বিপদের সহায় একমাত্র আল্লাহ

392

ধর্ম ডেস্ক: পৃথিবীর জন্মলগ্ন থেকেই চলছে সত্য-মিথ্যার চিরন্তন দ্বন্দ্ব, যা কখনো শেষ হওয়ার নয়। সৃষ্টির শুরু থেকেই এভাবে চলে আসছে পৃথিবীর ধারা। বর্তমানে নবীদের (আ.) আগমনের ধারা বন্ধ। তবে দুনিয়াবাসীর সামনে রয়েছে আল্লাহর প্রেরিত সর্বশেষ কিতাব ও জীবন বিধান কোরানুল কারিম। এর পরও থামেনি হক-বাতিলের দ্বন্দ্ব। ফলে ঘটনা পরম্পরায় অনেক মুমিন মাঝে-মধ্যে হতাশাগ্রস্ত হয়ে যান। তখন বিভিন্ন প্রতিকূলতা ও পরিস্থিতি মোকাবিলা করে সম্মুখে এগিয়ে যেতে তারা ভয় পান। এই ভয় আর হতাশা অবশ্য ঠিক নয়। কারণ কোরানের ভাষা অনুযায়ী মুমিন দুনিয়ার জীবনে সফল হতে ও পারে আবার নাও হতে পারে। একজন মুমিনের প্রকৃত সফলতা হচ্ছে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করে ও তার নির্দেশিত পথে এগিয়ে চলা। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘যে চেষ্টা-সাধনা করবে, সে তার ভালোর জন্যই করবে। নিশ্চয়ই গোটা সৃষ্টি জগতে কারো কাছে আল্লাহর কোনো ঠেকা নেই।’ -সূরা আনকাবুত: ৬ হজরত আদম (আ.) থেকে শুরু করে শেষ নবী হজরত মুহম্মদ (সা.) পর্যন্ত সব নবী-রাসুল (সা.) ও তার অনুসারীরা দ্বীনকে জীবন ব্যবস্থা হিসেবে গড়ে তোলার অক্লান্ত প্রয়াস চালিয়েছেন। ইমানদারের পথচলা যত কঠিনই হোক না কেন, আল্লাহর পথে তাকে কায়েম থাকতে হবে আমৃত্যু। ইমান আনার পর আর তার গন্তব্যে চলা ছাড়া অন্য কোনো পথ ও মত খোলা নেই। যারা এ পথে চলতে গিয়ে সাময়িক বিজয় পেয়ে উল্লসিত হয় অথবা বিপদের সম্মুখীন হয়ে হতবিহ্বল হয়, তাদের আল্লাহ তায়ালা নির্দেশ করেছেন এভাবে, ‘আল্লাহ যদি তোমাদের সাহায্য করেন, তাহলে কোনো শক্তি বিজয়ী হতে পারবে না। আর তিনি যদি ত্যাগ করেন, তাহলে তার পরে আর কে আছে, যে তোমাদের সাহায্য করতে পারে? কাজেই যারা সাচ্চা মুমিন, তাদের আল্লাহর ওপর ভরসা করা উচিত।’ -সূরা আল ইমরান: ১৬০ বর্তমান পৃথিবীর বাস্তবতায় বলা যায়, ইসলাম ও মুসলিম সমাজ আজ মহাসংকটাপন্ন অবস্থায়। তবে হতাশার কিছু নেই। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের পথ হলো সর্বদা সত্য পথে প্রতিষ্ঠিত থাকা। এ বিষয়ে আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহর ওপর ভরসা রাখুন, উকিল হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট।’ -সূরা আহজাব: ৩