চুয়াডাঙ্গা শুক্রবার , ২ অক্টোবর ২০২০
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বীর মুক্তিযোদ্ধা কমরেড আলী জাফরের স্মরণসভা অনুষ্ঠিত

সমীকরণ প্রতিবেদন
অক্টোবর ২, ২০২০ ১১:২৭ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

নিজস্ব প্রতিবেদক:
বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক নেতা চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের জিএস (১৯৬৭), মহাকুমা ন্যাপের সাধারণ সম্পাদক, সোরওয়ার্দী স্মরণী বিদ্যাপীঠ (হাইস্কুল)-এর প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক, বীর মুক্তিযোদ্ধা কমরেড আলী জাফরের স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা গণমঞ্চ-এর উদ্যোগে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে চুয়াডাঙ্গা জেলা শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে তাঁর ৪৮তম মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে এ স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় অংশগ্রহণ করেন কমরেড লুৎফর রহমান, এড. মনিরুজ্জামান মনি, হাজী আজিজুল হক, কমরেড সৈয়দ মজনুর রহমান, এড. কামরুল আরেফিন সদন, শিক্ষাবিদ খলিলুর রহমান, মাওলানা নাসির উদ্দিন (আলী জাফরের ছোট ভাই), বাল্যবন্ধু বদরুল আলম, বজলুর রহমান (আলী জাফরের খালাতো ভাই)। স্বাগত বক্তব্য দেন কমরেড আলাউদ্দিন উমর, হাবিবি জহির রায়হান। সঞ্চালনা করেন কমরেড লিটু বিশ্বাস। সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন কাজল মাহমুদ।
উল্লেখ্য, ১৯৭২ সালের ১লা অক্টোবর প্রকাশ্য দিবালোকে তাঁকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিলো। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন এসে যায় ‘কারা তাঁকে হত্যা করেছিলো? কেন তাঁকে হত্যা করেছিলো? এ দু’টি প্রশ্নের উত্তর একত্রে সংক্ষিপ্তভাবে দেওয়া যায় এভাবে, যারা বিপ্লবকে ভয় করে, কমিউনিস্টদের যারা শত্রু মনে করে তারা শ্রেণিসংগ্রামকে থামিয়ে দেবার জন্য, সমাজতান্ত্রিক সমাজ বিনির্মাণের স্বপ্নকে বিনাশ করার জন্য চুয়াডাঙ্গা মহকুমা ন্যাপের সাধারণ সম্পাদক অসাধারণ সংগঠক (ন্যাপের ভেতরে ফবঢ়ঁঃবফ বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবি’র সদস্য) বর্তমান চুয়াডাঙ্গা জেলার সদর উপজেলাধীন খেজুরা গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আলি জাফরকে হত্যা করেছিলো। মাধ্যমিকের ছাত্রাবস্থাতেই তিনি ছাত্ররাজনীতির পাঠ নেন। তখন মেধাবী ছাত্ররাই প্রগতিশীল ছাত্রসংগঠন ছাত্র ইউনিয়নের সাথে যুক্ত হতো অসম্ভব দেশপ্রেমিক চেতনায়। প্রতি শ্রেণিতে পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকারী প্রখর মেধাসম্পন্ন আলি জাফরও তার ব্যতিক্রম ছিল না। যে চেতনার শুরু হয়েছিলো তাঁর হৃদয়ে তার প্রকাশ হতে দেরি হয়নি। ধারণা করি, সাংগঠনিক কর্মের পাশাপাশি তাঁর চিন্তা-ভাবনা তিনি লিপিবদ্ধ করতে থাকেন তাঁর স্বরচিত কবিতা, গল্প, নাটক, গীতিনাট্য, গীতিকাব্য, গান, নিবন্ধ ও আত্ম-কথায়। রাজনৈতিক তাত্ত্বিক রচনাও কম নয়। জগন্নাথ কলেজ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেবার পর তিনি নিজ এলাকায় একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন এবং মিলিত প্রচেষ্টায় গড়ে ওঠা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির নাম দেন ‘ডিঙ্গেদহ মিলন বিদ্যাপীঠ’। তাঁকে প্রধান শিক্ষক হিসেবে এ বিদ্যালয় পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়। স্বাধীনতার পর অবশ্য এ বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তিত হয়ে ‘সোহরাওয়ার্দী স্মরণী বিদ্যাপীঠ’ নামাঙ্কিত হয়। শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি বিদ্যালয়ের বাইরের যে বৃহৎ জনগোষ্ঠী, রবীন্দ্রনাথের ভাষায় ‘এইসব মূঢ় মুখে দিতে হবে ভাষা’, সেই ‘শিক্ষার্থী’দের রাজনৈতিক শিক্ষায় দীক্ষিত করে তোলার নিরলস প্রচেষ্টায় যুক্ত হন। গ্রামের পর গ্রাম পায়ে হেঁটে কিংবা বাইসাইকেলে তিনি পৌঁছে যেতেন তাদের পর্ণকুটিরে, তাদের হৃদয়ের বিস্তৃত খোলা প্রান্তরে। দুর্ভেদ্য এক এলাকা গড়ে তুলেছিলেন, যেখানে ন্যাপ-কমিউনিস্ট পার্টি-ছাত্র ইউনিয়ন-কৃষক সমিতি ছাড়া অন্য রাজনৈতিক সংগঠন তাদের সাংগঠনিক তৎপরতায় সুবিধা করতে পারছিল না। হয়তো এ কারণেই তৎকালীন প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী বর্তমান আলমডাঙ্গা উপজেলার খুদিয়াখালির মোড়ে রাস্তার পাশে ঝোঁপ-ঝাঁড়ের আড়ালে লুকিয়ে থেকে সাংগঠনিক সভাশেষে মোটরসাইকেলযোগে আলমডাঙ্গা থেকে ফেরার পথে আলি জাফরকে নৃশংসভাবে হত্যা করে। ধারণা করা হয়, স্বাধীন বাংলাদেশে এটাই প্রথম পরিকল্পিত রাজনৈতিক হত্যাকান্ড। তবে শারীরিকভাবে চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের জনপ্রিয় জিএস, ছাত্র ইউনিয়ন চুয়াডাঙ্গা মহকুমা সংসদের সাধারণ সম্পাদক, ন্যাপ চুয়াডাঙ্গা মহকুমা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাত্র প্রায় ত্রিশ বছর বয়সী (জন্ম : ১০ নভেম্বর ১৯৪২ খ্রি.) আলি জাফরকে হত্যা করা হলেও তাঁর রাজনৈতিক আদর্শকে হত্যা করতে পারেনি হত্যাকারী প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।