চুয়াডাঙ্গা সোমবার , ২১ নভেম্বর ২০১৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বেআইনী পন্থায় ভ্রাম্যমান আদালতে বিচার গাংনীর এসি ল্যান্ড ও ওসিকে ব্যাখ্যা প্রদানে আদালতের নির্দেশ

সমীকরণ প্রতিবেদন
নভেম্বর ২১, ২০১৬ ২:৫৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

aerety

নিজস্ব প্রতিবেদক: জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেসি, মেহেরপুর এর আমলী আদালত-২ (গাংনী) এর বিজ্ঞ বিচারক চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাঃ মহিদুজ্জামান একটি স্থানীয় দৈনিকে প্রকাশিত রিপোর্টের মাধ্যমে গোচরীভূত হন যে, বামুন্দী নিশিপুর কেন্দ্রে জে,এস,সি পরীক্ষার্থীকে উত্যক্ত ও প্রতিবাদ করায় তার পিতাকে মারধরের অভিযোগ অফিসার ইন-চার্জ, গাংনী থানা, মেহেরপুর বিপ্লব হোসেন ও বাচ্চু মিয়াকে ০৭/১১/২০১৬ইং তারিখে গ্রেফতার পূর্বক ০৮/১১/২০১৬ইং তারিখে তাদেরকে এসএম জামাল আহম্মেদ, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (সহকারী কমিশনার ভূমি), গাংনীর ভ্রাম্যমান আদালতে বিচারের নিমিত্ত সোর্পদ করেন। তৎপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইভটিজিং ও ছাত্রীর পিতাকে মারধরের অপরাধের অভিযোগ দন্ডবিধির ৫০৯ধারায় তাদের প্রত্যেককে ০১(এক) বছর কারাদন্ড প্রদান করেন।
এবিষয়ে আইনী আলোচনা ও আইনের আলোকে প্রতীয়মান হয় যে, সংশ্লিষ্ট ভিকটিম পক্ষে তার পিতা অফিসার ইন-চার্জ, গাংনী থানা, মেহেরপুর এর নিকট ভিকটিমকে ইভটিজিং এবং তাকে মারধরের অভিযোগ আনয়ন করেন। আইনগতভাবে আমলযোগ্য অপরাধের অভিযোগ হয়ে থাকলে অফিসার ইন-চার্জ, গাংনী থানা, মেহেরপুর উক্ত অভিযোগটি এফআই আর হিসেবে রেকর্ড করতঃ তদন্ত সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট আমলী ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট পুলিশ রিপোর্ট দাখিল করবেন। আবার আমলঅযোগ্য অপরাধের অভিযোগ হয়ে থাকলে অফিসার ইন-চার্জ, গাংনী থানা, মেহেরপুর অভিযোগটি সাধারণ ডায়রীতে লিপিবদ্ধ করতঃ সংশ্লিষ্ট আমলী ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি সাপেক্ষে তদন্তপূর্বক রিপোর্ট সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট উপস্থাপনা করবেন। কিন্তু মো: আনোয়ার হোসেন, অফিসার ইন-চার্জ, গাংনী থানা, মেহেরপুর তা না করে সম্পূর্ণরূপে বেআইনী পন্থায় ও এখতিয়ার বহির্ভূতভাবে অভিযুক্ত ব্যক্তিদ্বয়কে তথাকথিত মোবাইল কোর্টে সোপর্দ করেছেন।
আবার মোবাইল কোর্ট আইনের ১২(১) ধারা মতে “এই আইনের অধীনে মোবইল কোর্ট পরিচালনাকারী এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট বা ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট পুলিশ বাহিনী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীবাহিনী বা সংশ্লিষ্ট সরকারী কোন সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের সহায়তা  প্রদান করিবে।”
কিন্তু সংশ্লিষ্ট নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোবইল কোর্ট পরিচালনা কালীন বর্ণিত অভিযোগে অভিযুক্তগণকে বিচারের মাধ্যমে সাজা প্রদান করার জন্য থানা পুলিশের সহযোগিতা কামনা করেছিলেন এমনটি পত্রিকার রির্পোট দৃষ্টে প্রতীয়মান হয় না। আবার থানায় দায়ের করা অভিযোগের ক্ষেত্রে (আমলযোগ্য/আমলঅযোগ্য) সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের সাথে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের বিচারিত কাজের আইনগত ফোন যোগসূত্র না থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট অফিসার ইন-চার্জ, গাংনী থানা, মেহেরপুর অভিযুক্তগণকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মোবইল কোর্টে সোর্পদ করেছেন। আবার দন্ডবিধির ৫০৯ ধারায় অভিযুক্তগণকে সংশ্লিষ্ট মোবইল কোর্ট সাজা প্রদান করায় অফিসার ইন-চার্জ, গাংনী থানা, মেহেরপুর অভিযুক্তগণকে উক্ত অপরাধের  অভিযোগে আটক করতঃ মোবাইল কোর্টে সোপর্দ করেছিলেন মর্মে প্রতীয়মান হয়। যেহেতু দন্ডবিধির ৫০৯ ধারা আমলঅযোগ্য অপরাধ সেহেতু উক্ত ধারার অপরাধের অভিযোগে অফিসার ইন-চার্জ, গাংনী থানা, মেহেরপুর অভিযুক্তগণকে আমলী ম্যাজিস্ট্রেট আদেশ  (গ্রেফতারী পরোয়ানা) ব্যতীত আইনগতভাবে আটক করতঃ মোবাইল কোর্টে সোর্পদ করতে পারেন না।
