চুয়াডাঙ্গা বৃহস্পতিবার , ১২ জানুয়ারি ২০২৩
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বিশ্বজুড়ে ফের মন্দার সতর্কবার্তা

সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
জানুয়ারি ১২, ২০২৩ ১১:৩৯ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

Girl in a jacket

সমীকরণ প্রতিবেদন:

ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ অব্যাহত রয়েছে এবং বিশ্বের প্রধান অর্থনীতির চালিকা শক্তি থমকে গেছে। এছাড়া বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সুদের হার বৃদ্ধির প্রভাব তীব্র হচ্ছে। এসব কারণে ২০২৩ সালে প্রবৃদ্ধি কমার পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্ব ব্যাংক। সতর্ক করা হয়েছে মন্দা নিয়ে। গত মঙ্গলবার বিশ্ব ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ডেভিড ম্যালপাস এসব সতর্কবার্তা দেন। এদিকে, মঙ্গলবার প্রকাশিত ‘গ্লোবাল ইকোনমিক প্রসপেক্টস জানুয়ারি ২০২৩’ নামক এক বার্ষিক প্রতিবেদনে বিশ্ব ব্যাংক এই তথ্য সামনে এনেছে যে, চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি নামবে ৫.২ শতাংশে। বিশ্ব ব্যাংক বলছে, ২০২৩ সালে বিশ্বব্যাপী প্রবৃদ্ধি হতে পারে ১.৭ শতাংশ। যা ২০০৯ ও ২০২০ সালের মন্দার বাইরে ১৯৯৩ সালের পর সবচেয়ে কম। যেখানে প্রতিষ্ঠানটি গত বছরের জুনেও ৩ শতাংশ পর্যন্ত প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিল। এদিকে, বিশ্ব ব্যাংক ২০২৪ সালে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ২.৭ শতাংশ বাড়ার পূর্বাভাস দিয়েছে। তবে ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে গড় প্রবৃদ্ধি ২ শতাংশের নিচে হবে। ১৯৬০ সালের পর পাঁচ বছরের মধ্যে এই প্রবৃদ্ধি সবচেয়ে কম।

বিশ্ব ব্যাংকের বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘ভঙ্গুর অর্থনৈতিক অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে, প্রত্যাশিত মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সুদের হারের আকস্মিক বৃদ্ধি, কোভিড-১৯ মহামারি থেকে অর্থনীতির পুনরুদ্ধার কিংবা ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা বিশ্ব অর্থনীতিকে ধাক্কা দিতে পারে। বিশ্ব ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ডেভিড ম্যালপাস বিবৃতিতে আরও বলেছেন, ‘প্রবৃদ্ধি ও ব্যবসায়িক বিনিয়োগে দুর্বল শিক্ষা, স্বাস্থ্য, দারিদ্র্য এবং অবকাঠামো ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্রমবর্ধমান চাহিদার মধ্যে বিধ্বংসী পরিবর্তন আরও জটিলতা তৈরি করবে।’ ২০২২ সালে চীনের প্রবৃদ্ধি ২ দশমিক ৭-এ নেমে আসে, যা ২০২০ এর পরে ১৯৭০-এর দশকের মাঝামাঝি থেকে দ্বিতীয় ধীরগতিসম্পন্ন। জিরো-কোভিড বিধিনিষেধ বাজারে অস্থিরতা, উৎপাদন ও বিনিয়োগকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে দেশটির। চীনের প্রবৃদ্ধি ২০২৩ সালে ৪ দশমিক ৩-এ ফিরে আসার পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্ব ব্যাংক। কিন্তু কোভিড সংক্রমণ বেড়ে যাওয়া এবং বাহ্যিক চাহিদা দুর্বল হওয়ার কারণে গত জুনের পূর্বাভাসের চেয়ে শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ পয়েন্ট কম।

