চুয়াডাঙ্গা সোমবার , ২৩ মে ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বিলের পানিতে দৃষ্টিনন্দন ‘পদ্মফুল’

সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
মে ২৩, ২০২২ ৮:৪৬ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

আকিমুল ইসলাম: প্রতিদিন সূর্যোদয়ের সঙ্গে পানিতে ভেসে উঠছে পদ্মফুল। আর এই দৃষ্টিনন্দন দৃশ্য দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন দর্শনার্থীসহ স্থানীয় সবুজপ্রেমীরা। চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার তিতুদহ ইউনিয়নের নুরুল্লাহপুর (বড় আড়িয়া) গ্রামের বিলের জলাশয়ে দেখা মিলছে এমন দৃশ্য। হাজার হাজার ফুল ফুটে আছে পানির ওপরে, দেখলে মনে হচ্ছে পানির ওপরে গোলাপী রঙের ছড়াছড়ি। কোনোটা ফুটে গেছে সম্পূর্ণ, কোনোটা সকালে ফুটেছে, আবার বেশিরভাগ কলিতে দাঁড়িয়ে আছে। অনিন্দ্য সৌন্দর্যের কারণে জলজ ফুলের রাণী বলা হয় পদ্মফুলকে। আগে বর্ষা ও শরৎকালে বিল-ঝিলের পানিতে ফুটতে দেখা যেত মনোহারি পদ্মফুল। কিন্তু দেশের জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অনেক জলজ উদ্ভিদ এখন প্রায় বিলুপ্ত হতে চলেছে। আগের মতো বিল-ঝিলের জৌলুসতা এখন নেই। এতে হারিয়ে যাচ্ছে শাপলা, পদ্মফুলসহ আরও অনেক জলজ উদ্ভিদ।

উদ্ভিদবিদের মতে, পদ্মর সুবাস শাপলার চেয়ে তুলনামূলক বেশি। তবে দুটোই দু’ধরণের জাত। ফুল ও পাতাও আলাদা। পদ্মফুল শাপলা ফুল থেকে আকারে বড়। পদ্মফুলে এক জাতীয় ফল হয়। শ্রাবণ থেকে আশ্বিন মাস পর্যন্ত গ্রামীণ জনপদে শাপলা ও পদ্মর খোঁজ মেলে। শত বছরের অধিক সময় ধরে তিতুদহের নুরুল্লাহপুর বিলে ফুটে আসছে এই সুন্দরী ফুল। এখন সেখানে যেন পদ্মফুলের সমাহার। কেউ কেউ দাঁড়িয়ে তাদের মুঠোফোনে ছবি তুলে রাখছেন। কেউবা আবার সেলফি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করছেন। সবুজ পাতার ওপরে ছোট-বড় গোলাপি পদ্মের পাপড়ি সত্যিই দেখতে মনোমুগ্ধকর।

এখানে ঘুরতে আসা মো. মেহেদী হাসান জানান, একই সঙ্গে দুটি সৌন্দর্য্য উপভোগ করা যায় এখানে। পার্শ্ববর্তী বাওড়সহ উন্মুক্ত বিলের (জলাশয়ে) পানিতে ফোঁটা শাপলা ও পদ্মফুলগুলোর সৌন্দর্য উপভোগ করার মতোই। গোলাপী বর্ণের এই ফুল যে কারও নজর কাড়বে। স্মৃতি ধরে রাখার জন্য মুঠোফোনে ছবি তুলেও রেখেছেন তিনি। পরিবেশপ্রেমী নিশান মিয়া জানান, পদ্ম আর শাপলা এক নয়। এদের নাম ও আকার ভিন্ন। শ্রাবণ মাসে শাপলা ও পদ্মফুল ফোটে। জলজ উদ্ভিদ শাপলা ও পদ্ম প্রাকৃতিকভাবে জন্মে থাকে। তবে বিল-ঝিল, জলাশয়, ডোবা ভরাট হয়ে যাওয়ায় এগুলো এখন অনেকটাই বিলুপ্তির পথে।

স্থানীয় কিছু সচেতন মহল বলেন, এর আগে আর বেশি জায়গা নিয়ে কয়েক প্রজাতির পদ্মাসহ বাহারি জাতের ফুল ফুটতো। তবে এখন বিলের আশপাশে মাছ চাষের কারণে সব ফুলের গাছ কাটাসহ মূল উপড়ে ফেলাই পদ্মের গাছসহ ফুলের সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। এছাড়া অযথা কিছু মানুষ ফুল ছিড়ে নিয়ে যাওয়া বা পাতা কেটে নিয়ে যাওয়ার কারণটা অনেক ক্ষতির কারণ এই ফুলকে আগামী প্রজন্মের জন্য টিকে থাকার। শুধু ফুল নই, ফলের কারণেও বেশ সুনাম আছে পদ্মের। প্রতি বছর এই বিলের পদ্ম ফল যা গ্রামের ভাষায় ‘ফোবল’ বেশ সুস্বাদু তাই বাঁচ্চাদেরসহ বয়স্ক মানুষের বেশ প্রিয় হিসেবে পরিচিত। এছাড়াও অনেকে এই বিলের ফোবল বিভিন্ন বাজারসহ এলাকায়ে বিক্রি করে। এছাড়া পদ্মের পাতা মুসলিমসহ হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে খাদ্যের প্লেট হিসেবে ব্যবহার করে।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।