বিয়ে করায় নাছিমার নেশা!

314

প্রতিবেদক, মেহেরপুর:
একের পর এক তথ্য গোপন করে ৫ পুরুষকে বিয়ে করে তাঁদের কাছ থেকে অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে নাছিমা খাতুন নামের এক নারীর বিরুদ্ধে। নাছিমা খাতুন মেহেরপুর জেলার মুজিবনগর উপজেলার আনন্দবাস গ্রামের মৃত আবেদ আলীর মেয়ে। মামলা করেও তাঁর হাত থেকে রেহায় পাচ্ছেন না ভুক্তভোগীরা।
অভিযোগে জানা যায়, একটি করে বিয়ে করে আর স্বামীর কাছ থেকে মোটা অংকের টাকাসহ স্বর্ণালঙ্কার হাতিয়ে নেওয়ায় নাছিমার পেশা। সর্বশেষ স্বামী আতিয়ার রহমানের কাছ থেকেও একইভাবে টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার হাতিয়ে নিয়ে এখন প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন আতিয়ার রহমান। এ ঘটনার পর আতিয়ার ও তাঁর পরিবার এখন ঘরছাড়া। নাছিমা মেহেরপুর জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (১) আদালতে যৌতুক নিরোধ আইনে মামলা দায়ের করেন স্বামী আতিয়ার রহমানের বিরুদ্ধে। মেহেরপুর প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট বেগম রাফিয়া সুলতানার আদালত মামলাটি খারিজ করে দেন। পরে ২০১৯ সালের ২৯ মে উভয়পক্ষের স্বাক্ষরিত একটি আপস-মীমাংসা করা হয়। কিন্তু আপস-মীমাংসার পর আবারও বিভিন্নভাবে হয়রানি করেছেন আতিয়ারকে। পরে আতিয়ার বাধ্য হয়ে আদালতের দারস্ত হয়েছেন।
আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে মুজিবনগর থানা পুলিশকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। তদন্ত কমিটি গঠন করে ঘটনার সত্যতাও পেয়েছে। তদন্তে মুজিবনগর থানা পুলিশের এসআই মো. মোমিনুর রহমান বলেছেন, গত ১৫/১১/২০১৫ইং তারিখে তাঁদের বিবাহ হয়। এই বিবাহর আগে ১৯৯৭ সালের ২৪ ডিসেম্বর মুজিবনগরের আনন্দবাসের মো. নাজির উদ্দীনের ছেলে আশরাফুল হকের সঙ্গে নাছিমার বিয়ে হয়। এরপর ১৯৯৯ সালের ১৩ জুলাই আনন্দবাস মুচিপাড়া গ্রামের আইনদ্দিনের ছেলে সামসের আলীর সঙ্গে তার বিয়ে হয়। এরপর ২০০১ সালের ২ মে পুনরায় তিনি মুজিবনগরের গোপালনগর গ্রামে পাতান শেখের ছেলে রেজাউল হককে বিয়ে করেন। এরপর সে ২০০৭ সালে রামনগর গ্রামের হাজি মোল্লার ছেলে মিজান মোল্লাকে বিয়ে করেন।
আতিয়ার রহমান বলেন, ‘২০১৫ সালের ১৫ নভেম্বর আমার সাথে নাসিমার বিয়ে হয়। কিন্তু এ বিবাহের পূর্বে নাছিমার আরও চারবার বিয়ের কথা সে গোপন রাখে। নাইট কোচে ডিউটির সুবাদে নাছিমা বিভিন্ন জায়গায় পরকীয়ায় লিপ্ত হয়। এরপর নাছিমার পরকীয়া ও চার বিয়ের কথা প্রকাশ পেয়ে যায় আমার কাছে। এসময় নাছিমা আমার বাড়ি থেকে নগদ দেড় লাখ টাকা ও এক ভরি স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে তাঁর বাপের বাড়ি চলে যায়। এর পরের দিন আমি নাছিমার কাছে টাকা ও স্বর্ণালঙ্কারের বিষয়ে জানতে চাইলে সে আমাকে বিভিন্ন রকম হুমকি-ধামকি দেয়। আমি বাধ্য হয়ে আদালতের আশ্রয় নিয়েছি। বিষয়টি আমলে নিয়ে আদালত মুজিবনগর থানা পুলিশকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।’
আনন্দবাস গ্রামের ইউপি সদস্য আনারুল ইসলাম জানান, তাঁর একাধিক স্বামী ছিল। সে মেয়ের আচরণ ভালো না। বিয়ে করা যেন নাছিমার নেশায় পরিণত হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধেই মামলা করা দরকার। এ বিষয়ে নাসিমা খাতুনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।