চুয়াডাঙ্গা মঙ্গলবার , ১৯ জুন ২০১৮
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে হাজারও মানুষের ঢল : পথে পথে তারুণ্যের উচ্ছ্বাস

সমীকরণ প্রতিবেদন
জুন ১৯, ২০১৮ ৯:৪৯ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

প্রখর রোদ্র দাহে উত্তপ্ত আবহাওয়ায় ছেদ পড়েনি চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুরবাসীর চিত্তবিনোদনে
এসএম শাফায়েত: কখনো ঝাঁঝালো রোদ, কখনো মেঘের লুকোচুরি। মেঘ ও রোদের তীব্রতায় খুব একটা ছেদ পড়েনি চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুরবাসীর চিত্তবিনোদনে। কচি-কাঁচাদের হৈ হুল্লোড়ে মুখর ছিল চুয়াডাঙ্গার পুলিশ পার্ক, শিশু পার্ক, ডিসি ইকো পার্ক ও মেহেরপুরের ঐতিহাসিক মুজিবনগরসহ সবগুলো বিনোদনকেন্দ্র। পথে পথে ছিল তারুণ্যের উচ্ছ্বাস। ঈদুল ফিতরের ছুটিতে গোটা রাজধানী ফাঁকা করে যেন চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুরে ভিড় করেছেন উৎসব প্রিয় মানুষগুলো। ঈদের আনন্দ আরেকটু বাড়াতে সব বয়সী মানুষই যাচ্ছেন বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্রে। গত তিনদনই চুয়াডাঙ্গার পার্ক ও বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে ঢল নামে নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরের। যদিও জেলায় পার্ক ও বিনোদন কেন্দ্রের সংখ্যা হাতে গোনা, তবুও সেখানে গিয়ে আনন্দের সাথে তৃপ্তির ঢেঁকুর তোলেন তারা। ঈদের দিন দুপুর গড়িয়ে বিকেল হতে না হতেই মানুষের ঢল নামে পার্ক ও বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে। গতকাল বুধবারও চুয়াডাঙ্গা শহরের পুলিশ পার্ক, শিশুস্বর্গ পার্ক, বিএডিসি ফার্ম, দামুড়হুদার মেহেরুন পার্ক, ডিসি ইকোপার্কসহ বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্রে মানুষের ভিড় ছিলো চোখে পড়ার মতো। এছাড়া জেলার বিভিন্ন নিরিবিলি এলাকায় মনোরম পরিবেশে সময় পার করেন অনেকেই। তবে তীব্র রোদে সকলেই ছায়াঢাকা একটু মাথা গোঁজার ঠাই খুজেছেন।
মোটরসাইকেল, মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার, আলমসাধু, নসিমন-করিমনযোগে বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্রে গিয়ে পরিবার, বন্ধু-বান্ধব ও স্বজন্দের সাথে সময় আনন্দময় মুহুর্ত অতিবাহিত করেন।
ঈদের তৃতীয় দিন অর্থ্যাৎ গতকাল সোমবার জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে আগত দর্শনার্থী ও মানুষের ঢল নেমেছিল চুয়াডাঙ্গার পুলিশ পার্কে। নারী-পুরুষ, কিশোর-কিশোরি ও শিশুসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষই আনন্দে মেতে ওঠেন সেখানে। শিশুরা মেতে ওঠে বাধ ভাঙা উচ্ছ্বাসে। তারা দোলনা, সিøপার, ট্রেনসহ বিভিন্ন রাইডে চড়ে ঈদ আনন্দ উপভোগ করছে। কিশোর-কিশোরি, যুবক-যুবতিসহ প্রায় সকলেই ব্যস্ত ছিলো ভিন্ন ভঙ্গিতে ছবি উঠতে। পুলিশ পার্কের দেয়ালে আঁকা চুয়াডাঙ্গা জেলার বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থাপনার চিত্র ও তথ্য শিশু সন্তানের কাছে তুলে ধরছেন অনেক অভিভাবকরা।
