বিল বকেয়া থাকায় গ্রাহকের বিদ্যুত সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে গিয়ে বিপাকে পবিস কর্মকর্তা

356

দর্শনা অফিস: ৬ মাসের বিদ্যুৎ বিল বকেয়া হওয়ায় গ্রাহকের বৈদ্যুতিক লাইন বিছিন্ন করতে গিয়ে কর্তৃপক্ষ বিপাকে পড়েছে। এলাকাবাসীর দাবী, কর্তৃপক্ষের কর্তব্যের অবহেলায় নিরবে ঠকছে শত শত গরীব পরিবার। গতকাল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মেহেরপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির দর্শনা শাখার আওতাধীন পৌর শহর হল্ট চাঁদপুর ষ্টেশন পাড়ায় বকেয়া বিদ্যুৎ বিল গ্রাহকদের বৈদ্যুতিক লাইন বিছিন্নকরনের অভিযান চলে। অভিযান পরিচালনা করেন অত্র প্রতিষ্ঠানের দর্শনা শাখার ইন্সপেকশন অফিসার মুনছুর আলী।
দর্শনা হল্ট ষ্টেশন পাড়ার আকালদ্দিন জোয়ার্দ্দারের ছেলে জসিম উদ্দিনের বাড়িতে এ অভিযান চালানো হয়। এ সময় জসিম বাড়ি থেকে বিদ্যুৎ বিলের কাগজ গুলো বের করে অফিসারের কাছে জানতে চান, জুন মাসে তার বিদ্যুত বিল এসেছে ২৪০ টাকা। কিন্তু জুলাই মাসে একই বিদ্যুৎ ব্যবহার করে বিল এসেছে ৬৮৭ টাকা। এর রহস্য জানতে চাওয়ায় বিদ্যুৎ অফিসার মুনছুর আলী উগ্র মেজাজ নিয়ে জসিমের উপর আক্রমনাত্মক ভাব নিয়ে জসিমকে ধাক্কা দেয়। এসময় তিনি বলেন, বিদ্যুত বেশি ব্যবহার করেছিস, বিল দিবি না কেন। ঘটনা স্থলের আশপাশ উপস্থিত থাকা জনতা এসময় ছুটে আসে জসিমের বাড়ির সামনে। অফিসারের আপত্তিকর আচারন জনগন উত্তেজিত হওয়ার একপর্যায়ে ওই অফিসার সেখান থেকে সটকে পড়েন।
এসময় জনগন বিদ্যুত অফিসের কর্মকর্তাদের ওপর অভিযোগ করে বলেন, কর্তৃপক্ষের কর্তব্যের অবহেলায় নিরবে ঠকছে শত শত গরীব পরিবার। এলাকার বেশ কয়েকজন সুধি ব্যক্তি বলেন, কর্তব্যে অবহেলায় নিয়মিত মাসিক মিটার রিডিং না করায় এ সমস্যার সম্মুখিন হচ্ছে গ্রাহকরা।
এলাকা সুত্রে জানা যায়, ২-৩ মাস পরপর মিটার রিডিং করতে আসে বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ। যদিও এর মধ্যে তাদের মনগড়া কম রিডিং বসিয়ে দেয় বিদ্যুৎ বিলে। কিন্তু পরবর্তি মাসে রিডিং করতে এসে ঐ বাড়তি রিডিং সমন্নয় করে দেয় চলতি বিলের সাথে। কিন্তু ঘটনা দেখা যায় যদি কোন ব্যাক্তির ৭৫ ইউনিটের নিচে বিদ্যুৎ ব্যাবহার হয় তাহলে সে ক্ষেত্রে ৩.৮০ টাকা রেটে বিদ্যুত বিল আসে। এভাবে যদি ৩ মাস রিডিং না করতে এসে মনগড়া একটি ইউনিট বসিয়ে দেওয়ার পর এক সময় দেখা যায় বিদ্যুতের ব্যাবহার একটু বেশি হলে ঐ বেশি ব্যাবহার টা চলতি মাসে ধরে দেওয়া হয়। কিন্তু যখন ইউনিট বেশি ধরা হয় তখন নিয়ম অনুযায়ী ৭৫ ইউনিটের উপরে ১২৫ ইউনিট পর্যন্ত ৫.১৪টাকা রেটে বিদ্যুৎ বিল বসানো হয়। এভাবে কর্তব্যে অবহেলা করে সুভঙ্করের ফাকি দিয়ে নিরবে ঠকাচ্ছে শত শত গরীব মানুষের।
অভিযান সম্পর্কে বিদ্যুৎ অফিসার মুনছুরের নিকট দর্শনা পৌর শহরের তার অভিযান চলাকালে কয়জন ব্যক্তির বিদ্যুৎ লাইন বিছিন্ন করা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকের কথা হাস্যকরভাবে উড়িয়ে দিয়ে তথ্য প্রদানে অপারগতা স্বীকার করেন। এ বিষয়ে এজিএম মনিরুল ইসলামের সাথে কথা বললে তিনি জানান, আমি বাইরে এসেছি।
তাহলে কি তথ্য না দেওয়ার পিছনে কোন রহস্য জড়িয়ে আছে, নাকি বিদ্যুৎ অফিসার মুনছুর লাইন বিছিন্ন করে তাদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে কথিত দালালদের মাধ্যমে গোপনে আবার বিদ্যুৎ সংযোগ দিচ্ছে এমনটায় সন্ধেহ করছে এলাকার সুধীজন।