অপরদিকে মোবাইল কোর্ট আইনের ৬(১) ধারা “ক্ষমতাপ্রাপ্ত এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট বা ধারা ১১ এর অধীন ক্ষমতাপ্রাপ্ত ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট আইন শৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ প্রতিরোধ কার্যক্রম পরিচালনা করিবার সময় তফসিলে বর্ণিত আইনের অধীনে কোন অপরাধ, যাহা কেবল জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক বিচার্য, তাহার সম্মুখে সংঘটিত বা উদঘাটিত হইয়া থাকিলে তিনি উক্ত অপরাধ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলেই আমলে গ্রহণ করিয়া অভিযুক্ত ব্যক্তিকে, স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে, দোষী সাব্যস্ত করিয়া, এই আইনের নির্ধারিত দন্ড আরোপ করিতে পারিবেন।”
এতদসত্ত্বেও অভিযুক্ত ব্যক্তিগণ মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকালীন অপরাধ সংঘটিত না করা সত্ত্বেও এবং অপরাধ সংঘটনস্থলে মোবাইল কোর্ট কার্যকর না থাকা সত্ত্বেও পুলিশ বিধি বহির্ভূতভাবে অভিযুক্তগণকে সংশ্লিষ্ট নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এর নিকট বিচারের জন্য সোপর্দ করলে তিনিও এখতিয়ার ও আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূতভাবে অভিযুক্ত ব্যক্তিগণকে বিচারিক কার্যধারায় সাজা প্রদান করেন।
উপরোক্ত আলোচনা ও পর্যবেক্ষন সূত্রে দেখা যায় যে, সংশ্লিষ্ট অফিসার ইন-চার্জ, গাংনী থানা, মেহেরপুর ও সংশ্লিষ্ট নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (সহকারী কমিশনার ভূমি) গাংনী, মেহেরপুর আইন বহির্ভূতভাবে অভিযুক্তগণকে আটক করতঃ বিচারিক কার্যধারায় মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে সাজা প্রদান করেছেন। যেহেতু উপরোক্ত কর্মকর্তাদ্বয় সরকারের নির্বাহী প্রশাসনের দায়িত্বশীল আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তা সেহেতু উভয় কর্মকর্তা প্রচলিত আইন ও বিধি বিধান সম্পর্কে সম্যক জ্ঞানের অধিকারী মর্মে পরিগণিত হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদ্বয় আইনী জ্ঞানের অধিকারী পদস্থ দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হওয়া সত্ত্বেও যেভাবে বিধিবদ্ধ আইনের অপপ্রয়োগ করেছেন তাতে দুরভিসন্ধিমূলকভাবে তারা উপরোক্ত কর্মকান্ড সংঘটিত করেছেন মর্মে আদালত মনে করেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদ্বয়ের উপরোক্ত বর্ণিত কর্মকান্ড দন্ডবিধির ২১৯ ও ২২০ ধারার অধিনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
প্রেক্ষিতে বিবেচনায় উপরোক্ত বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের পূর্বে বিচারিক কার্যধারায় অভিযুক্তগণকে সোপর্দ করতঃ সাজা প্রদান সংক্রান্তে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদ্বয়ের আত্মপক্ষ সমর্থনমূলক আইনগত ব্যাখ্যা তলব করা যুক্তিযুক্ত মর্মে আদালতের নিকট বিবেচিত হয়। সঙ্গত কারণে আগামী ২২/১১/২০১৬ ইং তারিখের মধ্যে উপরোক্ত বর্ণিত আইন বহির্ভূত বিচারিক কার্যধারা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদ্বয়কে স্ব স্ব ভূমিকা বিষয়ে নিজে অথবা দায়িত্বশীল প্রতিনিধির মাধ্যমে আইনগত ব্যাখ্যা প্রদানে বিজ্ঞ বিচারক নির্দেশ প্রদান করেন।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।