পার্কে আসা শিশুরা জানায়, প্রতিদিন স্কুল-কোচিং শেষে বাড়িতে পড়াশোনার মধ্যেই থাকতে হয়। আব্বু-আম্মু ব্যস্ত থাকায় তাদের বললেও কোথাও নিয়ে যায় না। ঈদে সবার ছুটি থাকায় পার্কে বেড়াতে এসেছি। আমার খুব ভালো লাগছে। অভিভাবকরা জানান, কর্মব্যস্ত জীবনে শিশুসন্তাদের নিয়ে কোথাও বের হওয়ার ইচ্ছে থাকলেও হয়ে ওঠেনা। ছুটি পেলেও বিনোদন কেন্দ্রের অভাবে ছেলেমেয়েকে নিয়ে কোথাও যাওয়া হয়না। ছেলেমেয়ের আবদারে এখানে আসতে হয়েছে।
এদিকে, প্রতি বছরের ন্যায় এবারেও ঈদ বিনোদনের জন্য ঘুরতে আসা হাজারও দর্শনার্থীদের ঢল নেমেছে ঐতিহাসিক মুজিবনগরের বিশাল আ¤্রকাননে। সেখানেও কঠিন রোদ আর তপ্ত আবহাওয়ায় বাঁধা হতে পারেনি মানুষের ঘোরাঘুরিতে। পরিবার পরিজন নিয়ে ঈদ বিনোদনের জন্য দর্শনার্থীরা ঘুরতে আসে ঐতিহাসিক মুজিবনগর। ঈদোত্তর বিনোদনের জন্য মেহেরপুর জেলাসহ পার্শ্ববর্তী চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহসহ বিভিন্ন জেলা থেকে নারী-পুরুষ ও শিশু-কিশোরদের ভিড় জমছে মুজিবনগরে কমপ্লেক্সে। এজন্য সড়কগুলোতে মানুষ ও পরিবহনের ভিড়ে দীর্ঘ যানজট হলে পুলিশ প্রশাসনের সহযোগীতায় সুষ্ঠু ভাবে যাওয়া-আশা করছে দর্শনার্থীরা। এক্ষেত্রে পুলিশি নজরদারী থাকায় সড়ক দূর্ঘটনা কমেছে। স্বাধীনতার সুতিকাগার প্রথম রাজধানী মেহেরপুরের ঐতিহাসিক মুজিবনগর কমপ্লেক্সের নকশা অনুযায়ী পুরো কাজ এখনও শেষ না হলেও বিনোদন পিয়াসীদের অন্যতম আকর্ষনের জায়গা কমপ্লেক্সটি। এ ঈদে ভ্রমন পিয়াসী মানুষের ভিড়ে মুখরিত মুজিবনগর কমপ্লেক্স। কমপ্লেক্সে মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর ভিত্তিক বাংলাদেশের মানচিত্র, স্মৃতিসৌধ, আ¤্রকানন, মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক বিভিন্ন মুর‌্যাল, সরকারি শিশু পরিবার, শাপলা চত্ত্বরসহ বিভিন্ন স্থাপনা ঘুরে ঘুরে দেখছেন দর্শনার্থীরা। দর্শনার্থী বেনু খাতুন জানান, ঈদের ছুটির এক দিনের জন্য স্ব-পরিবারে ঘুরেতে এসে ভিন্ন ধরনের আনন্দ পাচ্ছি। সন্তানদের বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সেক্টর ভিত্তিক মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানাতে খুব ভালো লাগছে। তবে কমপ্লেক্সেটি নকশা অনুযায়ী পরিপূর্ণতা পেলে পর্যটকের সংখ্যা আরো বাড়তো বলে তিনি মনে করেন। এছাড়া মুজিবনগরের নৈসর্গিক সৌন্দর্য আরো বৃদ্ধি করা দরকার। সব মিলিয়ে ঈদ বিনোদন বেশ জমে উঠেছে এ বছর।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।