বিশ্ব ব্যাংক উল্লেখ করেছে, মুদ্রাস্ফীতির চাপ কমতে শুরু করেছে কোথাও কোথাও। কিন্তু সতর্ক করেছে নতুন করে পণ্য সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি বেশি এবং মুদ্রাস্ফীতি অব্যাহত থাকতে পারে। এটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো বর্তমান প্রত্যাশার চেয়ে বেশি সুদের হার বাড়িয়ে বিশ্বব্যাপী মন্দা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। স্বল্প আয়ের দেশগুলোকে খাদ্য ও জ্বালানির ধাক্কা সামলাতে, সংঘর্ষের কারণে বাস্তুচ্যুত হওয়া লোকজন ও ঋণ সংকটের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি মোকাবিলায় সহায়তার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে বর্ধিত সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে বিশ্ব ব্যাংক। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, জলবায়ু অভিযোজন, মানবিক পুঁজি ও স্বাস্থ্যে বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য বেসরকারি পুঁজি ও দেশীয় সম্পদের পাশাপাশি নতুন ছাড়যুক্ত অর্থায়ন ও অনুদান প্রয়োজন। জলবায়ু পরিবর্তন ও অন্যান্য বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় ঋণ দেওয়ার ক্ষমতা ব্যাপকভাবে প্রসারিত করার লক্ষ্যে বিশ্ব ব্যাংকের বোর্ড এ সপ্তাহে একটি নতুন ‘রোড ম্যাপ’ বিবেচনা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, এর আগে বৈশ্বিক মন্দা নিয়ে সতর্ক করেন আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) প্রধান ক্রিস্টালিনা জর্জিভা। তিনি বলেন, চলতি বছর বিশ্ব অর্থনীতির এক-তৃতীয়াংশ মন্দার মধ্যে থাকবে। ‘বাংলাদেশে প্রবৃদ্ধি নামবে ৫.২ শতাংশে’ এদিকে, মঙ্গলবার প্রকাশিত ‘গ্লোবাল ইকোনমিক প্রসপেক্টস জানুয়ারি ২০২৩’ নামক এক বার্ষিক প্রতিবেদনে বিশ্ব ব্যাংক এই তথ্য সামনে এনেছে যে, চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি নামবে ৫.২ শতাংশে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি, গৃহস্থালীর আয় ও সংস্থাগুলোর ব্যয়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব, সেইসাথে জ্বালানি ঘাটতি, আমদানি বিধিনিষেধ এবং মুদ্রানীতি কঠোর হওয়ার কারণে ২০২২-২৩ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৫.২ শতাংশে নামবে বলে আশা করা হচ্ছে।’ আরও বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশের অনুমিত এই প্রবৃদ্ধি আগের বছরের ৭.২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির তুলনায় কম। কিন্তু আশা করা হচ্ছে, এটি আবারও বাড়বে এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বাংলাদেশ তার সম্ভাব্য গতিতে ফিরে আসবে।’ অবশ্য পরিবর্তিত বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাবে বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বিশ্ব ব্যাংক বলেছে, বিশ্বব্যাপী জ্বালানির দাম এবং পরিবার ও ব্যবসার জ্বালানি চাহিদা মেটানোর বিষয়ে বাংলাদেশ বেশ সংকটের মধ্যে ছিল। ওয়াশিংটন-ভিত্তিক এই ঋণদাতা সংস্থার মতে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ হ্রাস বাংলাদেশের অর্থনীতির সংকটে পড়ার ঝুঁকি বাড়িয়েছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, ‘উচ্চ মূল্যবৃদ্ধির জেরে সরকার জ্বালানি খরচ কমাতে ব্ল্যাকআউট এবং কারখানা বন্ধ করার মতো পদক্ষেপ নিয়েছে।’ ‘একইসঙ্গে যানবাহন ক্রয় বন্ধ করে দেওয়া এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংরক্ষণের জন্য অন্যান্য পদক্ষেপের মধ্যে বিলাসবহুল পণ্য ক্রয় করাও কঠিন করে বাংলাদেশ সরকার।’ বিশ্ব ব্যাংক বলেছে, করোনা মহামারির কারণে ২০১৯-২০ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ছিল ৩ দশমিক ৪ শতাংশ। এরপর ২০২০-২১ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬ দশমিক ৯ শতাংশ। আর গত অর্থবছরে এই প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৭ দশমিক ২ শতাংশ। এছাড়া চলতি বছর বৈশ্বিক অর্থনীতি ‘বিপজ্জনকভাবে মন্দার কাছাকাছি’ আসবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে বিশ্ব ব্যাংক। মঙ্গলবার সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, বিশ্বের শীর্ষ অর্থনীতি- যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ এবং চীনের দুর্বল প্রবৃদ্ধির জেরে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।

 

Girl in a jacket

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।