চুয়াডাঙ্গা মঙ্গলবার , ২২ মার্চ ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বিশ্বে বায়ুদূষণের শীর্ষে বাংলাদেশ

সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
মার্চ ২২, ২০২২ ৪:০৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

সমীকরণ প্রতিবেদন:

বিশ্বের সবচেয়ে বায়ু দূষিত দেশের তালিকা প্রকাশ করেছে বায়ুদূষণ ও বায়ু পরিশোধন প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা সুইস সংস্থা আইকিউ এয়ার। সদ্য প্রকাশিত রিপোর্টে ১১৮ দেশের মধ্যে শীর্ষে বাংলাদেশ। আর রাজধানী হিসেবে ঢাকা দ্বিতীয়।

মঙ্গলবার (২২ মার্চ) ওয়ার্ল্ড এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) বাংলাদেশ -১৬১ আর ঢাকা-২০৭ রেকর্ড করা হয়েছে।

ইনডেক্সে আজকের দিনে ঢাকার বায়ু খুবই অস্বাস্থ্যকর বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়াও বাংলাদেশের সব থেকে দূষিত শহর ঢাকা এবং পরিচ্ছন্ন শহর বলা হয়েছে কুমিল্লাকে।

প্রতিদিনের বাতাসের মান নিয়ে তৈরি করা একিউআই সূচক একটি নির্দিষ্ট দেশ ও শহরের বাতাস কতটুকু নির্মল বা দূষিত সে সম্পর্কে মানুষকে তথ্য দেয় এবং তাদের জন্য কোনো ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে তা জানায়।

বাংলাদেশে একিউআই নির্ধারণ করা হয় দূষণের পাঁচটি ধরনকে ভিত্তি করে- বস্তুকণা (পিএম১০ ও পিএম২.৫), এনও২, সিও, এসও২ এবং ওজোন (ও৩)।

এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) ৫১ থেকে ১০০ স্কোর থাকলে বাতাসের মানকে গ্রহণযোগ্য ধরা হয়। সেখানে সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীর একিউআই স্কোর ৪০০ ছাড়াতে দেখা গেছে।

ঢাকায় ইউএস কনস্যুলেটের ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী এ অবস্থা বিদ্যমান থাকলে একিউআইয়ের সর্বোচ্চ স্কোর ৫০০ ছাড়াতেও পারে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নগরবাসীর কাছে যানজটের পাশাপাশি আরেক যন্ত্রণার নাম বায়ুদূষণ। মাত্রাতিরিক্ত দূষণের কবলে নগরজীবন বিভীষিকাময় হয়ে উঠেছে। বাড়িয়ে তুলছে স্বাস্থ্যঝুঁকি। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে শিশু, বৃদ্ধ ও শ্বাসতন্ত্রের রোগীরা।

দূষণের মাত্রা দিন দিন বেড়ে চললেও কর্তৃপক্ষ কার্যত কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না এমন অভিযোগ রয়েছে পরিবেশবিদদের। ঢাকার উন্নয়ন প্রকল্পকে ঘিরে সকাল-বিকাল পানি ছিটানো হলেও আশানুরূপ ফল দৃশ্যমান নয়।

এ অবস্থায় সিটি করপোরেশনের পানি ছিটানোর কাজে সার্বক্ষণিক তদারক এবং বাতাসের মান স্বাভাবিক ও জীবনযাত্রায় স্বস্তি ফেরাতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার কথা বলছেন সংশ্লিষ্টরা। দূষণের মাত্রা যেভাবে বেড়েছে তা নিয়ন্ত্রণ করতে হলে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গাড়ির কালো ধোঁয়া কমানো ও অপরিকল্পিত নির্মাণকাজের লাগাম টেনে ধরা প্রয়োজন বলে মনে করেন অনেকে।

২০১৯ সালের মার্চ মাসে পরিবেশ অধিদপ্তর ও বিশ্বব্যাংকের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ঢাকার বায়ু দূষণের তিনটি প্রধান উৎস হলো- ইটভাটা, যানবাহনের ধোঁয়া ও নির্মাণ সাইটের ধুলো।

জাতিসংঘের তথ্যমতে, বিশ্বব্যাপী প্রতি ১০ জনের মধ্যে ৯ জন দূষিত বাতাসে শ্বাস নেন এবং বায়ুদূষণের কারণে প্রতি বছর প্রধানত নিম্ন ও মধ্য আয়ের দেশে আনুমানিক ৭০ লাখ মানুষের অকাল মৃত্যু ঘটে।

প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা সংস্থা হেলথ ইফেক্টস ইনস্টিটিউটের তথ্যমতে, দেশে বায়ুদূষণের কারণে প্রতি বছর প্রাণ হারাচ্ছে ১ লাখ ২২ হাজার ৪০০ মানুষ। অন্যদিকে বিশ্বব্যাংকের ২০১৮ সালের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বায়ুদূষণজনিত বার্ষিক মৃতের গড় সংখ্যা ৪৬ হাজার।

জাতিসংঘ শিশু তহবিলের (ইউনিসেফ) তথ্য বলছে, বিশ্বে ৩০ কোটি শিশু দূষিত বায়ু পরিবেষ্টিত এলাকায় বাস করে। এর মধ্যে ২২ কোটিই দক্ষিণ এশিয়ার বাসিন্দা।

সমীক্ষা বলছে, ২০২১ সালে ভারতের সামগ্রিক দূষণের মাত্রা আরও খারাপ হয়েছে এবং নয়াদিল্লি আবারো বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত রাজধানীর তকমা পেয়েছে।

বাংলাদেশ আগের বছরের মতো ২০২১ সালেও সবচেয়ে দূষিত দেশের স্বীকৃতি পেয়েছে। সমীক্ষায় প্রথমবারের মতো আফ্রিকার দেশগুলোর তথ্য নেয়ায় চাদ দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে।

২০১৪ সাল থেকে দূষণের বিরুদ্ধে কার্যত যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ায় চীন ২০২১ সালে পিএম২.৫ র‌্যাংকিংয়ে ২২তম স্থানে নেমে এসেছে। এর আগের বছর দেশটির অবস্থান ছিলো ১৪তম। আইকিউএয়ার বলছে, ২০২০ সালের তুলনায় কিছু উন্নতি হয়ে ২০২১ সালে চীনে পিএম২.৫ মাত্রা ৩২.৬ মাইক্রোগ্রামে নেমে এসেছে।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।