনকালীন অপচয়ে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ খাদ্যশস্য নষ্ট হচ্ছে। তাই ভবিষ্যতে দেশের মানুষের নিরাপদ, পুষ্টিকর খাদ্যের জোগান নিশ্চিত করতে অপচয় কমিয়ে সুষম পুষ্টিকর খাবারের অভ্যাস গড়ে তোলার বিকল্প নেই। এ ছাড়া শস্যের বহুমুখীকরণ ও ভূমির সর্বোত্তম ব্যবহার, কৃষি আধুনিকীকরণ, প্রতিকূলতাসহিষ্ণু নতুন নতুন জাত উদ্ভাবন এবং লাগসই প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও ব্যবহারে সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান নিরলস প্রয়াস চালানো অব্যাহত রাখলে অদূর ভবিষ্যতে দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করবে, এমনটি আশা করা যায়। তাই গ্রামীণ ও কৃষি উন্নয়নের মাধ্যমে উন্নত, সুখী ও সমৃদ্ধিশালী দেশ গড়াই হতে হবে আমাদের একমাত্র লক্ষ্য।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।