চুয়াডাঙ্গা শনিবার , ৯ অক্টোবর ২০২১
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বিলুপ্তির পথে জাতীয় ফুল শাপলা

সমীকরণ প্রতিবেদন
অক্টোবর ৯, ২০২১ ৬:০৪ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

Girl in a jacket

চুয়াডাঙ্গা জেলার ৫টি নদীর ৪টিই মৃত, পানি নেই জলাশয়ে
আরিফ হাসান, হিজলগাড়ী:
চুয়াডাঙ্গায় পানির অভাবে দেশের জাতীয় ফুল শাপলা বিলুপ্তির পথে। জেলার পাঁচটি নদীর মধ্যে একটি বাদে সবগুলোই মৃতপ্রায়। তাছাড়া খাল-বিল, বাঁওড়, পুকুরসহ জলাশয়গুলোতেও তেমন পানি না থাকায় ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাচ্ছে প্রাকৃতিকভাবে জন্ম নেওয়া শাপলা ফুল। আধুনিক পদ্ধতিতে মাছ চাষ করার অজুহাতে বিল ও ছোট-বড় জলাশয় পরিস্কার করার নামে শাপলা ফুলেল মূল ধ্বংস করা হচ্ছে। এতে ব্যাপকভাবে কমে যাচ্ছে শাপলা ফুলের উৎপাদন।
বাংলাদেশের জাতীয় ফুলে শাপলার রয়েছে বিভিন্ন ভাষায় একাধিক নাম, যেমন- বাংলা নাম শাপলা ফুল, ইংরেজি নাম লিলি, মনিপুরী ভাষায় থরো, আংগৌরা, তামিল ভাষায় ভেলাম্বাল, সংস্কৃত ভাষায় কুমুডা, আসাম ভাষায় শাপলা ফুলকে নাল বলা হয়। শুধু বাংলাদেশ নয় শ্রীলংকায়ও জাতীয় ফুল এই শাপলা। শ্রীলংকায় শাপলাকে বলে নীল-মাহানেল। গ্রিক দার্শনিক প্লেটো ও এরিস্টটলের এক শিষ্য থিউফ্রাস্টাস বলেছেন, এটা একটি জলজ উদ্ভিদ, যা প্রায় ৩ শ খ্রিস্টপূর্ব পুরোনো।
চুয়াডাঙ্গাতে সাধারণত তিন প্রকার শাপলা ফুল দেখা যায়। সাদা, লাল ও বেগুনি রঙের। এর মধ্যে সাদা শাপলা হলো বাংলাদেশের জাতীয় ফুল। চুয়াডাঙ্গা জেলার নদ-নদী, খাল-বিল, ঝিল, হাওর-বাঁওড়, পুকুরসহ জলাশয়সমূহে দেখা যেত এই জলেভাসা শাপলা ফুল। চুয়াডাঙ্গা জেলার প্রধান নদী মাথাভাঙ্গাতেও এখন ভরা মৌসুমে আগের মতো পানি থাকে না। এছাড়া বাকি যে নদীগুলো আছে, তার সবগুলোই প্রায় মৃত। এর মধ্য চিত্রা, নবগঙ্গা নদীর উৎস মুখ শুকিয়ে গেছে। এছাড়া খাল-বিল, হাওর-বাঁওড়গুলোর অধিকাংশ ভূমিদস্যূদের দখলে চলে যাওয়ায় ক্রমশ হ্রাস পেয়ে যাওয়ায় এবং কৃষি জমিতে অধিক পরিমাণে কীটনাশক ও রাসায়নিক সার ব্যবহারের কারণে জাতীয় ফুল শাপলা বিলীন হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা জেলার সদর উপজেলার বেগমপুর ইউনিয়নের নলবিলা বিল, যদুপুর বিল, বেগমপুর বাওর, হিজলগাড়ীর কাজলা, দামুড়হুদার রায়সার বিলসহ প্রায় সব এলাকায় একসময় ব্যাপকভাবে শাপলা ফুল দেখা যেত। বর্তমানে বর্ষা মৌসুমে কিছু এলাকার বিল-ঝিলে লাল শাপলা দেখা গেলেও সাদা, হলুদ, নীল, বেগুনি শাপলা প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে।
হিজলগাড়ী গ্রামের বাসিন্দা ইসাহক আলী বলেন, কিছুদিন আগেও নলবিলা বিলে প্রচুর পরিমাণে শাপলা ফুল দেখা যেত। এছাড়াও এক সময় আমাদের এলাকার পুকুর খাল-বিল ও জলাশয়গুলোতে লাল, সাদা, বেগুনি ও বিরল প্রজাতির হলুদ শাপলা ফোঁটার কারণে চারদিকে নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক দৃশ্যে পরিণত হতো।
শাপলা ফুল ছোটদের খুব প্রিয়। শাপলার ভ্যাট বাঁচ্চাদের প্রিয় খাদ্য এবং গ্রামের লোকেরা ভ্যাট দিয়ে খই ভেজে মোয়াসহ বিভিন্ন প্রকার সুস্বাদু খাবার তৈরি করে। চুয়াডাঙ্গা জেলার গ্রাম-গঞ্জের মানুষের কাছে সবজি হিসেবেও খুব জনপ্রিয় এই শাপলা। অনেকে আবার শাপলা তুলে বাজারে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতো। এছাড়া লাল শাপলার অনেক ঔষধি গুণ রয়েছে। যেমন শাপলার মূল কাণ্ড খেলে আমাশয়ের মতো রোগ ভালো হয় বলে জানা যায়। সচেতন মহল মনে করেন, ‘আমাদের জাতীয় স্বার্থে শাপলা ফুলকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। এখনই এ ব্যাপারে উদ্যোগী না হলে এক সময় হারিয়ে যাবে গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্য ও জাতীয় ফুল শাপলা।

Girl in a jacket

Girl in a jacket

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।